ঢাকা    শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

ফরিদপুরের সদরপুরে কালেমা পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল

ফরিদপুরের সদরপুরে কালেমা পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় কালেমা খচিত সাদা পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এ আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইসলামী চেতনা আরও উজ্জীবিত হবে। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে সদরপুর সর্বস্তরের মুসলিম জনতার ব্যানারে উপজেলা সদরের বিশ্বজাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি সদর বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে বিভিন্ন বয়সী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন। তাদের হাতে কালেমা খচিত সাদা পতাকা ও বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগান সংবলিত ব্যানার দেখা যায়।

সভায় উপজেলা পরিষদের পেশ ইমাম মাওলানা আমির হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় কালেমার পতাকা অবমাননা হয়েছে। কোনো ভাবেই এই পতাকার অবমাননা বরদাস্ত করা হবে না। কর্মসূচির আয়োজক মুফতি মোহাম্মদ জাকির হুসাইন ফরিদী বলেন, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। মানুষের মধ্যে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও কালেমার গুরুত্ব তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আরও উজ্জীবিত করবে। তিনি আরও বলেন, ইসলামের পতাকা আমাদের কাছে অত্যন্ত সম্মানের। এর অবমাননা কখনো সহ্য করা হবে না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ধর্মীয় অধিকার ও বিশ্বাস প্রকাশ করতে চাই।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা বলেন, ‘কালেমা আমাদের গৌরব’, ‘ইসলাম জিন্দাবাদ’, ‘আল্লাহু আকবার’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা এই মিছিলকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস প্রকাশের এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বাড়ায়। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এ ধরনের মিছিলে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে কিনা। আয়োজকরা অবশ্য তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্যোগ। পুলিশ প্রশাসনও মিছিলটিকে শান্তিপূর্ণ বলেছে। তারা জানিয়েছেন, মিছিলটি কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে। সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং কোনো সমস্যা হয়নি। আয়োজকরা আমাদের পূর্বে অবহিত করেছিলেন, তাই আমরা প্রস্তুত ছিলাম। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মিছিলের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ এটিকে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে আয়োজকরা বলেছেন, তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করতে চান, কোনো বিভাজন নয়। সদরপুরের এই মিছিল দেশের অন্যান্য এলাকায়ও এ ধরনের কর্মসূচির অনুপ্রেরণা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলে তা সমাজের জন্য মঙ্গলজনক হবে। ইসলামি পতাকা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনগুলোতে আরও এ ধরনের কর্মসূচি আসতে পারে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতে আরও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেবেন। সাধারণ মানুষও ধর্মীয় বিশ্বাস রক্ষায় একযোগে কাজ করবেন বলে আশা করছেন তারা। ফরিদপুরের এই ঘটনা দেশের অন্য এলাকায়ও আলোচনা সৃষ্টি করবে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা। সব মিলিয়ে সদরপুরের এই কালেমা পতাকা মিছিল ছিল শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় আবেগময়। এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে প্রশাসনেরও সতর্ক দৃষ্টি থাকবে ভবিষ্যতে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬


ফরিদপুরের সদরপুরে কালেমা পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬

featured Image
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় কালেমা খচিত সাদা পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এ আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইসলামী চেতনা আরও উজ্জীবিত হবে। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে সদরপুর সর্বস্তরের মুসলিম জনতার ব্যানারে উপজেলা সদরের বিশ্বজাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি সদর বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে বিভিন্ন বয়সী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন। তাদের হাতে কালেমা খচিত সাদা পতাকা ও বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগান সংবলিত ব্যানার দেখা যায়।সভায় উপজেলা পরিষদের পেশ ইমাম মাওলানা আমির হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় কালেমার পতাকা অবমাননা হয়েছে। কোনো ভাবেই এই পতাকার অবমাননা বরদাস্ত করা হবে না। কর্মসূচির আয়োজক মুফতি মোহাম্মদ জাকির হুসাইন ফরিদী বলেন, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। মানুষের মধ্যে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও কালেমার গুরুত্ব তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আরও উজ্জীবিত করবে। তিনি আরও বলেন, ইসলামের পতাকা আমাদের কাছে অত্যন্ত সম্মানের। এর অবমাননা কখনো সহ্য করা হবে না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ধর্মীয় অধিকার ও বিশ্বাস প্রকাশ করতে চাই।মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা বলেন, ‘কালেমা আমাদের গৌরব’, ‘ইসলাম জিন্দাবাদ’, ‘আল্লাহু আকবার’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা এই মিছিলকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস প্রকাশের এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বাড়ায়। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এ ধরনের মিছিলে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে কিনা। আয়োজকরা অবশ্য তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তারা বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক উদ্যোগ। পুলিশ প্রশাসনও মিছিলটিকে শান্তিপূর্ণ বলেছে। তারা জানিয়েছেন, মিছিলটি কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে। সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং কোনো সমস্যা হয়নি। আয়োজকরা আমাদের পূর্বে অবহিত করেছিলেন, তাই আমরা প্রস্তুত ছিলাম। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের জন্য আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মিছিলের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ এটিকে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে আয়োজকরা বলেছেন, তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করতে চান, কোনো বিভাজন নয়। সদরপুরের এই মিছিল দেশের অন্যান্য এলাকায়ও এ ধরনের কর্মসূচির অনুপ্রেরণা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলে তা সমাজের জন্য মঙ্গলজনক হবে। ইসলামি পতাকা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনগুলোতে আরও এ ধরনের কর্মসূচি আসতে পারে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতে আরও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেবেন। সাধারণ মানুষও ধর্মীয় বিশ্বাস রক্ষায় একযোগে কাজ করবেন বলে আশা করছেন তারা। ফরিদপুরের এই ঘটনা দেশের অন্য এলাকায়ও আলোচনা সৃষ্টি করবে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা। সব মিলিয়ে সদরপুরের এই কালেমা পতাকা মিছিল ছিল শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় আবেগময়। এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে প্রশাসনেরও সতর্ক দৃষ্টি থাকবে ভবিষ্যতে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা সম্ভব।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা