অতিবৃষ্টির কারণে মৌলভীবাজার জেলার সব নদ-নদীতে পানি বেড়েছে। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে কুশিয়ারা, মনু, ধলাই ও জুড়ী নদের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি মনু নদীর রাজনগরের দুটি পয়েন্ট, কুলাউড়ার একটি পয়েন্টে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে মৌলভীবাজারের অন্তত ৪০টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত জেলার নদীগুলোর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯১ মিলিমিটার, বুধবার বিকাল ৬টা পর্যন্ত ৭৯ মিলিমিটার এবং বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুরে মনু নদীর বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। হরিপাশা, উজিরপুর, কান্দিরকুল, একামধু ও গনেশপুরসহ আশপাশের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সবকিছু সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। মনু নদীর পানি বাড়ছেই—রাজনগর উপজেলার ভাঙ্গারহাট এলাকায় বাঁধ-লেভেল পর্যন্ত পৌঁছেছে নদীর পানি। এতে বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
বর্ষণের কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে কমলগঞ্জের মাধবপুর-শ্রীমঙ্গল যাতায়াতের সড়কে নুরজাহান চা বাগানের গোয়াবাড়ি নামক স্থানে একটি কালভার্ট ধসে পড়েছে। এছাড়া আদমপুর-ইসলামপুর সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীর মখাবিলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় বিএসএফের বাঁধার কারণে মখাবিলের এই অংশটুকুতে কাজ করানো সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও পাউবো কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন