যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই যোদ্ধা জাতি হয়ে থাকে, তাহলে ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি হোক—এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার অভিযোগ, সেনাবাহিনীকে এড়িয়ে মার্কিন বাহিনী এখন সরাসরি ইরানের বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। তবে যা-ই ঘটুক, তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে মাথা নত করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান লেখেন, ‘যদি মার্কিনিরা যোদ্ধা হয়, তাহলে আমাদের বীর সেনাদের মোকাবেলা করুক। কেন তারা আমাদের বেসামরিক অবকাঠামো, খাদ্য সরবরাহ আর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে? মানুষ হলে কেন সাধারণ মানুষকে খাবার আর ওষুধ থেকে বঞ্চিত করছে?’
তিনি আরও বলেন, ইরানি জনগণকে গুণ্ডামির কাছে নতিস্বীকার করানো যাবে না—ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।
টানা ৪০ দিনের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও, সেই সময় থেকেই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে মার্কিন বাহিনী। এর ফলে খাদ্য, ওষুধসহ জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ইরানে প্রবেশ করতে পারছে না। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক বার্তায় মূলত এই অবরোধেরই কড়া সমালোচনা উঠে এসেছে।
পাল্টা জবাবে ইরানও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল করে রেখেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যে পরিমাণ জাহাজ চলাচল করত সেই প্রণালি দিয়ে, এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ জনগণের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করার একটি কৌশল। যুদ্ধবিরতির পরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি। ইরানের বন্দর অবরোধ ও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। তেলের দাম ইতিমধ্যেই বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দুই দেশের মধ্যে দ্রুত সমঝোতা চুক্তির আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে ইরানের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তেহরান সহজে নতিস্বীকার করবে না।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন