ঢাকা    শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

মধুপুরে বাঘসদৃশ প্রাণি দেখে আতঙ্ক

মধুপুরে বাঘসদৃশ প্রাণি দেখে আতঙ্ক

টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি গ্রামে বাঘসদৃশ দুটি প্রাণি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রামের বাসিন্দারা। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯-এ ফোন করে বন বিভাগকে খবর দিয়েছেন তারা। তবে টাঙ্গাইলে মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দেখা যাওয়া প্রাণিটি বাঘ নাকি অন্য কিছু তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের শোলাকুড়ি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফজলুল হকের দাবি, তার বাড়ি মধুপুর উপজেলার একেবারে সীমান্তে অবস্থিত জামালপুর সদর উপজেলার বাঁশচড়া ইউনিয়নের জমিরা গ্রামে। গ্রামটি মধুপুর গড়ের অংশ এবং ঝোপজঙ্গলে ভরপুর। কয়েক দিন ধরে গ্রামবাসী পাশের জঙ্গল থেকে বাঘের গোঙরানির মতো শব্দ শুনে আসছিলেন। গ্রামে ছাগল শিকার করার ঘটনাও ঘটছিল।

সর্বশেষ শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যার পর বাঘের মতো দেখতে একজোড়া তার বাড়ির সংলগ্ন রাস্তায় আহমেদ আলী নামক এক পড়শির পথ আটকায়। তার ডাক-চিৎকারে বাজারের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে আসে। টর্চের আলো ফেলে সবাই ডাকচিৎকার শুরু করলে প্রাণি দুটি একটি পরিত্যক্ত গোয়াল ঘরে আশ্রয় নেয়। পরে সেখান থেকে পাশের জঙ্গলের দিকে চলে যায়।

তিনি আরও জানান, গ্রামে বাঘ আসার খবরে রাতের বেলা আশপাশের গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রিপল নাইনে ফোন দিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। মধুপুর বন বিভাগকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের ফরেস্টার মোশারফ হোসেন জানান, মধুপুর বনাঞ্চল এক সময়ে চিতা বাঘের আবাসস্থল ছিল। বন উজাড় হওয়ায় চিতা বাঘ এখন আর দেখা যায় না। রাতের অন্ধকারে টর্চ লাইটের আলোতে গ্রামবাসীর মোবাইলে তোলা একটি ছবি পাঠানো হয়েছে। ডোরাকাটা প্রাণির এই ছবি দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটি চিতা বাঘ না মেছো বাঘ। মধুপুর বনাঞ্চলে সম্প্রতি বড় সাইজের বন বিড়ালের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। সরেজমিন গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে আগামীকাল নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে এটি বাঘ না বন বিড়াল।

সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ জানিয়েছে, শনিবার সকালেই ঘটনাস্থলে একটি দল পাঠানো হবে। প্রাণি দুটির পদচিহ্ন ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় এবং বন্যপ্রাণী ও মানুষের মধ্যে সংঘাত এড়াতে বন বিভাগ সতর্ক রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


মধুপুরে বাঘসদৃশ প্রাণি দেখে আতঙ্ক

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image
টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি গ্রামে বাঘসদৃশ দুটি প্রাণি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রামের বাসিন্দারা। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯-এ ফোন করে বন বিভাগকে খবর দিয়েছেন তারা। তবে টাঙ্গাইলে মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দেখা যাওয়া প্রাণিটি বাঘ নাকি অন্য কিছু তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি ইউনিয়নের শোলাকুড়ি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফজলুল হকের দাবি, তার বাড়ি মধুপুর উপজেলার একেবারে সীমান্তে অবস্থিত জামালপুর সদর উপজেলার বাঁশচড়া ইউনিয়নের জমিরা গ্রামে। গ্রামটি মধুপুর গড়ের অংশ এবং ঝোপজঙ্গলে ভরপুর। কয়েক দিন ধরে গ্রামবাসী পাশের জঙ্গল থেকে বাঘের গোঙরানির মতো শব্দ শুনে আসছিলেন। গ্রামে ছাগল শিকার করার ঘটনাও ঘটছিল।সর্বশেষ শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যার পর বাঘের মতো দেখতে একজোড়া তার বাড়ির সংলগ্ন রাস্তায় আহমেদ আলী নামক এক পড়শির পথ আটকায়। তার ডাক-চিৎকারে বাজারের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে আসে। টর্চের আলো ফেলে সবাই ডাকচিৎকার শুরু করলে প্রাণি দুটি একটি পরিত্যক্ত গোয়াল ঘরে আশ্রয় নেয়। পরে সেখান থেকে পাশের জঙ্গলের দিকে চলে যায়।তিনি আরও জানান, গ্রামে বাঘ আসার খবরে রাতের বেলা আশপাশের গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রিপল নাইনে ফোন দিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। মধুপুর বন বিভাগকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের ফরেস্টার মোশারফ হোসেন জানান, মধুপুর বনাঞ্চল এক সময়ে চিতা বাঘের আবাসস্থল ছিল। বন উজাড় হওয়ায় চিতা বাঘ এখন আর দেখা যায় না। রাতের অন্ধকারে টর্চ লাইটের আলোতে গ্রামবাসীর মোবাইলে তোলা একটি ছবি পাঠানো হয়েছে। ডোরাকাটা প্রাণির এই ছবি দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এটি চিতা বাঘ না মেছো বাঘ। মধুপুর বনাঞ্চলে সম্প্রতি বড় সাইজের বন বিড়ালের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। সরেজমিন গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে আগামীকাল নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে এটি বাঘ না বন বিড়াল।সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ জানিয়েছে, শনিবার সকালেই ঘটনাস্থলে একটি দল পাঠানো হবে। প্রাণি দুটির পদচিহ্ন ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে। বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় এবং বন্যপ্রাণী ও মানুষের মধ্যে সংঘাত এড়াতে বন বিভাগ সতর্ক রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা