গণবার্তা
সর্বশেষ

নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় বড় ধরনের আইনি সাফল্য পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডীয় কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেসকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিড/ইকসিড)।পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বৃহস্পতিবার এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক রায়ে ইকসিড টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তী সময়ে কূপ খননের মাধ্যমে ১ হাজার ৯০ থেকে ১ হাজার ৯৭৫ মিটার গভীরতায় মোট নয়টি গ্যাস স্তর শনাক্ত করা হয়। এই গ্যাস ছাতক সিমেন্ট ও পেপার মিলে সরবরাহ করা হতো। প্রায় ২৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের পর কূপে পানি উঠে আসায় সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০০৩ সালে নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গ্যাসক্ষেত্রটি নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। খননকাজ শুরুর পর ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গ্যাসক্ষেত্রের বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।এ ঘটনায় পেট্রোবাংলা নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও কোম্পানিটি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ২০০৭ সালে স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলা করে পেট্রোবাংলা এবং নাইকোর ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস বিল পরিশোধ বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাইকোর্ট বাংলাদেশে থাকা নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টেও বাংলাদেশের পক্ষেই রায় আসে।এরপর আটকে রাখা গ্যাস বিল ও ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার অভিযোগে নাইকো ২০১০ সালে ইকসিডে দুটি মামলা করে। ২০১৪ সালের এক রায়ে ইকসিড পেট্রোবাংলাকে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেয়। পরে ২০১৬ সালে বাপেক্স নাইকোর বিরুদ্ধে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকা (প্রায় ১১৭ কোটি মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবিতে ইকসিডে মামলা করে। সেই মামলার চূড়ান্ত রায়েই এবার ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ এলো।আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে উল্লেখ করেছে, নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনাতেই খননকাজ পরিচালিত হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের মানদণ্ড অনুসরণে ব্যর্থ হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নেওয়ার কারণেই বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে এসব ঘটনার জন্য নাইকো সরাসরি দায়ী।উল্লেখ্য, ছাতক গ্যাসক্ষেত্রটি ছাতক পূর্ব ও ছাতক পশ্চিম (টেংরাটিলা) নামে দুটি অংশে বিভক্ত। অগ্নিকাণ্ডে ছাতক পশ্চিম অংশের একটি স্তরের গ্যাস পুড়ে গেলেও অন্যান্য স্তর এবং ছাতক পূর্ব অংশের গ্যাস মজুদ অক্ষত রয়েছে। এই গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদ ২ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বলে ধারণা করা হয়। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত রয়েছে। ইকসিডের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় থাকা হয়েছিল। এখন আইনজীবীদের মতামত নিয়ে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
৩০ জানুয়ারি ২০২৬

ক্রিকেট বনাম রাজনীতি: উপমহাদেশে ‘আনফেয়ার প্লে’র নতুন অধ্যায়

উপমহাদেশে ক্রিকেট ও রাজনীতি—দুটিই প্রায় নেশার মতো। দুটির আবেগ, বিভাজন ও জনমত–নির্ভরতা এত গভীর যে, একটির ঢেউ অন্যটিকে ছুঁয়ে গেলেই ফলাফল হয় বিস্ফোরক। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই দুইয়ের মেলবন্ধন বেশির ভাগ সময়ই সুখকর নয়; বরং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি ডেকে আনে। আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। কিন্তু এই মঞ্চে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি আবারও মনে করিয়ে দিল—রাজনীতি কীভাবে খেলাটার পিচ নষ্ট করে দেয়।আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল International Cricket Council (আইসিসি) সম্প্রতি জানিয়েছে, বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে—বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভারতে খেলতে অনিচ্ছা। বিষয়টি নিয়ে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক The Telegraph–এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘Unfair Play’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে কড়া ভাষায় বলা হয়েছে, আবারও রাজনীতি ক্রিকেটের মাঠে হস্তক্ষেপ করল।কূটনৈতিক টানাপড়েনের ছায়া বাইশ গজেসম্পাদকীয়তে বলা হয়, বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর নয়াদিল্লি–ঢাকার টানাপড়েনপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের তিক্ত ছাপ পড়েছে ক্রিকেটে। এর আগেও এমন নজির আছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড Board of Control for Cricket in India (বিসিসিআই)–এর নির্দেশে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি Kolkata Knight Riders (কেকেআর) বাংলাদেশি পেসার Mustafizur Rahman–কে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। কেকেআরের গুরুত্বপূর্ণ রিক্রুট মোস্তাফিজকে ঘিরে ভারতের ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর আপত্তি শেষ পর্যন্ত ‘উইকেট’ ফেলার মতো করেই নিষ্পত্তি পায়—এমন ইঙ্গিতই দেয় সম্পাদকীয়।মৌলিক দুই প্রশ্নএই প্রেক্ষাপটে দুইটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে। প্রথমত, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েনে খেলাধুলাকেই কি বলির পাঁঠা বানানো উচিত? উত্তর স্পষ্ট—না। ইতিহাস বলছে, খেলাধুলা বহুবার কূটনৈতিক বরফ গলানোর হাতিয়ার হয়েছে। ভারত–পাকিস্তানের ‘ক্রিকেট কূটনীতি’ তার জ্বলন্ত উদাহরণ। প্রতিবেশীর উদ্বেগ উপেক্ষা করে দরজা বন্ধ করে দেওয়া শেষ পর্যন্ত চিৎকার, বিভাজন ও উগ্রতার শক্তির কাছেই আত্মসমর্পণ—এমনটাই মনে করে টেলিগ্রাফ।দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের উদ্বেগ ও আপত্তি নিয়ে ভারত কি বাস্তবিক ও নৈতিক—দুই দিক থেকেই যথেষ্ট চেষ্টা করেছে? সম্পাদকীয়র মতে, ভারত আরও ভালো করতে পারত। কারণ আইসিসির নেতৃত্বে ভারতের প্রভাব অস্বীকার করা যায় না—সংস্থাটির আর্থিক কাঠামোও ভারতের বাজারের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। এই বাস্তবতায় আরও নমনীয় ও সমন্বয়মূলক অবস্থান নিলে ফল ভিন্ন হতে পারত।দ্বিমুখী মানদণ্ডের অভিযোগটেলিগ্রাফ স্মরণ করিয়ে দেয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি ভারতের দাবির কাছেই নতিস্বীকার করেছিল। এই দৃষ্টান্ত দেখিয়ে সম্পাদকীয় প্রশ্ন তোলে—নীতিগত অবস্থান কি সবার জন্য সমান? সারকথা সহজ: নীতিগতভাবে খেলাধুলা কখনোই রাজনীতির খেলার মাঠ হওয়া উচিত নয়। অথচ বাস্তবে ভারতসহ সব ক্রীড়াপ্রধান দেশই কমবেশি এই দোষে দুষ্ট। এশীয় ক্রিকেটে যে অনুপ্রেরণাদায়ী সংহতি একসময় ছিল, দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনায় তা আজ ভেঙে পড়ছে—এটাই সবচেয়ে বড় ক্ষতি। ক্রিকেটের সৌন্দর্য রক্ষা করতে হলে, পিচকে রাজনীতির কাদামাটি থেকে মুক্ত রাখাই একমাত্র পথ।
২৯ জানুয়ারি ২০২৬

তাজমহল: শোক, ভালোবাসা ও অমরত্ব : এক সম্রাটের হৃদয় থেকে জন্ম নেওয়া স্থাপত্য মহাকাব্য

Taj Mahal বিশ্বের ইতিহাসে শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি এক আবেগময় দলিল। সাদা মার্বেলে নির্মিত এই সমাধিসৌধ মানুষের ভালোবাসা, শোক, আনুগত্য ও স্মৃতিকে পাথরের ভাষায় রূপ দিয়েছে। ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া এই মহাকীর্তি আজ ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান, যা প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।কিন্তু এই সৌন্দর্যের পেছনে আছে এক গভীর বেদনার গল্প, এক শোকাহত স্বামীর গল্প, যিনি তাঁর প্রয়াত স্ত্রীকে সম্মান জানাতে এমন এক স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন, যা চিরন্তন ভালোবাসা ও নিবেদনের প্রতীক হয়ে থাকবে।মুঘল সাম্রাজ্য ও স্বর্ণযুগের প্রেক্ষাপটমুঘল সাম্রাজ্য ছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও শক্তিশালী রাজবংশ। ষোড়শ শতাব্দীর শুরু থেকে উনিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত তারা ভারতীয় উপমহাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল শাসন করেছে। এই সাম্রাজ্যের শাসকেরা শুধু যুদ্ধজয়ী ছিলেন না; তাঁরা ছিলেন শিল্প, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের মহান পৃষ্ঠপোষক।এই ধারার শীর্ষে ছিলেন Shah Jahan (১৫৯২–১৬৬৬)। তিনি ১৬২৮ থেকে ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্য শাসন করেন। তাঁর শাসনকালকে মুঘল ইতিহাসের স্বর্ণযুগ বলা হয়, যে সময়ে স্থাপত্য, নান্দনিকতা ও সাংস্কৃতিক উৎকর্ষ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। লাল কেল্লা, জামে মসজিদ, এসব ছিল তাঁর ক্ষমতা ও রুচির প্রকাশ; কিন্তু তাজমহল ছিল তাঁর হৃদয়ের ভাষা।শাসনামলের আরেকটি দিক ছিল দাক্ষিণাত মালভূমিতে অবস্থিত পারস্য-ঘেঁষা মুসলিম সুলতানাতগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান। সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে এসব যুদ্ধ চলছিল নিরবচ্ছিন্নভাবে।যুবরাজ খুররম ও এক অনন্য ভালোবাসার শুরুশাহজাহানের জন্মনাম ছিল শাহাব-উদ-দীন মুহাম্মদ খুররম। ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দে জন্ম নেওয়া এই রাজপুত্র ১৬০৭ সালে বাগদান করেন আরজুমান্দ বানু বেগমের সঙ্গে। সে সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর।আরজুমান্দ বানু বেগমের জন্ম আগ্রায়, এক পারস্যীয় অভিজাত পরিবারে। তিনি ছিলেন আবু’ল-হাসান আসাফ খানের কন্যা—যিনি মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী অভিজাত ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। আসাফ খান শুধু একজন রাজপুরুষই নন; তিনি রাজনীতি ও দরবারি কূটনীতিতে অত্যন্ত দক্ষ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জাহাঙ্গীরের শাসনামল থেকে শুরু করে শাহজাহানের সিংহাসনে আরোহণ পর্যন্ত তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।১৬১২ খ্রিস্টাব্দের ১০ মে, দরবারি জ্যোতিষীদের মতে শুভ ক্ষণে, খুররম ও আরজুমান্দ বানু বেগমের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহোত্তর উৎসব শেষে যুবরাজ তাঁর স্ত্রীকে যে উপাধি দেন, তা ইতিহাসে অমর হয়ে আছে মুমতাজ মহল, অর্থাৎ “প্রাসাদের নির্বাচিতা”।মুমতাজ মহল: সম্রাজ্ঞী, পরামর্শদাতা ও মানবদরদী নারীমুমতাজ মহল ছিলেন শাহজাহানের তৃতীয় স্ত্রী। কিন্তু তাঁর প্রতি সম্রাটের ভালোবাসা ও অনুরাগ এতটাই গভীর ছিল যে, অন্য স্ত্রীদের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক প্রায় উপেক্ষিতই থেকে যায়। মুমতাজ ছিলেন তাঁর আবেগের কেন্দ্র, আস্থার আশ্রয়।১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে শাহজাহানের সিংহাসনে আরোহণের পর মুমতাজ মহল সম্রাজ্ঞীর মর্যাদা লাভ করেন। তবু তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেননি। বরং তিনি ছিলেন স্বামীর নীরব উপদেষ্টা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষক। দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষের পক্ষে তিনি প্রায়ই দরবারে হস্তক্ষেপ করতেন।রাজকীয় দায়িত্ব হিসেবে উত্তরাধিকার প্রদান ছিল তাঁর প্রধান কর্তব্য। ১৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাঁদের ১৪টি সন্তান জন্ম নেয় আট পুত্র ও ছয় কন্যা। এর মধ্যে সাতজন জন্মের সময় বা শৈশবে মারা যায়। এই বারবার সন্তান ধারণ ও হারানোর মধ্যেও মুমতাজ মহল ছিলেন স্বামীর অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী।এমনকি সামরিক অভিযানের সময়ও তিনি শাহজাহানের সফরসঙ্গী হতেন। দরবারি ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করেছেন—তাঁদের সম্পর্ক ছিল গভীর, আবেগময় ও অন্তরঙ্গ; এক সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীর মধ্যে এমন নিবিড় সম্পর্ক ছিল বিরল।দাক্ষিণাত্য ও এক মর্মান্তিক পরিণতি১৬৩১ খ্রিস্টাব্দে, চতুর্দশ সন্তানের গর্ভে থাকা অবস্থায়, মুমতাজ মহল স্বামীর সঙ্গে দাক্ষিণাত্য মালভূমিতে যান। সেখানেই, বর্তমান মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুরে, মুঘল বাহিনী অবস্থান করছিল।বুরহানপুরে পৌঁছানোর পরপরই তাঁর প্রসব বেদনা শুরু হয়। টানা ৩০ ঘণ্টার যন্ত্রণাদায়ক প্রসবের পর, ১৬৩১ খ্রিস্টাব্দের ১৭ জুন তিনি প্রসবজনিত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যুবরণ করেন। সদ্যজাত কন্যার নাম ছিল গওহারা বেগম। মৃত্যুকালে মুমতাজ মহলের বয়স ছিল ৩৮ বছর।প্রথমে তাঁকে বুরহানপুরের তাপ্তি নদীর তীরে জাইনাবাদ নামক একটি প্রাচীরবেষ্টিত বাগানে অস্থায়ীভাবে সমাহিত করা হয়। কিন্তু শাহজাহানের কাছে এটি কখনোই তাঁর স্ত্রীর চূড়ান্ত বিশ্রামস্থল হওয়ার কথা ছিল না।শোকের গভীরতা ও তাজমহলের পরিকল্পনাসম্রাটের নির্দেশে ডিসেম্বর ১৬৩১-এ মুমতাজ মহলের দেহাবশেষ উত্তোলন করে সোনার কফিনে ভরে আগ্রায় আনা হয়। পুত্র শাহ সুজার তত্ত্বাবধানে সেই কফিন যমুনা নদীর তীরে একটি ছোট ভবনে পুনরায় দাফন করা হয়। এদিকে শাহজাহান আবার যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যান।বিদ্রোহ দমন শেষে বিজয়ী হলেও, তাঁর অন্তর শান্ত হয়নি। ইতিহাসবিদদের বর্ণনায়, এই সময় তিনি গভীর বিষণ্নতায় নিমজ্জিত হন। প্রায় এক বছর তিনি নিজেকে নিভৃত করে রাখেন। তাঁর চুল পেকে যায়, চোখে স্থায়ী শোকের ছাপ বসে।এই শোক থেকেই জন্ম নেয় এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, মুমতাজ মহলের জন্য এমন একটি সমাধিসৌধ নির্মাণ, যা ভালোবাসাকে অমর করে রাখবে।তাজমহল: নির্মাণ, শ্রম ও শিল্পযমুনা নদীর তীরের সেই সমাধিস্থলেই ধীরে ধীরে তাজমহলের অবয়ব গড়ে ওঠে। নির্মাণকাজ চলে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে।প্রায় ৩২২ কিলোমিটার দূরের খনি থেকে সাদা মার্বেল আনা হয় হাতি দিয়ে বহন করে। হাজার হাজার শ্রমিক, কারিগর, স্থপতি ও শিল্পী এতে যুক্ত ছিলেন।দক্ষ ক্যালিগ্রাফাররা কুরআনের আয়াত উৎকীর্ণ করেন মার্বেলের গায়ে, ভবনের বাইরের অংশে ও অভ্যন্তরে। পাথরশিল্পীরা নিখুঁত ফুলেল নকশা ও জ্যামিতিক অলংকরণ খোদাই করে তাতে বসান মূল্যবান ও দুর্লভ পাথর। পারস্য, ইসলামি ও ভারতীয় নান্দনিকতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটে এই স্থাপত্যে।১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে তাজমহলের নির্মাণ সম্পন্ন হয় এর নির্মাতার জীবদ্দশাতেই। শাহজাহান এমন এক স্থাপনা উপহার দেন পৃথিবীকে, যা ভালোবাসা, নিবেদন ও বেদনার স্থায়ী প্রতীক হয়ে ওঠে।সমাধির নীরবতা ও শেষ অধ্যায়তাজমহলের কেন্দ্রে যে সমাধিফলক দেখা যায়, তা প্রতীকী। মুমতাজ মহলের প্রকৃত দেহাবশেষ রয়েছে নিচের ক্রিপ্টে—নীরব, অদৃশ্য, অথচ চিরস্থায়ী।তাজমহল সম্পন্ন হওয়ার কিছুদিন পরই শাহজাহান অসুস্থ হয়ে পড়েন। চার পুত্রের মধ্যে সিংহাসনের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত আওরঙ্গজেব বিজয়ী হন এবং পিতাকে আগ্রা দুর্গে গৃহবন্দি করে রাখেন। বলা হয়, দুর্গের জানালা দিয়ে প্রতিদিন তিনি যমুনার ওপারে তাজমহলের দিকে তাকিয়ে থাকতেন।১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল, মুমতাজ মহলের পাশে সমাহিত হওয়া। আওরঙ্গজেব সেই ইচ্ছা পূরণ করেন। আজ তাঁদের দু’জনের নাম পাশাপাশি, নিচের নীরব সমাধিতে।তাজমহল আজআজ তাজমহল বিশ্বের সাতটি আশ্চর্যের একটি। ১৯৯৩ সালে UNESCO পুরো সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে। ২০২৪–২০২৫ সালে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ এটি পরিদর্শন করেছে, এটি ভারতের সর্বাধিক দর্শনীয় স্মৃতিসৌধ।তাজমহল আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সাম্রাজ্য পতিত হয়, ক্ষমতা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়; কিন্তু গভীর ভালোবাসা পাথরের গায়েও অমর হয়ে থাকতে পারে।
২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ইসরাইলের অভিযানে গাজায় ২০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত

ইসরাইলের অভিযানে গাজায় ২০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত

ইসরাইলি সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে গাজায় তাদের সামরিক অভিযানে প্রায় ২০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক আক্রমণের পর ইসরাইল গাজায় ব্যাপক অভিযান শুরু করে।ইসরাইলি সেনাদের দাবি, নিহতদের মধ্যে অনেকেই সশস্ত্র যোদ্ধা হলেও সাধারণ মানুষও প্রাণ হারিয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার বেসামরিক মানুষের মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক মহলে ইসরাইলের এই স্বীকারোক্তি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে মানবাধিকার সংস্থার তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারে। গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসার সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
৩১ জানুয়ারি ২০২৬
তারেক রহমানকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের বিশেষ প্রতিবেদন

তারেক রহমানকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের বিশেষ প্রতিবেদন

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন তারেক রহমান। তাঁকে ঘিরে একটি বিস্তৃত বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী Time। প্রতিবেদনে তারেক রহমানকে আখ্যা দেওয়া হয়েছে “Bangladesh’s Prodigal Son”—বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনকারী উত্তরাধিকারী হিসেবে।টাইম লিখেছে, কণ্ঠস্বর ভাঙা ও শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকায় ফেরার ব্যাপারে তারেক রহমান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশে ফেরার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর মা, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর মৃত্যু তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে নাড়া দিলেও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে তিনি অনড় রয়েছেন।টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দেশের মানুষ আমাকে যে আস্থা দিয়েছে, সেটাই রাজনীতিতে থাকার প্রধান কারণ।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কেবল পারিবারিক পরিচয়ের কারণে রাজনীতিতে নেই; বরং দলের তৃণমূল সমর্থকরাই তাঁকে নেতৃত্বে এনেছে। দেশে ফেরার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সাক্ষাৎকার।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমান স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকা প্রার্থী। সাম্প্রতিক জনমত জরিপের তথ্য তুলে ধরে টাইম জানায়, তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র প্রতি প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে। অন্যদিকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী–র সমর্থন মাত্র ১৯ শতাংশ।তবে প্রতিবেদনে আশার পাশাপাশি উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে। অতীতে বিএনপির শাসনামলে দুর্নীতির অভিযোগ—বিশেষ করে আলোচিত বৈদ্যুতিক খাম্বা বিতর্ক—এখনো তারেক রহমানকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে টাইম।সব ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে তারেক রহমান বলেন, আগের মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলো বাতিল করেছে। তাঁর ভাষায়, “কেউ অপরাধ করলে বিচার হবে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দিয়ে দেশ চালানো যায় না।”প্রায় ৩ হাজার ৩০০ শব্দের এই দীর্ঘ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বিশ্লেষণ করেছে টাইম। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, টাকার অবমূল্যায়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং ক্রমবর্ধমান যুব বেকারত্বকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করলেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না—যা তারেক রহমানের নেতৃত্বের জন্য বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।নীতিগতভাবে তারেক রহমানকে একজন টেকনোক্র্যাটিক রাজনীতিক হিসেবে উপস্থাপন করেছে টাইম। তিনি খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, ঢাকায় নতুন সবুজ অঞ্চল তৈরি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে অংশীদারত্বের মতো পরিকল্পনার কথা বলেছেন।তারেক রহমানের মতে, “এই পরিকল্পনার ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারলেও জনগণ আমাকে সমর্থন করবে।”প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার শাসনকে স্বৈরাচারী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর, ছাত্র আন্দোলন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ইসলামপন্থি রাজনীতির উত্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টা এখনো অসম্পূর্ণ এবং নির্বাচন–পরবর্তী বাংলাদেশ কোন পথে যাবে—সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।তারেক রহমান নিজেকে তুলনামূলকভাবে নরম ও শ্রোতা-মনস্ক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তাঁর ভাষায়, রাস্তায় মানুষ যেন নিরাপদ থাকে এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে—এটাই তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, আজ কাউকে নিষিদ্ধ করলে কাল অন্যকেও নিষিদ্ধ করা হতে পারে।টাইম ম্যাগাজিনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে আশার সঞ্চার করেছে। তবে অতীতের ভার, দলীয় শৃঙ্খলা এবং কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা—এই তিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে সেই আশা দ্রুতই ম্লান হয়ে যেতে পারে।প্রতিবেদনের শেষাংশে তারেক রহমান জনপ্রিয় স্পাইডার–ম্যান সিনেমার একটি সংলাপ উদ্ধৃত করে বলেন, “বড় ক্ষমতার সঙ্গে বড় দায়িত্বও আসে। আমি মনেপ্রাণে এটি বিশ্বাস করি।” সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন
২৮ জানুয়ারি ২০২৬
অবশেষে প্রকাশিত হলো ৩০ লাখ পৃষ্ঠার ‘এপস্টেইন ফাইলস’, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

অবশেষে প্রকাশিত হলো ৩০ লাখ পৃষ্ঠার ‘এপস্টেইন ফাইলস’, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত জেফ্রি এপস্টেইন কেলেঙ্কারি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। দীর্ঘদিনের চাপ ও জনমতের দাবির মুখে অবশেষে মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) প্রকাশ করেছে প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি, যা এখন পরিচিত হচ্ছে ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে। এই বিশাল নথিপত্রে রয়েছে দুই হাজারেরও বেশি ভিডিও এবং প্রায় এক লাখ আশি হাজার ছবি। ফ্লোরিডা ও নিউ ইয়র্কের মামলার নথি, গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল মামলার নথি এবং এপস্টেইনের মৃত্যুর তদন্ত সম্পর্কিত নথি এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।প্রকাশিত নথি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। সমালোচকরা অভিযোগ করছেন, বিচার বিভাগ ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য গোপন রেখেছে। বিশেষ করে এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য অপরাধীদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। বিচার বিভাগ বলছে, ভুক্তভোগীদের অধিকার ও শিশু নির্যাতন সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্যের কারণে সব নথি প্রকাশ করা সম্ভব নয়।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত নভেম্বরে স্বাক্ষর করেন Epstein Files Transparency Act, যা বিচার বিভাগকে নথি প্রকাশে বাধ্য করে। তবে বিলম্বিত প্রকাশের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্যই এই বিলম্ব করা হয়েছে। এই প্রকাশনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও স্বচ্ছতা বনাম গোপনীয়তা নিয়ে বড় বিতর্ক শুরু হয়েছে। লাখো নথি প্রকাশিত হলেও মূল প্রশ্ন—কারা এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত ছিল—তার উত্তর এখনো অজানা। ভুক্তভোগীদের জন্য এটি আংশিক স্বস্তি হলেও জনসাধারণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে যে আসল অপরাধীদের নাম গোপন রাখা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে আরও নথি প্রকাশের দাবি আরও জোরালো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৩১ জানুয়ারি ২০২৬
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
আগামী নির্বাচনে আপনি হ্যা ভোট দিবেন নাকি না ভোট দিবেন?

আগামী নির্বাচনে আপনি হ্যা ভোট দিবেন নাকি না ভোট দিবেন?

  হ্যা ভোট
  না ভোট
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
শীত পড়তেই অসুস্থ হচ্ছেন বাড়ির বয়স্কেরা? দুর্বল হার্ট, শ্বাসকষ্ট থাকলে কী কী খাওয়াবেন

শীত পড়তেই অসুস্থ হচ্ছেন বাড়ির বয়স্কেরা? দুর্বল হার্ট, শ্বাসকষ্ট থাকলে কী কী খাওয়াবেন

শীত এলেই বাড়ির বয়স্ক সদস্যদের অসুস্থতা যেন বাড়তি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে যায়। বাংলাদেশে শীতকালে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণে প্রবীণদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস ও সর্দি-কাশির প্রকোপ বেড়ে যায়—এমন তথ্য চিকিৎসকরাও নিয়মিত উল্লেখ করে থাকেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স ৬০ পেরোলেই শরীরের ইমিউন সিস্টেম ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে। এই অবস্থায় শীতকালীন সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, হাঁপানি অ্যাটাক কিংবা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।শীতকালে বয়স্করা কেন বেশি অসুস্থ হনবাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী— ঠান্ডায় রক্তনালি সংকুচিত হয়, ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায় শীতকালে পানি কম খাওয়ার কারণে ডিহাইড্রেশন ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয় ঠান্ডা বাতাসে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় শরীর কম নড়াচড়া করায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয় বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই হার্ট দুর্বল, হাঁপানি বা ডায়াবিটিস আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি দ্বিগুণ।‘ইটিং ডিজঅর্ডার’ বেশি হয় বয়স্কদেরইচিকিৎসকদের ভাষায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণদের মধ্যে Eating Disorder বা অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। বাংলাদেশে এটি বেশ সাধারণ একটি চিত্র— অনেক প্রবীণ নারী সংসারের কাজ সামলাতে গিয়ে নিজের খাবার বাদ দেন ওষুধ খাওয়ার সময় খাবার না খেয়ে ফেলেন আবার কেউ কেউ লুকিয়ে মিষ্টি, পিঠা, ভাজাপোড়া খেয়ে ফেলেন এর ফলেই দেখা দেয়— কোষ্ঠকাঠিন্য ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) গাঁটের ব্যথা হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়া বারবার সংক্রমণ শীতকালে বয়স্কদের জন্য উপযোগী খাবার (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)১. হার্ট দুর্বল হলে গরম দুধ (চিনি ছাড়া) ওটস বা লাল চালের ভাত (পরিমিত) সামুদ্রিক মাছ (রুই, কাতলা, ইলিশ নয়—চর্বি বেশি) বাদাম (ভেজানো চিনাবাদাম বা কাজু অল্প) ২. শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি থাকলে আদা ও তুলসী দিয়ে হালকা গরম পানি মধু (১ চা চামচ) সবজি স্যুপ (লাউ, কুমড়া, গাজর) হলুদ মেশানো গরম দুধ (রাতে) চিকিৎসকেরা বলেন, ঠান্ডা দই, সফট ড্রিংক ও বরফ দেওয়া খাবার হাঁপানির রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। ৩. ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে লাল আটা বা আটার রুটি শাকসবজি (পালং, লাল শাক, ডাটা শাক) পেঁপে, পেয়ারা, আপেল (পরিমিত) পর্যাপ্ত পানি (গরম বা কুসুম গরম) যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত অতিরিক্ত মিষ্টি ও পিঠা ভাজাপোড়া (শিঙাড়া, কচুরি) অতিরিক্ত লবণ ঠান্ডা পানীয় শীতকালে বয়স্কদের জন্য বাড়তি যত্ন নিয়মিত গরম কাপড় ব্যবহার সকালে হালকা রোদ পোহানো দিনে অন্তত ২০–৩০ মিনিট হাঁটা নির্দিষ্ট সময়ে খাবার ও ওষুধ খাওয়া উপসংহারশীতকালে বয়স্কদের সুস্থ রাখা শুধু ওষুধের বিষয় নয়—সঠিক খাবার, নিয়মিত রুটিন ও পরিবারের যত্নই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা। সময়মতো খাওয়াদাওয়া ও সচেতন জীবনযাপন করলে হার্ট, শ্বাসকষ্ট বা ডায়াবিটিস থাকলেও ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাদ্য বা ওষুধে বড় পরিবর্তন না করাই উত্তম।
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

নাইকোকে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় বড় ধরনের আইনি সাফল্য পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডীয় কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেসকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিড/ইকসিড)।পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বৃহস্পতিবার এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।পেট্রোবাংলার একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক রায়ে ইকসিড টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তী সময়ে কূপ খননের মাধ্যমে ১ হাজার ৯০ থেকে ১ হাজার ৯৭৫ মিটার গভীরতায় মোট নয়টি গ্যাস স্তর শনাক্ত করা হয়। এই গ্যাস ছাতক সিমেন্ট ও পেপার মিলে সরবরাহ করা হতো। প্রায় ২৬ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের পর কূপে পানি উঠে আসায় সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০০৩ সালে নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গ্যাসক্ষেত্রটি নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। খননকাজ শুরুর পর ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গ্যাসক্ষেত্রের বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।এ ঘটনায় পেট্রোবাংলা নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও কোম্পানিটি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ২০০৭ সালে স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলা করে পেট্রোবাংলা এবং নাইকোর ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস বিল পরিশোধ বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাইকোর্ট বাংলাদেশে থাকা নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টেও বাংলাদেশের পক্ষেই রায় আসে।এরপর আটকে রাখা গ্যাস বিল ও ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার অভিযোগে নাইকো ২০১০ সালে ইকসিডে দুটি মামলা করে। ২০১৪ সালের এক রায়ে ইকসিড পেট্রোবাংলাকে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেয়। পরে ২০১৬ সালে বাপেক্স নাইকোর বিরুদ্ধে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকা (প্রায় ১১৭ কোটি মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবিতে ইকসিডে মামলা করে। সেই মামলার চূড়ান্ত রায়েই এবার ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ এলো।আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে উল্লেখ করেছে, নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনাতেই খননকাজ পরিচালিত হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের মানদণ্ড অনুসরণে ব্যর্থ হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নেওয়ার কারণেই বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে এসব ঘটনার জন্য নাইকো সরাসরি দায়ী।উল্লেখ্য, ছাতক গ্যাসক্ষেত্রটি ছাতক পূর্ব ও ছাতক পশ্চিম (টেংরাটিলা) নামে দুটি অংশে বিভক্ত। অগ্নিকাণ্ডে ছাতক পশ্চিম অংশের একটি স্তরের গ্যাস পুড়ে গেলেও অন্যান্য স্তর এবং ছাতক পূর্ব অংশের গ্যাস মজুদ অক্ষত রয়েছে। এই গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদ ২ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বলে ধারণা করা হয়। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত রয়েছে। ইকসিডের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় থাকা হয়েছিল। এখন আইনজীবীদের মতামত নিয়ে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
২৫ নভেম্বর ২০২৫
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা অনুদান অনুমোদন

শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা অনুদান অনুমোদন

২৫ নভেম্বর ২০২৫
ঘরেই বানান পুরান ঢাকার হাজির বিরিয়ানিঃ শতবর্ষের ঐতিহ্যের স্বাদ

ঘরেই বানান পুরান ঢাকার হাজির বিরিয়ানিঃ শতবর্ষের ঐতিহ্যের স্বাদ

পুরান ঢাকার হাজির বিরিয়ানি—নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সুগন্ধি চাল, নরম গরুর মাংস, আলুর মোটা টুকরো আর ঘি-আতরের অনন্য সুবাস। শত বছরের ঐতিহ্যে গড়া এই বিরিয়ানির স্বাদ অন্য যেকোনো বিরিয়ানি থেকে একেবারেই আলাদা। আজ গণবার্তার পাঠকদের জন্য রইল ঘরে বসেই হাজির বিরিয়ানির কাছাকাছি স্বাদের সহজ ও অথেন্টিক রেসিপি।কেন হাজির বিরিয়ানি আলাদা?✔️ টমেটো একেবারেই ব্যবহার হয় না ✔️ ঝাল কম, সুগন্ধ বেশি ✔️ দই ও ঘি-নির্ভর রান্না ✔️ চাল ও কাঁচা মাংস একসঙ্গে দমে রান্নাপ্রয়োজনীয় উপকরণ (৪–৫ জনের জন্য)গরুর মাংস ও মেরিনেশন গরুর মাংস (হাড়সহ, মাঝারি টুকরো) – ১ কেজি টক দই – ১ কাপ পেঁয়াজ বাটা – ১ কাপ আদা বাটা – ২ টেবিল চামচ রসুন বাটা – ২ টেবিল চামচ লবণ – স্বাদমতো লাল মরিচ গুঁড়া – ১ চা চামচ (হালকা ঝাল) গোলমরিচ গুঁড়া – ১ চা চামচ জিরা গুঁড়া – ১ চা চামচ ধনে গুঁড়া – ১ চা চামচ জয়ত্রী গুঁড়া – ¼ চা চামচ জায়ফল গুঁড়া – ¼ চা চামচ ঘি – ½ কাপ কাঁচা মরিচ – ৬–৮টি (লম্বালম্বি ফাটা) মেরিনেট করার সহজ নিয়মসব উপকরণ একসঙ্গে একটি বড় বাটিতে নিয়ে ভালো করে হাত দিয়ে মাখিয়ে নিন। ঢেকে রেখে দিন কমপক্ষে ২–৩ ঘণ্টা, সময় পেলে রাতভর রাখলে স্বাদ আরও ভালো হবে। আলু বড় আলু – ৫–৬টি লবণ – সামান্য হলুদ – এক চিমটি তেল – ভাজার জন্য আলু অর্ধেক করে কেটে লবণ ও হলুদ মেখে হালকা বাদামি করে ভেজে আলাদা রাখুন।চাল বাসমতি বা চিনিগুঁড়া চাল – ৭৫০ গ্রাম লবণ – পরিমিত তেজপাতা – ৩টি দারুচিনি – ২ টুকরো এলাচ – ৫–৬টি লবঙ্গ – ৬–৭টি চাল ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।বড় হাঁড়িতে পানি ফুটিয়ে সব মসলা ও লবণ দিয়ে চাল ৭০% সেদ্ধ করুন।চাল ভেঙে গেলে নামিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন।দম দেওয়ার প্রস্তুতি (সুগন্ধের আসল রহস্য) পেঁয়াজ বেরেস্তা – ১ কাপ ঘি – ৩–৪ টেবিল চামচ কেওড়া জল – ১ চা চামচ গোলাপ জল – ১ চা চামচ জাফরান বা মিঠা আতর – সামান্য (ঐচ্ছিক) রান্নার ধাপ (একদম সহজ করে)ধাপ–১চুলায় একটি ভারী তলার পাতিল বসান। পাতিলের তলায় মেরিনেট করা কাঁচা মাংস সমান করে বিছিয়ে দিন।ধাপ–২মাংসের ওপর ভাজা আলু সুন্দর করে সাজান।ধাপ–৩এর ওপর আধা সেদ্ধ চাল ঢেলে সমান করে দিন।ধাপ–৪চালের ওপর ছড়িয়ে দিন— ✔️ বেরেস্তা ✔️ ঘি ✔️ কেওড়া জল ✔️ গোলাপ জল ✔️ আতর বা জাফরান (যদি ব্যবহার করেন)ধাপ–৫পাতিলের মুখ শক্ত করে ঢেকে দিন। (ইচ্ছা করলে ঢাকনার চারপাশে আটার লেই দিয়ে সিল করতে পারেন)দম দেওয়ার নিয়ম (হাজির স্টাইল)- প্রথম ১০ মিনিট – মাঝারি আঁচ- পরের ৪৫–৫০ মিনিট – একদম অল্প আঁচ- এই সময় ঢাকনা খুলবেন নাচুলা বন্ধ করে আরও ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ধীরে ধীরে নিচ থেকে ওপরে তুলে মেশান।পরিবেশন করুন যেভাবে ঠান্ডা বোরহানি কাঁচা পেঁয়াজ শসা লেবু হালকা মিন্ট-চাটনি হাজিরের স্বাদ পেতে জরুরি টিপস✔️ টমেটো কখনোই দেবেন না ✔️ বেশি ঝাল নয়, সুগন্ধই আসল ✔️ মসলা কম, কিন্তু ব্যালান্স জরুরি ✔️ গরুর মাংস অবশ্যই ফ্রেশ ও হাড়সহউপসংহার পুরান ঢাকার হাজির বিরিয়ানি শুধু একটি খাবার নয়—এটি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আবেগের নাম। সঠিক উপকরণ, ধৈর্য আর দমের যত্ন নিলে ঘরেই তৈরি করা সম্ভব হাজির বিরিয়ানির সেই কিংবদন্তি স্বাদ।
১০ জানুয়ারি ২০২৬
কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় ট্রেন চলাচলে ১৪ নির্দেশনা জারি করল রেলওয়ে

কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় ট্রেন চলাচলে ১৪ নির্দেশনা জারি করল রেলওয়ে

আসন্ন শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার ফলে ট্রেন পরিচালনায় ঝুঁকি বাড়তে পারে জানিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৪টি বিশেষ সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে। ঘন কুয়াশায় সিগন্যাল, লেভেল ক্রসিং বা রেললাইনের প্রতিবন্ধকতা দৃশ্যমান না হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বিবেচনায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি রেলওয়ের ডেপুটি চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পশ্চিম) মোছা. আরফিন নাহার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নির্দেশনাগুলো পাকশী ও লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজারদের কাছে পাঠানো হয়।চিঠিতে বলা হয়, শীতকালে বিশেষ করে রাতে কুয়াশার ঘনত্ব বৃদ্ধির কারণে স্টেশন মাস্টার থেকে শুরু করে ট্রেন পরিচালনা–সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবেন। জিআর-৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ এবং এসআর-২৯, ৩১, ৩২, ৩৫–এর বিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।কুয়াশায় ট্রেন চলাচলে রেলের ১৪ নির্দেশনা১. সেকশনভিত্তিক কুয়াশার পরিস্থিতি জেনে টিএনএলের ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রয়োজনে লোকোমাস্টারকে কশন অর্ডার (ওপিটি-৮০) পাঠানো। ২. স্টেশন মাস্টাররা লেভেল ক্রসিং চিহ্নিত করে কুয়াশাচ্ছন্ন এলাকায় কশন অর্ডার ইস্যু করবেন। ৩. নিজ স্টেশনে কুয়াশা থাকলে পাশের স্টেশন ও কন্ট্রোল অফিসকে তাৎক্ষণিক জানাতে হবে। ৪. ঘন কুয়াশায় বিধি অনুযায়ী ফগ সিগন্যাল ব্যবহার এবং লেভেল ক্রসিং বন্ধ আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে ট্রেন পার করানো। ৫. লোকোমাস্টার ও গার্ডরা কুয়াশাচ্ছন্ন এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় ট্রেন চালাবেন। ৬. রাতে ট্রেন ছাড়ার আগে এলএম ও গার্ডের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে চার্টে লিপিবদ্ধ করতে হবে। ৭. স্টেশন মাস্টার ব্যতীত অন্য কেউ যেন লাইন ক্লিয়ার না দেন—টিএনএলদের এ বিষয়টি যাচাইয়ের নির্দেশ। ৮. পার্শ্ববর্তী স্টেশন মাস্টার ছাড়া কারও সাথে লাইন ক্লিয়ার আদান–প্রদান করা যাবে না। ৯. টেইল ল্যাম্প/বোর্ড ঠিকমতো যুক্ত না থাকলে বা গার্ডের প্রত্যয়ন ছাড়া ট্রেন ইনরিপোর্ট দেওয়া যাবে না। ১০. নন-ইন্টারলকড স্টেশনে দুটি ট্রেনের ক্রসিংয়ে সঠিক পয়েন্ট সেটিং নিশ্চিত করতে হবে। ১১. বিরতিহীন স্টেশনে ক্রসিংয়ের সময় উভয় ট্রেনকে আউটার সিগন্যালে থামিয়ে গুরুত্ব অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া। ১২. শীত মৌসুমে রাতের নৈশ সংকেত পরিদর্শন ঘন ঘন করতে হবে। ১৩. দীর্ঘমেয়াদি কুয়াশার সময়ে জরুরি সেল খোলা ও ঢাকা কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ বাধ্যতামূলক। ১৪. স্টেশনে পর্যাপ্ত ফগ সিগন্যালের মজুত রাখতে হবে এবং ব্যবহারের নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হবে।দুর্ঘটনা প্রতিরোধই মূল লক্ষ্য রেলওয়ে বলছে, কুয়াশায় সিগন্যালের আলো ঝাপসা হয়ে যাওয়া বা লেভেল ক্রসিং দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই সুষ্ঠু ও নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে সমস্ত কর্মকর্তা–কর্মচারীকে নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
২৫ নভেম্বর ২০২৫
অ্যামাজন–আলিবাবায় সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা

অ্যামাজন–আলিবাবায় সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বৈশ্বিক ই–কমার্স বাজারে বড় সুযোগ উন্মুক্ত হলো। অনলাইনভিত্তিক রপ্তানি বাড়াতে বিজনেস-টু-বিজনেস-টু-কনজিউমার (বি২বি২সি) মডেলের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে উদ্যোক্তারা এখন অ্যামাজন, আলিবাবা, ফ্লিপকার্টসহ আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত ই–কমার্স প্ল্যাটফর্মে সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।কী বলা হয়েছে নতুন প্রজ্ঞাপনে?নতুন নিয়ম অনুযায়ী— দেশের যেকোনো রপ্তানিকারক এখন সুপরিচিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস, সাবসিডিয়ারি বা তৃতীয় পক্ষের ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে পণ্য পাঠাতে পারবেন। বিদেশি কনসাইনি চূড়ান্ত ক্রেতা না হয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করতে পারবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা আন্তর্জাতিক ওয়্যারহাউসে রেজিস্ট্রেশনের প্রমাণপত্র এডি ব্যাংকে জমা দিতে হবে। বি২বি২সি মডেলে স্বাভাবিক বিক্রয়চুক্তি না থাকায় প্রফর্মা ইনভয়েসের ভিত্তিতে ন্যায্যমূল্য ঘোষণা করা যাবে। ওয়্যারহাউজিং বা অন্যান্য সেবা প্রদানকারী কনসাইনির নামে শিপিং ডকুমেন্ট গ্রহণ করতে পারবে এডি ব্যাংক। রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে নতুন সুবিধাবাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে— রপ্তানি আয় স্বাভাবিক ব্যাংকিং চ্যানেলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর (যেমন PayPal, Payoneer ইত্যাদি) মাধ্যমে পাওয়া যাবে। অনলাইনভিত্তিক রপ্তানিতে একাধিক চালানের অর্থ একত্রে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে এডি ব্যাংক ফার্স্ট-ইন, ফার্স্ট-আউট (FIFO) নীতিতে রপ্তানি আয় সমন্বয় করবে। কীভাবে উপকৃত হবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা?নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে— আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি বিক্রির সুযোগ তৈরি হলো। ব্র্যান্ডিং, মূল্য নির্ধারণ, প্রোডাক্ট ক্যাটালগ—এসব উদ্যোক্তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে রপ্তানির প্রয়োজন কমবে, লাভ বাড়বে। অ্যামাজন–আলিবাবা–ফ্লিপকার্টে নিজস্ব স্টোর খুলে রপ্তানির পথ সহজ হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামতখাত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে— আন্তসীমান্ত ই–কমার্স আরও সহজ হবে, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়বে, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে বড় ভূমিকা রাখবে, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল খুচরা বিক্রিতে বাংলাদেশি পণ্যের অংশগ্রহণ বাড়বে। তাদের মতে, সঠিক প্রস্তুতি, মানসম্মত পণ্য, আধুনিক লজিস্টিকস এবং সময়মতো ডেলিভারি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ দ্রুতই অনলাইন রপ্তানির বড় খেলোয়াড় হতে পারে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নীতিগত সমর্থন বাংলাদেশের উদ্যোক্তা, বিশেষ করে এসএমই খাতের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। সরাসরি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল রপ্তানি খাতে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।
অর্থনীতি প্রতিবেদক