ঢাকা    শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল মিশর

টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল মিশর

নির্ধারিত ৯০ মিনিট ১–১ সমতায় শেষ করে মিশর–অস্ট্রেলিয়া। তাই ফল নির্ধারণে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। সেখানেও সমতায় শেষ করে দু'দল। এরপর টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে মিশর। ম্যাচের ১৩ মিনিটের মাথায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গোলের দেখা পায় মিশর। গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন ইমান আশুর। ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক পরিকল্পিত আক্রমণ সাজায় মিশর। মোহাম্মদ সালাহ সরাসরি শট না নিয়ে ছোট পাস দেন ইমান আশুরকে। আশুরের প্রথম শটটি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে। তবে বলটি বিপদমুক্ত করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। আবারও বল ভেসে আসে বক্সে, নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান আশুর। এতেই লিড পায় মিশর। এরপর গোল শোধে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। তবে গোলের দেখা পায়নি তারা। এতে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে।

বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে মোহাম্মদ হানির করা আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরে অস্ট্রেলিয়া। ফ্রি–কিক থেকে উড়ে আসা বলটিকে ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন হানি। কিন্তু ঠিকঠাক সংযোগে ব্যর্থ হওয়ায় বল জড়ায় নিজেদের জালে। এরপর আর কোনো গোল না হলে ১-১ সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। অতিরিক্ত সময়েও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। ফলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে প্রথম শট নিতে আসেন অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি শুটার। তবে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন তিনি। মাহমুদ সাবের প্রথম শট নিতে এসে মিশরকে এগিয়ে দেন। তবে দ্বিতীয় শটে গোল করে কিছুটা অস্ট্রেলিয়াকে স্বস্তি এনে দেন জ্যাকসন আরবিন। অন্যদিকে, মিশর তাদের দ্বিতীয় শটেও গোল পায়। এবার আর ভুল হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। তৃতীয় শটে আওয়ার মাবিল গোল করে বসেন। মিশরের তৃতীয় শট ঠিকঠাক হলেও চতুর্থ শট নিতে এসে আরেকবার অস্ট্রেলিয়াকে বেকায়দায় ফেলেন হেরিংটন। তাতে চতুর্থ শট নিতে এসে আবদেল মাগিদের বল জালে জড়ালে বিজয়ের উৎসব শুরু হয় মিশরের।

ম্যাচ শেষে মিশর কোচ বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং টাইব্রেকারে ঠান্ডা মাথায় খেলেছি।’ অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া কোচ বলেন, ‘টাইব্রেকার সবসময়ই কঠিন। আমরা হতাশ, কিন্তু দল লড়াই করেছে।’ ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন ইমান আশুর, যিনি গোল করেছেন এবং পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন। মিশরের এই জয় তাদের ফুটবল ইতিহাসে একটি মাইলফলক। তারা আগে কখনো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলেনি। এবার তারা শেষ ষোলোয় উঠে ইতিহাস গড়ল। তাদের সমর্থকরা মাঠে উল্লাস করছে এবং এই সাফল্য উদযাপন করছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া হতাশ, কিন্তু তারা ভালো লড়াই করেছে। মিশর এখন শেষ ষোলোতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে। তারা যদি এই ফর্ম ধরে রাখতে পারে, তবে আরও এগিয়ে যেতে পারে। এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং তারা স্বপ্ন দেখতে পারে। ফুটবল বিশ্ব এই অপ্রত্যাশিত সাফল্যকে স্বাগত জানিয়েছে। মিশরের এই সাফল্য প্রমাণ করে, আফ্রিকান ফুটবল বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে পারে। এখন সবাই মিশরের পরবর্তী ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা কি আরও চমক দিতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর মাঠেই মিলবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মিশরের শেষ ষোলোর প্রতিপক্ষ ও ম্যাচের সময়সূচি নির্ধারিত হবে। ফুটবলপ্রেমীরা মিশরের পারফরম্যান্স উপভোগ করছেন এবং তাদের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। এই জয় মিশরের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আগামী দিনগুলোতে এই সাফল্য আরও বেশি আলোচিত হবে। মিশরীয়রা তাদের দলকে নিয়ে গর্বিত এবং তারা স্বপ্ন দেখছে আরও বড় কিছু করার। এই জয় তাদের দেশের জন্য একটি বিশাল অর্জন। ফুটবলই পারে একটি জাতিকে এক করতে এবং তাদের স্বপ্ন দেখাতে। মিশরের এই সাফল্য তারই উদাহরণ। এখন সময় বলবে, তারা কতদূর এগোতে পারে। তবে এই মুহূর্তে তারা তাদের সাফল্য উপভোগ করছে এবং আগামী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফুটবল বিশ্ব এই দলের প্রতি নজর রাখবে। মিশরের ভক্তরা আশা করছেন, তাদের দল আরও ইতিহাস গড়বে। এই জয় তাদের জন্য একটি নতুন শুরু। তারা প্রমাণ করেছে, স্বপ্ন দেখার কিছু নেই। পরিশ্রম আর মনোযোগ দিয়ে যে কোনো কিছু সম্ভব। মিশরীয় ফুটবলের এই যাত্রা সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। এখন অপেক্ষা পরবর্তী ম্যাচের। সেখানে তারা কী করে, সেটাই দেখার বিষয়। তবে এই মুহূর্তে তারা তাদের বিজয় উদযাপন করছে। মিশর জয়ী হয়েছে, এবং এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬


টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল মিশর

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image
নির্ধারিত ৯০ মিনিট ১–১ সমতায় শেষ করে মিশর–অস্ট্রেলিয়া। তাই ফল নির্ধারণে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। সেখানেও সমতায় শেষ করে দু'দল। এরপর টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে মিশর। ম্যাচের ১৩ মিনিটের মাথায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গোলের দেখা পায় মিশর। গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন ইমান আশুর। ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক পরিকল্পিত আক্রমণ সাজায় মিশর। মোহাম্মদ সালাহ সরাসরি শট না নিয়ে ছোট পাস দেন ইমান আশুরকে। আশুরের প্রথম শটটি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে। তবে বলটি বিপদমুক্ত করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। আবারও বল ভেসে আসে বক্সে, নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান আশুর। এতেই লিড পায় মিশর। এরপর গোল শোধে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। তবে গোলের দেখা পায়নি তারা। এতে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় অস্ট্রেলিয়াকে।বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে মোহাম্মদ হানির করা আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফিরে অস্ট্রেলিয়া। ফ্রি–কিক থেকে উড়ে আসা বলটিকে ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন হানি। কিন্তু ঠিকঠাক সংযোগে ব্যর্থ হওয়ায় বল জড়ায় নিজেদের জালে। এরপর আর কোনো গোল না হলে ১-১ সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। অতিরিক্ত সময়েও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। ফলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।টাইব্রেকারে প্রথম শট নিতে আসেন অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি শুটার। তবে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন তিনি। মাহমুদ সাবের প্রথম শট নিতে এসে মিশরকে এগিয়ে দেন। তবে দ্বিতীয় শটে গোল করে কিছুটা অস্ট্রেলিয়াকে স্বস্তি এনে দেন জ্যাকসন আরবিন। অন্যদিকে, মিশর তাদের দ্বিতীয় শটেও গোল পায়। এবার আর ভুল হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। তৃতীয় শটে আওয়ার মাবিল গোল করে বসেন। মিশরের তৃতীয় শট ঠিকঠাক হলেও চতুর্থ শট নিতে এসে আরেকবার অস্ট্রেলিয়াকে বেকায়দায় ফেলেন হেরিংটন। তাতে চতুর্থ শট নিতে এসে আবদেল মাগিদের বল জালে জড়ালে বিজয়ের উৎসব শুরু হয় মিশরের।ম্যাচ শেষে মিশর কোচ বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং টাইব্রেকারে ঠান্ডা মাথায় খেলেছি।’ অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া কোচ বলেন, ‘টাইব্রেকার সবসময়ই কঠিন। আমরা হতাশ, কিন্তু দল লড়াই করেছে।’ ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন ইমান আশুর, যিনি গোল করেছেন এবং পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন। মিশরের এই জয় তাদের ফুটবল ইতিহাসে একটি মাইলফলক। তারা আগে কখনো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলেনি। এবার তারা শেষ ষোলোয় উঠে ইতিহাস গড়ল। তাদের সমর্থকরা মাঠে উল্লাস করছে এবং এই সাফল্য উদযাপন করছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া হতাশ, কিন্তু তারা ভালো লড়াই করেছে। মিশর এখন শেষ ষোলোতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে। তারা যদি এই ফর্ম ধরে রাখতে পারে, তবে আরও এগিয়ে যেতে পারে। এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং তারা স্বপ্ন দেখতে পারে। ফুটবল বিশ্ব এই অপ্রত্যাশিত সাফল্যকে স্বাগত জানিয়েছে। মিশরের এই সাফল্য প্রমাণ করে, আফ্রিকান ফুটবল বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে পারে। এখন সবাই মিশরের পরবর্তী ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা কি আরও চমক দিতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর মাঠেই মিলবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মিশরের শেষ ষোলোর প্রতিপক্ষ ও ম্যাচের সময়সূচি নির্ধারিত হবে। ফুটবলপ্রেমীরা মিশরের পারফরম্যান্স উপভোগ করছেন এবং তাদের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। এই জয় মিশরের ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আগামী দিনগুলোতে এই সাফল্য আরও বেশি আলোচিত হবে। মিশরীয়রা তাদের দলকে নিয়ে গর্বিত এবং তারা স্বপ্ন দেখছে আরও বড় কিছু করার। এই জয় তাদের দেশের জন্য একটি বিশাল অর্জন। ফুটবলই পারে একটি জাতিকে এক করতে এবং তাদের স্বপ্ন দেখাতে। মিশরের এই সাফল্য তারই উদাহরণ। এখন সময় বলবে, তারা কতদূর এগোতে পারে। তবে এই মুহূর্তে তারা তাদের সাফল্য উপভোগ করছে এবং আগামী চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফুটবল বিশ্ব এই দলের প্রতি নজর রাখবে। মিশরের ভক্তরা আশা করছেন, তাদের দল আরও ইতিহাস গড়বে। এই জয় তাদের জন্য একটি নতুন শুরু। তারা প্রমাণ করেছে, স্বপ্ন দেখার কিছু নেই। পরিশ্রম আর মনোযোগ দিয়ে যে কোনো কিছু সম্ভব। মিশরীয় ফুটবলের এই যাত্রা সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। এখন অপেক্ষা পরবর্তী ম্যাচের। সেখানে তারা কী করে, সেটাই দেখার বিষয়। তবে এই মুহূর্তে তারা তাদের বিজয় উদযাপন করছে। মিশর জয়ী হয়েছে, এবং এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা