বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে স্বাগতিক কানাডা। এই জয়ে শীর্ষে থেকেই শেষ ৩২–এ পা রাখলো সুইসরা। অন্যদিকে, ম্যাচ হারলেও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে কানাডা। গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে শেষ ৩২–এ জায়গা করে নিয়েছে কানাডা। এতে নকআউট পর্বে নিজেদের মাঠে খেলার যে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার আশা ছিল, সেটি আর পাচ্ছেন না বিশ্বকাপের আয়োজকরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কানাডা। স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থনে কানাডাই প্রথমার্ধে বেশি সুযোগ তৈরি করেছিল, তবে ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল পায়নি তারা। সুইজারল্যান্ডও পাল্টা জবাব দিলেও কানাডার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দক্ষতায় প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর ৬০ সেকেন্ডের কম সময়ের মধ্যে রুবেন ভারগাসের দারুণ গোলে লিড নেয় সুইজারল্যান্ড। এই গোলটি যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ৫৭ মিনিটে ইয়োহান মানজাম্বির গোলে সুইজারল্যান্ড ব্যবধান দ্বিগুণ করে ২-০ তে পৌঁছে যায়। ম্যাচ থেকে ছিটকে না গিয়ে কানাডা লড়াই চালিয়ে যায়। শেষ দিকে ৭৬ মিনিটে নাথান সালিবার পাস থেকে প্রমিজ ডেভিড গোল করে ব্যবধান কমান। কিন্তু সমতায় ফেরার মতো আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কানাডা। শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের জয় নিশ্চিত হয়।
এই জয়ের ফলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে পা রাখল সুইজারল্যান্ড। দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত হেরে যাওয়ায় স্বাগতিক কানাডাকে রানার্সআপ হয়েই নকআউট পর্ব শুরু করতে হবে। গ্রুপসেরা হওয়ার ফলে নকআউট পর্বে সুইসরা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেই যাত্রা শুরু করবে। ম্যাচ শেষে সুইজারল্যান্ডের কোচ বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আমরা দুর্দান্ত শুরু করি। কানাডা ভালো লড়াই করেছে, কিন্তু আমরা আমাদের পরিকল্পনা মেনে খেলেছি। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।’ অন্যদিকে কানাডার কোচ বলেন, ‘আমরা ম্যাচ হেরেছি, কিন্তু নকআউটে ওঠা আমাদের জন্য ঐতিহাসিক অর্জন। দল লড়াই করেছে, শেষ পর্যন্ত জয় পাইনি। তবে আমরা গর্বিত।’ কানাডার সমর্থকরা ম্যাচ শেষেও দলকে উৎসাহ দিতে থাকেন। তারা দলের নকআউট যাত্রাকে স্বাগত জানান এবং সামনের ম্যাচে আরও ভালো পারফরম্যান্স আশা করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কানাডার এই সাফল্য ব্যাপকভাবে উদযাপিত হচ্ছে। ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, কানাডার এই অর্জন দেশটির ফুটবলের জন্য মাইলফলক। তারা আগামী দিনে আরও ভালো করবে বলে আশা করা যায়। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা ও শৃঙ্খলা তাদের নকআউটে বাড়তি সুবিধা দেবে। এখন দেখার বিষয়, নকআউট পর্বে এই দুই দল কতদূর এগোতে পারে। ফুটবল বিশ্ব এই দুই দলের পারফরম্যান্সের প্রতি নজর রাখবে।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন