ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে রেজিস্ট্রেশন পেতে হলে এসব রিকশার ব্যাটারি সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে। তবে সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ করা হলে ওই রিকশাকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে না। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের শর্ত রাখা হচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। তবে এই খাতে কোনো নিয়ন্ত্রণ বা নীতিমালা না থাকায় সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। সরকার ইতিমধ্যে 'বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫'-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে । খসড়া নীতিমালায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে । এছাড়া মহাসড়কে এ ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ এবং নির্দিষ্ট রুটে চলাচলের বিধান রাখা হয়েছে।
পাঁচ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বরাদ্দ
এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটে পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এসব নির্বাচনে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হলে আলোচনা করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে চলতি অর্থবছরে পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে, এর কোনো ব্যত্যয় হবে না।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ছয় মাস খুব কম সময়। তবে খাল, লেক ও রাস্তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। নিজেদের কাজে খুব একটা সন্তুষ্ট নন, তবে অনেকদূর এগিয়েছেন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে কাজ পরিচালনা করা কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এলে সেবার মান ও কাজের গতি আরও বাড়বে।
এর আগে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে । পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে। সব নির্বাচন শেষ করতে প্রায় ১০ থেকে ১২ মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন