ঢাকা    সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

পল্লী উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার অব্যাহত: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

পল্লী উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার অব্যাহত: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক পল্লী উন্নয়ন দিবস ও সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘পল্লী উন্নয়ন এই সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রামীণ এলাকার টেকসই উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি সহযোগিতা, কৃষি সেচ এবং কৃষি কার্ডের মতো যুগান্তকারী উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ নানা ধরনের কার্ডের মাধ্যমে দেশের সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করছে সরকার। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সিরডাপের ভূমিকার প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত ৫ যুগ ধরে সিরডাপ পল্লী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সংস্থাটির অবদান অনস্বীকার্য।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হলে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। তাই সরকার কৃষি খাতের পাশাপাশি পল্লী অঞ্চলে ছোট ও মাঝারি শিল্প, হস্তশিল্প এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগকে উৎসাহিত করছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে গ্রামীণ যুবক-যুবতীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ চলছে। সিরডাপের মহাপরিচালক তার বক্তব্যে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে সিরডাপ আরও বেশি করে গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করবে। পাশাপাশি কৃষি প্রযুক্তি ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে পল্লী উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিরডাপের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পল্লী উন্নয়ন শুধু সরকারের একার কাজ নয়, এতে জনগণেরও অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ মানুষ যেন তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং সরকারি সেবা সহজে পায়, সেজন্য প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করতে হবে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর এই বক্তব্য পল্লী উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ব্যতীত দেশের পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন সম্ভব নয়। সিরডাপের ৪৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কারণ এটি প্রমাণ করে যে পল্লী উন্নয়ন এখনও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতে আরও বেশি কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণকে আর্থ-সামাজিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা যায়। সব মিলিয়ে, পল্লী উন্নয়নে সরকারের এই অঙ্গীকার দেশের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন সময় এসেছে, এসব উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণ যেন এর সুফল পায়। সেজন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ—সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তবেই একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এই লক্ষ্য পূরণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। পল্লী উন্নয়নে সিরডাপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরও বেশি মানুষকে উপকৃত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে পল্লী উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা যায়। সরকারের এই অঙ্গীকার ও পরিকল্পনা সফল হলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। এটি একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা, যা আগামী দিনে দেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সব মিলিয়ে, পল্লী উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার ও পরিকল্পনা সত্যিই প্রশংসনীয়। এখন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তবেই উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


পল্লী উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার অব্যাহত: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image
গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক পল্লী উন্নয়ন দিবস ও সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘পল্লী উন্নয়ন এই সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রামীণ এলাকার টেকসই উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি সহযোগিতা, কৃষি সেচ এবং কৃষি কার্ডের মতো যুগান্তকারী উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ নানা ধরনের কার্ডের মাধ্যমে দেশের সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করছে সরকার। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সিরডাপের ভূমিকার প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত ৫ যুগ ধরে সিরডাপ পল্লী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সংস্থাটির অবদান অনস্বীকার্য।মন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হলে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। তাই সরকার কৃষি খাতের পাশাপাশি পল্লী অঞ্চলে ছোট ও মাঝারি শিল্প, হস্তশিল্প এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগকে উৎসাহিত করছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে গ্রামীণ যুবক-যুবতীদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ চলছে। সিরডাপের মহাপরিচালক তার বক্তব্যে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে সিরডাপ আরও বেশি করে গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করবে। পাশাপাশি কৃষি প্রযুক্তি ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে পল্লী উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিরডাপের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পল্লী উন্নয়ন শুধু সরকারের একার কাজ নয়, এতে জনগণেরও অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ মানুষ যেন তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং সরকারি সেবা সহজে পায়, সেজন্য প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব করতে হবে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর এই বক্তব্য পল্লী উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ব্যতীত দেশের পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন সম্ভব নয়। সিরডাপের ৪৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কারণ এটি প্রমাণ করে যে পল্লী উন্নয়ন এখনও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতে আরও বেশি কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণকে আর্থ-সামাজিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা যায়। সব মিলিয়ে, পল্লী উন্নয়নে সরকারের এই অঙ্গীকার দেশের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন সময় এসেছে, এসব উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণ যেন এর সুফল পায়। সেজন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ—সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তবেই একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এই লক্ষ্য পূরণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। পল্লী উন্নয়নে সিরডাপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরও বেশি মানুষকে উপকৃত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে পল্লী উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা যায়। সরকারের এই অঙ্গীকার ও পরিকল্পনা সফল হলে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। এটি একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা, যা আগামী দিনে দেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে। সব মিলিয়ে, পল্লী উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার ও পরিকল্পনা সত্যিই প্রশংসনীয়। এখন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তবেই উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা