ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

এআই দিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে অপপ্রচার চালানোর নেটওয়ার্ক শনাক্ত

এআই দিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে অপপ্রচার চালানোর নেটওয়ার্ক শনাক্ত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচার চালানোর একটি সক্রিয় নেটওয়ার্কের তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি এআই চ্যাটবট ‘ক্লড’ ব্যবহার করে প্রায় ১৬ মাস ধরে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বাংলায় ভুয়া খবর, বানোয়াট শিরোনাম ও বিকৃত ছবি তৈরি করা হচ্ছিল।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অ্যানথ্রোপিকের প্রকাশিত ‘এআইয়ের অপব্যবহার শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ: সেপ্টেম্বর ২০২৬’ শীর্ষক ১৫৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

অ্যানথ্রোপিকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে ‘জিটিজি-৫৪০০৬’ কোডে চিহ্নিত এই অপপ্রচার চক্র পরিচালনা করছিলেন গাইবান্ধা জেলার এক ব্যক্তি। শনাক্তকরণ এড়াতে ওই ব্যবহারকারী অন্তত ২৯টি অ্যাকাউন্ট অদলবদল করে ব্যবহার করতেন। প্রচারণার কাজ সহজ ও স্বয়ংক্রিয় করতে তিনি পাইথন কোডিংয়ের মাধ্যমে একটি বিশেষ প্রোগ্রাম তৈরি করে তা ক্লডের সঙ্গে যুক্ত করেন। এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিবার ১৫টি শিরোনাম, ৩টি পূর্ণাঙ্গ ভুয়া প্রতিবেদন ও ১৫টি ছবির প্রম্পট তৈরি করে ফেসবুক ও টিকটকের মতো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হতো।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ১ হাজার ৫০০টি বানোয়াট শিরোনাম, ৩০০টি মিথ্যা প্রতিবেদন ও ১ হাজার ৫০০টি ছবির প্রম্পট তৈরি করা হয়। অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, সীমিত ডিজিটাল সাক্ষরতা রয়েছে এমন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মনোভাবকে প্রভাবিত করতেই এই অপপ্রচার চালানো হতো।

এসব ভুয়া কনটেন্টে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের ‘বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার চর’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হতো। পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালানো হতো। একই সঙ্গে এই প্রচারণার একটি অংশ ভারতের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের অনুকূলে ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অপতৎপরতা ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট সবকটি ক্লড অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে অ্যানথ্রোপিক। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সামাজিক মাধ্যম ও সহযোগী প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য ভাগাভাগি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই নেটওয়ার্ক কেবল বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না। একই ধরনের এআই-চালিত অপপ্রচারের ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশেও শনাক্ত হয়েছে। অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, তারা এখন এআই অপব্যবহার প্রতিরোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, এআই প্রযুক্তি রাজনৈতিক অপপ্রচারে ব্যবহারের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অপপ্রচার মোকাবিলায় প্রযুক্তি কোম্পানি, সরকার ও সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিষয় : সাইবার ক্রাইম

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


এআই দিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে অপপ্রচার চালানোর নেটওয়ার্ক শনাক্ত

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচার চালানোর একটি সক্রিয় নেটওয়ার্কের তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি এআই চ্যাটবট ‘ক্লড’ ব্যবহার করে প্রায় ১৬ মাস ধরে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বাংলায় ভুয়া খবর, বানোয়াট শিরোনাম ও বিকৃত ছবি তৈরি করা হচ্ছিল।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অ্যানথ্রোপিকের প্রকাশিত ‘এআইয়ের অপব্যবহার শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ: সেপ্টেম্বর ২০২৬’ শীর্ষক ১৫৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।অ্যানথ্রোপিকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে ‘জিটিজি-৫৪০০৬’ কোডে চিহ্নিত এই অপপ্রচার চক্র পরিচালনা করছিলেন গাইবান্ধা জেলার এক ব্যক্তি। শনাক্তকরণ এড়াতে ওই ব্যবহারকারী অন্তত ২৯টি অ্যাকাউন্ট অদলবদল করে ব্যবহার করতেন। প্রচারণার কাজ সহজ ও স্বয়ংক্রিয় করতে তিনি পাইথন কোডিংয়ের মাধ্যমে একটি বিশেষ প্রোগ্রাম তৈরি করে তা ক্লডের সঙ্গে যুক্ত করেন। এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিবার ১৫টি শিরোনাম, ৩টি পূর্ণাঙ্গ ভুয়া প্রতিবেদন ও ১৫টি ছবির প্রম্পট তৈরি করে ফেসবুক ও টিকটকের মতো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হতো।প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ১ হাজার ৫০০টি বানোয়াট শিরোনাম, ৩০০টি মিথ্যা প্রতিবেদন ও ১ হাজার ৫০০টি ছবির প্রম্পট তৈরি করা হয়। অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, সীমিত ডিজিটাল সাক্ষরতা রয়েছে এমন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মনোভাবকে প্রভাবিত করতেই এই অপপ্রচার চালানো হতো।এসব ভুয়া কনটেন্টে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্রনেতাদের ‘বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার চর’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হতো। পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালানো হতো। একই সঙ্গে এই প্রচারণার একটি অংশ ভারতের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের অনুকূলে ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এই অপতৎপরতা ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট সবকটি ক্লড অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে অ্যানথ্রোপিক। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সামাজিক মাধ্যম ও সহযোগী প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য ভাগাভাগি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই নেটওয়ার্ক কেবল বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না। একই ধরনের এআই-চালিত অপপ্রচারের ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশেও শনাক্ত হয়েছে। অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, তারা এখন এআই অপব্যবহার প্রতিরোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, এআই প্রযুক্তি রাজনৈতিক অপপ্রচারে ব্যবহারের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অপপ্রচার মোকাবিলায় প্রযুক্তি কোম্পানি, সরকার ও সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা