ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

জমি বিরোধের জেরে ভাই-বোনের হাতে খুন, পাঁচজন গ্রেপ্তার

জমি বিরোধের জেরে ভাই-বোনের হাতে খুন, পাঁচজন গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আব্দুল মতিন (৫৮) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে তাঁর আপন ভাই ও বোনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নিহতের আপন ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), বোন আয়শা আক্তার রত্না (৩৭), আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০), আব্দুল আজিদ (৪৩) এবং আব্দুল রউফ (৫৬)।

পুলিশ জানায়, আব্দুল মতিনের সঙ্গে তাঁর ভাই ও বোনদের দীর্ঘ দিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলছিল। গত ২৮ জুন (রবিবার) সকালে তিনি আদালতে একটি মামলার সাক্ষ্য দিতে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় ওঁৎ পেতে থাকা অভিযুক্তরা তাঁকে অনুসরণ করেন এবং একপর্যায়ে একটি গাড়িতে তুলে নেন। পরে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করে মরদেহ সুন্দর মিয়ার পুকুর সংলগ্ন রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় আব্দুল মতিন বাড়ি না ফেরায় তাঁর স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির অদূরে স্বামীর হাত-পা বাঁধা ও গলায় শার্ট পেঁচানো মরদেহ দেখতে পান তিনি। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে রাত পৌনে ১২টায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) নোবেল চাকমা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার একটি বিশেষ টিম এ ঘটনার তদন্তে নামে। মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং অন্য জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আব্দুল মতিনের সঙ্গে তাঁর ভাই আব্দুল মজিদের জমিজমা ও বাড়ি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি জমি বণ্টনের কাজ চলছিল। ওই দিন আদালতের সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার সময়ই তাঁকে হত্যা করা হয়। নিহতের স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা বলেন, ‘আমার স্বামী আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আর ফিরে এলেন না। পরে আমরা তাঁর মরদেহ দেখতে পাই। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তাঁর ভাই ও বোনেরাই দায়ী।’ এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, পারিবারিক বিরোধ সমাধানে আইনি প্রক্রিয়া থাকলেও কেউ কেউ সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনবে। গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ আশা করছে, জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, পারিবারিক বিরোধ কখনও কখনও মর্মান্তিক রূপ নিতে পারে। আইনজীবীরা বলছেন, জমি বা পারিবারিক বিরোধ সমাধানে সব সময় আইনি পথ অবলম্বন করা উচিত। নিজের হাতে বিচার বা সহিংসতা কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং তা আরও জটিলতা সৃষ্টি করে। পুলিশ প্রশাসন এ ধরনের ঘটনা রোধে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। মৌলভীবাজারের এই ঘটনা সবার জন্য একটি শিক্ষা। আগামী দিনে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনি প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬


জমি বিরোধের জেরে ভাই-বোনের হাতে খুন, পাঁচজন গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image
মৌলভীবাজারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আব্দুল মতিন (৫৮) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে তাঁর আপন ভাই ও বোনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নিহতের আপন ভাই আব্দুল মজিদ (৫০), বোন আয়শা আক্তার রত্না (৩৭), আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি বেগম (৪০), আব্দুল আজিদ (৪৩) এবং আব্দুল রউফ (৫৬)।পুলিশ জানায়, আব্দুল মতিনের সঙ্গে তাঁর ভাই ও বোনদের দীর্ঘ দিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলছিল। গত ২৮ জুন (রবিবার) সকালে তিনি আদালতে একটি মামলার সাক্ষ্য দিতে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় ওঁৎ পেতে থাকা অভিযুক্তরা তাঁকে অনুসরণ করেন এবং একপর্যায়ে একটি গাড়িতে তুলে নেন। পরে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করে মরদেহ সুন্দর মিয়ার পুকুর সংলগ্ন রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় আব্দুল মতিন বাড়ি না ফেরায় তাঁর স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির অদূরে স্বামীর হাত-পা বাঁধা ও গলায় শার্ট পেঁচানো মরদেহ দেখতে পান তিনি। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে রাত পৌনে ১২টায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) নোবেল চাকমা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার একটি বিশেষ টিম এ ঘটনার তদন্তে নামে। মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং অন্য জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আব্দুল মতিনের সঙ্গে তাঁর ভাই আব্দুল মজিদের জমিজমা ও বাড়ি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে সম্প্রতি জমি বণ্টনের কাজ চলছিল। ওই দিন আদালতের সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার সময়ই তাঁকে হত্যা করা হয়। নিহতের স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা বলেন, ‘আমার স্বামী আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আর ফিরে এলেন না। পরে আমরা তাঁর মরদেহ দেখতে পাই। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তাঁর ভাই ও বোনেরাই দায়ী।’ এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, পারিবারিক বিরোধ সমাধানে আইনি প্রক্রিয়া থাকলেও কেউ কেউ সহিংসতার পথ বেছে নিচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনবে। গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ আশা করছে, জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, পারিবারিক বিরোধ কখনও কখনও মর্মান্তিক রূপ নিতে পারে। আইনজীবীরা বলছেন, জমি বা পারিবারিক বিরোধ সমাধানে সব সময় আইনি পথ অবলম্বন করা উচিত। নিজের হাতে বিচার বা সহিংসতা কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং তা আরও জটিলতা সৃষ্টি করে। পুলিশ প্রশাসন এ ধরনের ঘটনা রোধে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। মৌলভীবাজারের এই ঘটনা সবার জন্য একটি শিক্ষা। আগামী দিনে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনি প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিতে হবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা