ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নভেম্বরে উৎপাদনে আসছে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নভেম্বরে উৎপাদনে আসছে

মাসের পর মাস পিছিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের স্বপ্নের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী নভেম্বর মাসে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে আসছে। দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করবে জাতি ।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক জ্বালানি ক্লাবে প্রবেশ করবে । প্রকল্পটি রাশিয়ার অর্থায়নে ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ।

প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে কেন্দ্রটি চালুর আগে প্রেসারাইজার পাইলট অপারেটেড রিলেটেড ভালভ (পিওআরভি)-এর ত্রুটি সারানোর কাজ চলছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার আগে (বি-টু-ধাপে) দুই থেকে তিন সপ্তাহ এবং টারবাইন দিয়ে ৩০% স্ট্রিম তৈরিতে ছয় সপ্তাহ মিলে মোট ৯ সপ্তাহ বা দুই মাস সময় লাগবে ।

এ হিসেবে আদর্শ প্রোগ্রাম অনুসরণ করলে আগামী নভেম্বর মাসে উৎপাদনে আসবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে শেষ মুহূর্তে কোনো পরীক্ষায় আটকে গেলে সময় আরও পেছাতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন ।

বিদ্যুতের দাম

প্রতি ইউনিট পারমাণবিক বিদ্যুতের উৎপাদন খরচসহ বিদ্যুতের মূল্য দাঁড়াবে ১০ টাকার কম । ২০১৬ সালে রূপপুর প্রকল্পের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ধরা হয়েছিল ৪ টাকা ৬৫ পয়সা। উৎপাদন খরচের সঙ্গে অপারেশনাল খরচ, ইন্স্যুরেন্স যুক্ত হবে। তবে এই মূল্য দুই ডিজিট হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন ।

অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ

পারমাণবিক চুল্লিতে ব্যবহৃত জ্বালানি বা স্পেন্ট ফুয়েল বিষয়ে এখনো রাশিয়া সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি । রাশিয়ার সঙ্গে সরকার-টু-সরকার চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুরে আনা ফুয়েল রাশিয়া নিজের দেশে ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়ে যাবে। কিন্তু এজন্য কী পরিমাণ টাকা দিতে হবে, এই বাণিজ্যিক চুক্তি এখনো হয়নি ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্পেন্ট ফুয়েলের চেয়েও এ মুহূর্তে বেশি চিন্তার বিষয় হলো—বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যাওয়ার পর প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারি বর্জ্য তৈরি হবে। এই বর্জ্যগুলো রাখার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সংরক্ষণাগার তৈরি হয়নি ।

পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) এখনো স্বাক্ষরিত হয়নি, ফলে বিদ্যুতের চূড়ান্ত দাম নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগেই চূড়ান্ত করা উচিত ছিল ।

বিষয় : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নভেম্বরে উৎপাদনে আসছে

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
মাসের পর মাস পিছিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের স্বপ্নের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী নভেম্বর মাসে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে আসছে। দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করবে জাতি ।একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক জ্বালানি ক্লাবে প্রবেশ করবে । প্রকল্পটি রাশিয়ার অর্থায়নে ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ।প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জবর্তমানে কেন্দ্রটি চালুর আগে প্রেসারাইজার পাইলট অপারেটেড রিলেটেড ভালভ (পিওআরভি)-এর ত্রুটি সারানোর কাজ চলছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার আগে (বি-টু-ধাপে) দুই থেকে তিন সপ্তাহ এবং টারবাইন দিয়ে ৩০% স্ট্রিম তৈরিতে ছয় সপ্তাহ মিলে মোট ৯ সপ্তাহ বা দুই মাস সময় লাগবে ।এ হিসেবে আদর্শ প্রোগ্রাম অনুসরণ করলে আগামী নভেম্বর মাসে উৎপাদনে আসবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে শেষ মুহূর্তে কোনো পরীক্ষায় আটকে গেলে সময় আরও পেছাতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন ।বিদ্যুতের দামপ্রতি ইউনিট পারমাণবিক বিদ্যুতের উৎপাদন খরচসহ বিদ্যুতের মূল্য দাঁড়াবে ১০ টাকার কম । ২০১৬ সালে রূপপুর প্রকল্পের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ধরা হয়েছিল ৪ টাকা ৬৫ পয়সা। উৎপাদন খরচের সঙ্গে অপারেশনাল খরচ, ইন্স্যুরেন্স যুক্ত হবে। তবে এই মূল্য দুই ডিজিট হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন ।অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগপারমাণবিক চুল্লিতে ব্যবহৃত জ্বালানি বা স্পেন্ট ফুয়েল বিষয়ে এখনো রাশিয়া সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি । রাশিয়ার সঙ্গে সরকার-টু-সরকার চুক্তি অনুযায়ী, রূপপুরে আনা ফুয়েল রাশিয়া নিজের দেশে ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়ে যাবে। কিন্তু এজন্য কী পরিমাণ টাকা দিতে হবে, এই বাণিজ্যিক চুক্তি এখনো হয়নি ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্পেন্ট ফুয়েলের চেয়েও এ মুহূর্তে বেশি চিন্তার বিষয় হলো—বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যাওয়ার পর প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভারি বর্জ্য তৈরি হবে। এই বর্জ্যগুলো রাখার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সংরক্ষণাগার তৈরি হয়নি ।পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) এখনো স্বাক্ষরিত হয়নি, ফলে বিদ্যুতের চূড়ান্ত দাম নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগেই চূড়ান্ত করা উচিত ছিল ।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা