সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম না দিলে বিরোধী দলকে আর সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দিতে রাজি নয় সরকারি দল। অন্যদিকে, ১১ দলীয় ঐক্য সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের মাধ্যমে নতুন কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার ইস্যুতে একে অপরের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে সরকারি ও বিরোধী দল [citation:1][citation:2]। কৌশলের অংশ হিসেবে সংবিধান সংশোধনে গঠিত কমিটিতে নাম না দিলে বিরোধী দলকে আর সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দিতে রাজি নয় সরকারি দল। বিরোধীদলের দাবি, জুলাই সনদ অনুযায়ী মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিগুলোর ২৬ শতাংশের সভাপতি পদ পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে [citation:4]।
অন্যদিকে, জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন দাবির পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতের চলমান সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো জনসম্পৃক্ত বিষয়গুলোতে সংসদে সরব থাকার কৌশল নিয়েছে বিরোধী দল। পাশাপাশি রাজপথেও কর্মসূচি দিয়ে সরকারি দলকে চাপে রাখতে চায় তারা। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে রাজধানীতে পদযাত্রা করে সংসদের স্পিকারকে স্মারকলিপি দিয়েছে বিরোধী দল [citation:3]।
জুলাই সনদ অনুসারে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বণ্টন নিয়ে গত রবিবার সংসদে বিতর্ক হয়েছে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে। বিতর্ক হলেও বিরোধী দলকে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতির পদ দেওয়া হবে কি না—সে প্রশ্নের মীমাংসা হয়নি। দুই পক্ষের পালটা বক্তব্যের পর ঐ সময়ে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল দেশের স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রয়োজনে উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রুদ্ধদ্বার আলোচনারও পরামর্শ দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে জাতীয় সংসদ। বিরোধী দলকে ওই কমিটির জন্য পাঁচ জনের নাম দিতে বলা হলেও তারা নাম দেয়নি। বিরোধী দল ঐ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সংশোধন নয়, তারা জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের পক্ষে।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন