ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ নিহত, মৃতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়াল

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ নিহত, মৃতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়াল

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আট ফিলিস্তিনি নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জনে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩ জন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪০৬ জন। এছাড়া গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চল পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন বা ৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের প্রয়োজন।

গাজায় হামলায় নিহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা ইসরায়েলকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু ইসরায়েল তাদের অবস্থানে অনড়। তারা বলছে, হামাসের হুমকি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা হামলা চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে, হামাস বলছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনেছে, কিন্তু ইসরায়েল তা লঙ্ঘন করছে। গাজার বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সেখানকার মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। খাবার, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার পুনর্গঠনে ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, কিন্তু তা কখনো সম্ভব হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও মানবিক সহায়তা বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বিবেচনা করছে। তারা বলছে, ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করছে এবং এর জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। তারা বলেছে, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। এই অবস্থায় গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় গাজায় আরও প্রাণহানি ঘটবে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু মানবাধিকার সংস্থা গাজায় ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু ইসরায়েলের অবরোধের কারণে তা পর্যাপ্ত নয়। গাজার মানুষ এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তারা শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করছে। তবে বাস্তবতা হলো, গাজার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। যুদ্ধ শেষ হতে আরও সময় লাগতে পারে। আপাতত গাজার মানুষ প্রতিদিনের টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু সেই সাহায্য আসছে খুব ধীরে। আগামী দিনগুলোতে গাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এই সংকট মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অন্যথায় গাজার মানুষ আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ নিহত, মৃতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়াল

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আট ফিলিস্তিনি নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জনে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩ জন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪০৬ জন। এছাড়া গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চল পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন বা ৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের প্রয়োজন।গাজায় হামলায় নিহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা ইসরায়েলকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু ইসরায়েল তাদের অবস্থানে অনড়। তারা বলছে, হামাসের হুমকি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা হামলা চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে, হামাস বলছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনেছে, কিন্তু ইসরায়েল তা লঙ্ঘন করছে। গাজার বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় সেখানকার মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। খাবার, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার পুনর্গঠনে ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, কিন্তু তা কখনো সম্ভব হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও মানবিক সহায়তা বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বিবেচনা করছে। তারা বলছে, ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধ করছে এবং এর জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে। তারা বলেছে, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। এই অবস্থায় গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় গাজায় আরও প্রাণহানি ঘটবে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু মানবাধিকার সংস্থা গাজায় ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু ইসরায়েলের অবরোধের কারণে তা পর্যাপ্ত নয়। গাজার মানুষ এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তারা শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করছে। তবে বাস্তবতা হলো, গাজার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। যুদ্ধ শেষ হতে আরও সময় লাগতে পারে। আপাতত গাজার মানুষ প্রতিদিনের টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু সেই সাহায্য আসছে খুব ধীরে। আগামী দিনগুলোতে গাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এই সংকট মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অন্যথায় গাজার মানুষ আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা