ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

‘ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ’ দেশে এসে হচ্ছে আস্ত বিলাসবহুল গাড়ি

‘ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ’ দেশে এসে হচ্ছে আস্ত বিলাসবহুল গাড়ি

আমদানি ঘোষণায় ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে মোংলা বন্দর দিয়ে আনা হয়েছে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি। তবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত (সিবিইউ) অবস্থায় না এনে গাড়িগুলোকে তিন থেকে চারটি বড় অংশে কেটে সেমি-নকড ডাউন (এসকেডি) অবস্থায় আনা হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অভিযানে এই অভিনব প্রতারণা ধরা পড়েছে।


প্রতারণা ধরার পেছনের প্রক্রিয়া


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এই জালিয়াতি উদ্ঘাটন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।


যেসব বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়েছে


একই চালানে চারটি গাড়ির ‘এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার’ বা মূল বৈশিষ্ট্যগুলো আনা হয়েছিল। গাড়িগুলো হলো:


  • রেঞ্জ রোভার ভোগ


  • বিএমডব্লিউ ৬৫০আই


  • লেক্সাস এলএক্স৫৭০


  • টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট জিআরএস২০৪


জালিয়াতির বিস্তারিত বিবরণ


কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে আলাদা না করে গাড়িগুলোকে ওয়্যারিং হারনেস, সেন্সর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সংযুক্ত রেখেই ফ্রন্ট কাট, কমপ্লিট রিয়ার বা টেল কাট, বডি কাট ও রুফ কাট প্যানেল হিসেবে তিন থেকে চারটি বড় অংশে কাটা হয়েছে। এসব অংশ পরবর্তীতে পুনরায় জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি ও এর বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।


১৬৪টি প্যাকেজে ১৪টি আইটেমের ওই চালানের ইনভয়েস মূল্য মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ ডলার দেখানো হয়েছিল। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয় প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর দেখানো হয় ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা। অথচ অনুসন্ধানে গাড়িগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য পাওয়া যায় সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার মতো। কাস্টমসের জিআরআই রুল ২(এ) অনুযায়ী খণ্ডিত পণ্যে মূল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকলে তা পূর্ণাঙ্গ মোটরযান হিসেবে শুল্কায়নের বিধান রয়েছে। এনবিআরের ১৯৯৭ সালের শর্ত ভঙ্গের কারণে চালানটি এসকেডি মোটরযান হিসেবে শুল্কায়ন করে মোংলা কাস্টম হাউসে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।


চট্টগ্রামেও একই কায়দায় জালিয়াতি


মোংলার পাশাপাশি সিআইআইডির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ও একই ধরনের প্রতারণা উদ্ঘাটন করেছে। দুবাই থেকে যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানির পর কাপ্তাই ও চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর এলাকার গ্যারেজে জোড়া লাগিয়ে একটি ২০১৪ মডেলের বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ গাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছিল। জালিয়াতি ঢাকতে গাড়িটিতে অন্য একটি পুরোনো বিএমডব্লিউর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছিল। মোহাম্মদ আইয়ুব নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা দুবাই থেকে খণ্ডাংশ পাঠানো, বন্দর থেকে খালাস এবং স্থানীয় গ্যারেজে গাড়ি জোড়া লাগানোর এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সিআইআইডি বর্তমানে গাড়িটির আমদানি প্রক্রিয়া ও রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি তদন্ত করছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


‘ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ’ দেশে এসে হচ্ছে আস্ত বিলাসবহুল গাড়ি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image
আমদানি ঘোষণায় ‘ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ’ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে মোংলা বন্দর দিয়ে আনা হয়েছে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি। তবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত (সিবিইউ) অবস্থায় না এনে গাড়িগুলোকে তিন থেকে চারটি বড় অংশে কেটে সেমি-নকড ডাউন (এসকেডি) অবস্থায় আনা হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অভিযানে এই অভিনব প্রতারণা ধরা পড়েছে।প্রতারণা ধরার পেছনের প্রক্রিয়াবাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এই জালিয়াতি উদ্ঘাটন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।যেসব বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়েছেএকই চালানে চারটি গাড়ির ‘এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার’ বা মূল বৈশিষ্ট্যগুলো আনা হয়েছিল। গাড়িগুলো হলো:রেঞ্জ রোভার ভোগবিএমডব্লিউ ৬৫০আইলেক্সাস এলএক্স৫৭০টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট জিআরএস২০৪জালিয়াতির বিস্তারিত বিবরণকাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশ হিসেবে আলাদা না করে গাড়িগুলোকে ওয়্যারিং হারনেস, সেন্সর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সংযুক্ত রেখেই ফ্রন্ট কাট, কমপ্লিট রিয়ার বা টেল কাট, বডি কাট ও রুফ কাট প্যানেল হিসেবে তিন থেকে চারটি বড় অংশে কাটা হয়েছে। এসব অংশ পরবর্তীতে পুনরায় জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি ও এর বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।১৬৪টি প্যাকেজে ১৪টি আইটেমের ওই চালানের ইনভয়েস মূল্য মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ ডলার দেখানো হয়েছিল। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয় প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর দেখানো হয় ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা। অথচ অনুসন্ধানে গাড়িগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য পাওয়া যায় সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার মতো। কাস্টমসের জিআরআই রুল ২(এ) অনুযায়ী খণ্ডিত পণ্যে মূল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকলে তা পূর্ণাঙ্গ মোটরযান হিসেবে শুল্কায়নের বিধান রয়েছে। এনবিআরের ১৯৯৭ সালের শর্ত ভঙ্গের কারণে চালানটি এসকেডি মোটরযান হিসেবে শুল্কায়ন করে মোংলা কাস্টম হাউসে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।চট্টগ্রামেও একই কায়দায় জালিয়াতিমোংলার পাশাপাশি সিআইআইডির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ও একই ধরনের প্রতারণা উদ্ঘাটন করেছে। দুবাই থেকে যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানির পর কাপ্তাই ও চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর এলাকার গ্যারেজে জোড়া লাগিয়ে একটি ২০১৪ মডেলের বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ গাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছিল। জালিয়াতি ঢাকতে গাড়িটিতে অন্য একটি পুরোনো বিএমডব্লিউর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছিল। মোহাম্মদ আইয়ুব নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা দুবাই থেকে খণ্ডাংশ পাঠানো, বন্দর থেকে খালাস এবং স্থানীয় গ্যারেজে গাড়ি জোড়া লাগানোর এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সিআইআইডি বর্তমানে গাড়িটির আমদানি প্রক্রিয়া ও রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি তদন্ত করছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা