অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি লিওনেল মেসির। পুরো ম্যাচে স্পেনের আধিপত্য থাকলেও ১০৬ মিনিট পর্যন্ত গোল শূন্য ছিল স্কোরবোর্ড।
ম্যাচের আগে
ফাইনালের আগে স্পেন শেষ অনুশীলন করতে পারেনি, নিউ জার্সিতে প্রবল বজ্রঝড়ের কারণে তাদের ট্রেনিং বাতিল করা হয়। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা অনুশীলন করতে পেরেছিল। স্পেন অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামে, আর আর্জেন্টিনায় তিন পরিবর্তন আনে লিওনেল স্কালোনি—গঞ্জালো মন্তিয়েল, রদ্রিগো দি পল ও নিকো গঞ্জালেজকে দলে ফেরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ম্যাচটিকে ‘ন্যাশনাল স্পেশাল সিকিউরিটি ইভেন্ট’ ঘোষণা করা হয়। নিরাপত্তার কড়াকড়িতে স্টেডিয়ামে প্রবেশে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়, দর্শকদের বিমানবন্দরের মতো তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। স্টাফ, সাংবাদিক ও জার্মান স্ট্রিমিং সার্ভিসের বিশ্লেষক ইয়ুর্গেন ক্লপকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধ: স্পেনের আধিপত্য
শুরুতেই আক্রমণে যায় স্পেন। ৫ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের শট ঠেকান মার্তিনেজ। ২৮ মিনিটে ওইয়ারসাবালের জোরালো শটও বাঁচান মার্তিনেজ। ৪৪ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হলুদ কার্ড দেখে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন, নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি।
প্রথমার্ধের পরিসংখ্যান স্পেনের আধিপত্যেরই প্রমাণ দেয়:
আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে একবারও বল স্পর্শ করতে পারেনি
১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা একটিও শট নিতে পারেনি—এটি বিরল একটি ঘটনা।
দ্বিতীয়ার্ধ: মার্তিনেজের দেয়াল
দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের আক্রমণ অব্যাহত থাকে। ৫৮ মিনিটে মন্তিয়েলের বদলে নামেন নাহুয়েল মলিনা। ৬২ মিনিটে স্পেনের দুই বদলি—মাঠে নামেন ফেরান তোরেস ও পেদ্রি, মাঠ ছাড়েন ওইয়ারসাবাল ও ফাবিয়ান রুইজ। ৬৮ মিনিটে ইয়ামালের ক্রস থেকে তোরেসের হেড আবারও ঠেকান মার্তিনেজ।
৯০ মিনিট শেষে স্কোর ০-০। যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ পাউ কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। ইয়ামালের ফ্রি-কিকও বাঁচান মার্তিনেজ—এটি তাঁর দশম সেভ, বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে রেকর্ড।
অতিরিক্ত সময়: তোরেসের ঐতিহাসিক গোল
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেও গোল হয়নি। ৯৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামস গোল করলেও ভিএআরে বাতিল হয়, কারণ মেরিনো গোলরক্ষক মার্তিনেজকে ফাউল করেছিলেন। স্কালোনিকেও হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
১০৬ মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। পেদ্রো পোরোর ক্রস বাঁ দিক থেকে ভেসে এলে উইলিয়ামস হেড দিয়ে বল পেছনে ঠেলে দেন, আর ফেরান তোরেস সেই বলে পা লাগিয়ে জালে জড়ান। আর্জেন্টিনার রক্ষণ কিংবা মার্তিনেজ—কারও কিছু করার ছিল না। ১১৩ মিনিটে তোরেস আরেকটি গোল করেন, কিন্তু অফসাইডে বাতিল হয়।
শেষ মুহূর্তে হুলিয়ানো সিমিওনের হেড বারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়, আর্জেন্টিনার শেষ আশাও স্তব্ধ হয়।
শেষ বাঁশি: স্পেনের উল্লাস, মেসির বিষাদ
রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ শেষ বাঁশি বাজান। ২০১০ সালের পর নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলে দ্বিতীয়বারের মতোই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।
আর্জেন্টিনা ৩৪% বল দখল করে, একটি শটও নিতে পারেনি গোলে। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ফাইনালে এটি তাদের সর্বনিম্ন বল দখলের হার। মেসি পুরো ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিলেন—প্রথম ২০ মিনিটে তাঁর পায়ে বল এসেছে মাত্র দুবার।
ম্যাচ শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পেনের খেলোয়াড়দের পদক পরিয়ে দেন। মেসি শূন্য হাতে, হতাশ মুখে হেঁটে যান ট্রফির পাশ দিয়ে। স্পেনের খেলোয়াড়রা তাকে গার্ড অব অনার দেয়। অন্যদিকে রদ্রি হাতে তুলে নেন বিশ্বকাপ ট্রফি।
ম্যাচের মূল পরিসংখ্যান
১৬ বছর পর বিশ্বকাপের শিরোপা ফিরে পেল স্পেন, অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল মেসি ও আর্জেন্টিনার।
বিষয় : ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন