ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

জরুরি অর্থের জন্য ব্যাংক অ্যাপে ১০ হাজার টাকা ঋণের সুবিধা চালু

জরুরি অর্থের জন্য ব্যাংক অ্যাপে ১০ হাজার টাকা ঋণের সুবিধা চালু

জরুরি অর্থের প্রয়োজন হলে কারও ওপর নির্ভর যেন না করতে হয় সেজন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই উদ্যোগকে বলা হচ্ছে জরুরি পেমেন্ট সেবা। যারা বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করছেন তারা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ঋণটি সরাসরি ব্যাংক হিসেবে দেওয়া হবে না।

যেসব প্রয়োজন মেটাতে দেওয়া হবে: বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, মোবাইল রিচার্জ, বাচ্চার স্কুলের বেতন, হাসপাতালের কোনো বিল, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কোনো ডিপিএস-এর টাকা পরিশোধ বা ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম পরিশোধ।

ব্যাংকিং অ্যাপে আলাদা করে কোনো টাকা দেওয়া হবে না। উল্লেখিত জরুরি সেবার বিল পরিশোধের জন্য সেই পরিমাণ টাকা পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া হবে। এজন্য ব্যাংকগুলো আপনার কাছ থেকে কোনো সুদ আদায় করবে না। তবে তারা একটি মাশুল নেবে। এই খরচটা খুব বেশি নয়। সাত দিন, ১৫ দিন ও ৩০ দিন মেয়াদে এই টাকা দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত মাশুলের হার: ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ মাশুল হবে যথাক্রমে ৩ টাকা, ৪ টাকা ও ৬ টাকা। ২৫১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিলে মাশুল হবে পাঁচ, আট ও ১৫ টাকা। ৫০১ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল হবে ৭, ১২ ও ২০ টাকা। ১ হাজার ১ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের মাশুল হবে ১০, ২০ ও ৩০ টাকা। ২ হাজার ১ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের মাশুল হবে ১৫, ৩০ ও ৫০ টাকা। ৩ হাজার ১ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল হবে ২০, ৪০ ও ৭০ টাকা। ৫ হাজার ১ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল হবে ২৫, ৫০ ও ৯০ টাকা। ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল হবে যথাক্রমে ৩৫, ৭০ ও ১৩০ টাকা। অর্থাৎ ১০ হাজার টাকা ঋণ নিলে সেটার মেয়াদ যদি ৩০ দিন হয় তাহলে ১৩০ টাকা মাশুল দিতে হবে।

সিটি ব্যাংক পিএলসির ডিএমডি অরূপ হায়দার বলেন, এই সার্কুলারটি বাস্তবায়ন করলে গ্রাহকদের নিত্যদিনের পেমেন্টের সময় অনেক সময় ইনস্ট্যান্ট লিকুইডিটির অভাবের জায়গাটা তারা পূরণ করতে পারবে। এটির আসলে প্রভাব আরও ব্যাপক। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা যখন এই ধরনের বিল পেমেন্টের জন্য ঋণ সুবিধা ব্যবহার করবেন, তখন মানুষের ডিজিটাল অভিযোজন বাড়বে, যা ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য অন্যতম একটি নিয়ামক।

তিনি আরও বলেন, আজকের দিনে এই সার্কুলারটাকে অতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে না, কিন্তু আমরা মনে করি এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাংলাদেশ ব্যাংককে এ ধরনের একটি সময়োপযোগী সার্কুলার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ এবং আশা করছি আমরা কোটি কোটি গ্রাহকের কাছে এই সুবিধা পৌঁছাতে পারব খুব শিগগিরই।

বাংলাদেশে বর্তমানে যারা ব্যাংকগুলোর অ্যাপ ব্যবহার করেন—সিটি ব্যাংকের সিটি টাচ, বিকাশের আস্থা, ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন, ডাচবাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে, সোনালী ব্যাংকের অ্যাপ—এই অ্যাপগুলো যারা ব্যবহার করেন তারাই এই ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশে ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা আড়াই কোটি। তবে এই আড়াই কোটি গ্রাহক ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন, কিন্তু ব্যাংকগুলো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ঋণ পাওয়ার জন্য গ্রাহককে ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে এবং ব্যাংকের ঋণযোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


জরুরি অর্থের জন্য ব্যাংক অ্যাপে ১০ হাজার টাকা ঋণের সুবিধা চালু

প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
জরুরি অর্থের প্রয়োজন হলে কারও ওপর নির্ভর যেন না করতে হয় সেজন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই উদ্যোগকে বলা হচ্ছে জরুরি পেমেন্ট সেবা। যারা বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করছেন তারা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ঋণটি সরাসরি ব্যাংক হিসেবে দেওয়া হবে না।যেসব প্রয়োজন মেটাতে দেওয়া হবে: বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, মোবাইল রিচার্জ, বাচ্চার স্কুলের বেতন, হাসপাতালের কোনো বিল, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কোনো ডিপিএস-এর টাকা পরিশোধ বা ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম পরিশোধ।ব্যাংকিং অ্যাপে আলাদা করে কোনো টাকা দেওয়া হবে না। উল্লেখিত জরুরি সেবার বিল পরিশোধের জন্য সেই পরিমাণ টাকা পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া হবে। এজন্য ব্যাংকগুলো আপনার কাছ থেকে কোনো সুদ আদায় করবে না। তবে তারা একটি মাশুল নেবে। এই খরচটা খুব বেশি নয়। সাত দিন, ১৫ দিন ও ৩০ দিন মেয়াদে এই টাকা দেওয়া হবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত মাশুলের হার: ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ মাশুল হবে যথাক্রমে ৩ টাকা, ৪ টাকা ও ৬ টাকা। ২৫১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিলে মাশুল হবে পাঁচ, আট ও ১৫ টাকা। ৫০১ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল হবে ৭, ১২ ও ২০ টাকা। ১ হাজার ১ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের মাশুল হবে ১০, ২০ ও ৩০ টাকা। ২ হাজার ১ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের মাশুল হবে ১৫, ৩০ ও ৫০ টাকা। ৩ হাজার ১ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল হবে ২০, ৪০ ও ৭০ টাকা। ৫ হাজার ১ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল হবে ২৫, ৫০ ও ৯০ টাকা। ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল হবে যথাক্রমে ৩৫, ৭০ ও ১৩০ টাকা। অর্থাৎ ১০ হাজার টাকা ঋণ নিলে সেটার মেয়াদ যদি ৩০ দিন হয় তাহলে ১৩০ টাকা মাশুল দিতে হবে।সিটি ব্যাংক পিএলসির ডিএমডি অরূপ হায়দার বলেন, এই সার্কুলারটি বাস্তবায়ন করলে গ্রাহকদের নিত্যদিনের পেমেন্টের সময় অনেক সময় ইনস্ট্যান্ট লিকুইডিটির অভাবের জায়গাটা তারা পূরণ করতে পারবে। এটির আসলে প্রভাব আরও ব্যাপক। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা যখন এই ধরনের বিল পেমেন্টের জন্য ঋণ সুবিধা ব্যবহার করবেন, তখন মানুষের ডিজিটাল অভিযোজন বাড়বে, যা ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য অন্যতম একটি নিয়ামক।তিনি আরও বলেন, আজকের দিনে এই সার্কুলারটাকে অতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে না, কিন্তু আমরা মনে করি এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাংলাদেশ ব্যাংককে এ ধরনের একটি সময়োপযোগী সার্কুলার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ এবং আশা করছি আমরা কোটি কোটি গ্রাহকের কাছে এই সুবিধা পৌঁছাতে পারব খুব শিগগিরই।বাংলাদেশে বর্তমানে যারা ব্যাংকগুলোর অ্যাপ ব্যবহার করেন—সিটি ব্যাংকের সিটি টাচ, বিকাশের আস্থা, ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন, ডাচবাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে, সোনালী ব্যাংকের অ্যাপ—এই অ্যাপগুলো যারা ব্যবহার করেন তারাই এই ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশে ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা আড়াই কোটি। তবে এই আড়াই কোটি গ্রাহক ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন, কিন্তু ব্যাংকগুলো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ঋণ পাওয়ার জন্য গ্রাহককে ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে এবং ব্যাংকের ঋণযোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা