ঢাকা    বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
গণবার্তা
সর্বশেষ

এএসপি ও স্বামীর বিরুদ্ধে বাসচালককে মারধরের অভিযোগ, পুলিশ বলছে ‘প্রোপাগান্ডা’

নওগাঁর সাপাহার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শ্যামলী রানী বর্মণ ও তাঁর স্বামী কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণের বিরুদ্ধে এক বাসচালককে অফিসে ডেকে নিয়ে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আহত বাসচালক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।ভুক্তভোগী বাসচালক বাদল জানান, তিনি ‘হিমাচল’ পরিবহনের একজন চালক। গত কয়েক দিন আগে রাজশাহীগামী একটি বাসে কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণ স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে ওঠেন। বাসে একটি সিট ফাঁকা থাকায় তিনি সেখানে বসেন। পরে দিঘার মোড়ে ওই সিটের নির্ধারিত যাত্রী উঠলে বাসের সুপারভাইজার জয়ন্ত বর্মণকে সিট ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন।এ সময় জয়ন্ত বর্মণ নিজেকে একজন সার্কেল এএসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। পরে চালক বাদলের সঙ্গেও তার বাকবিতণ্ডা হয়। ধানসুরা এলাকায় নামার আগে তিনি চালক ও সুপারভাইজারকে “দেখে নেওয়ার” হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।বাসচালক বাদলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ সাপাহারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নেন। তার ফোন ব্যবহার করে বাসচালক বাদলকে কল করে হুমকি দেওয়া হয়। রাত প্রায় ১০টার দিকে বাসটি পুনরায় সাপাহারে ফিরলে চালক বাদলকে বাসস্ট্যান্ড থেকে অফিসে ডেকে নেওয়া হয়।বাদলের অভিযোগ, অফিসে পৌঁছানোর পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ নিজ হাতে প্রথমে তাকে লাথি মারেন। তার স্বামী জয়ন্ত বর্মণও মারধরে যোগ দেন। পরে শ্যামলীর নির্দেশে কনস্টেবল আনন্দ বর্মণ একটি এসএস পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং একপর্যায়ে জ্ঞান হারান।বাদল আরও অভিযোগ করেন, আহত অবস্থায় সাপাহারের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না—এই শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন সোমবার তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশনে ঘটনাটি “পুলিশ কেইস” হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।বাসচালক বাদল বলেন,“এএসপি ম্যাডাম ও তার স্বামী আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে মারধর করেছে। বডিগার্ডকে বলা হয়েছে হাত-পা ভেঙে দিতে। আমি এর বিচার চাই।”এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিষয়টি ‘প্রোপাগান্ডা’ এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি ও বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
০৬ জানুয়ারি ২০২৬

নিজস্ব প্রযুক্তিতে এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘তাইমুর’-এর সফল পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান

ইলামাবাদ, ৩ জানুয়ারি:নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘তাইমুর’–এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছে পাকিস্তান। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।আইএসপিআর জানায়, ‘তাইমুর’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা পাকিস্তানের জাতীয় মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়নের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পাল্লায় উচ্চ নির্ভুলতার সঙ্গে শত্রুপক্ষের স্থল ও সমুদ্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রচলিত (কনভেনশনাল) ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং এতে ব্যবহৃত হয়েছে আধুনিক নেভিগেশন ও গাইডেন্স সিস্টেম। অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড্ডয়নের সক্ষমতার কারণে এটি শত্রুর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে এড়িয়ে যেতে পারে, যা একে কৌশলগতভাবে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।আইএসপিআর জানায়, এই ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রচলিত প্রতিরোধ ক্ষমতা ও অপারেশনাল নমনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি এই উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এই অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং পিএএফ দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন,“এ ধরনের সাফল্য প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা অর্জন এবং পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ শক্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে জাতির দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন।”পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও এই সফল পরীক্ষার জন্য পাকিস্তান বিমান বাহিনীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন,“স্থানীয়ভাবে উন্নত অস্ত্র প্রস্তুত করা জাতীয় সক্ষমতা, সংকল্প ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার সুস্পষ্ট প্রমাণ। এই সাফল্য জাতীয় প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করেছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তানের দায়িত্বশীল প্রতিরক্ষা নীতিকে জোরদার করেছে।”এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও ‘তাইমুর’ অস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষার জন্য পাকিস্তান বিমান বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, এর আগে পাকিস্তানের স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফেয়ার রিসার্চ কমিশন (সুপারকো)-এর পরিচালক শাফাত আলী ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, নিজস্ব প্রযুক্তি ও চীনের সহযোগিতায় চলতি বছরেই চাঁদে অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে পাকিস্তানের।
০৫ জানুয়ারি ২০২৬

মনোনয়ন যাচাই শেষে বৈধ প্রার্থী ১,৮৪২ জন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যাচাই শেষে সারাদেশে মোট ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।রোববার (৪ জানুয়ারি) ইসি থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩০০টি নির্বাচনী আসনে দাখিল হওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই করে এ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ৪০৬টি, যার মধ্যে ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।ইসি জানায়, যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনের তিনটি মনোনয়নপত্র কোনো যাচাই ছাড়াই কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।অঞ্চলভিত্তিক বৈধ প্রার্থীর সংখ্যাইসির তথ্য অনুযায়ী অঞ্চলভিত্তিক বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা হলো— ঢাকা অঞ্চল: ৩০৯ জন বৈধ, বাতিল ১৩৩ চট্টগ্রাম অঞ্চল: ১৩৮ জন বৈধ, বাতিল ৫৬ রাজশাহী অঞ্চল: ১৮৫ জন বৈধ, বাতিল ৭৪ খুলনা অঞ্চল: ১৯৬ জন বৈধ, বাতিল ৭৯ বরিশাল অঞ্চল: ১৩১ জন বৈধ, বাতিল ৩১ সিলেট অঞ্চল: ১১০ জন বৈধ, বাতিল ৩৬ ময়মনসিংহ অঞ্চল: ১৯৯ জন বৈধ, বাতিল ১১২ কুমিল্লা অঞ্চল: ২৫৯ জন বৈধ, বাতিল ৯৭ রংপুর অঞ্চল: ২১৯ জন বৈধ, বাতিল ৫৯ ফরিদপুর অঞ্চল: ৯৬ জন বৈধ, বাতিল ৪৬ ইসি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত এই তালিকার বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
০৪ জানুয়ারি ২০২৬
জেএফ-১৭ কেনা নিয়ে বৈঠক, মুখোমুখি বাংলাদেশ–পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধানরা

জেএফ-১৭ কেনা নিয়ে বৈঠক, মুখোমুখি বাংলাদেশ–পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধানরা

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধানদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য পাকিস্তানের তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ডন।আইএসপিআরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবার সিদ্দিকীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সফরকালে তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।বৈঠকে দুই দেশের বিমানবাহিনীর মধ্যে অপারেশনাল সহযোগিতা জোরদার, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অ্যারোস্পেস প্রযুক্তিতে যৌথ কাজের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।এ সময় পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে বুনিয়াদি থেকে শুরু করে উন্নত উড্ডয়ন ও বিশেষায়িত কোর্সসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়।সফররত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধানকে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।বৈঠকে এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা ও অপারেশনাল দক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি এসব অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী উপকৃত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পুরোনো উড়োজাহাজ বহরের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা এবং আকাশসীমা নজরদারি জোরদারে এয়ার ডিফেন্স রাডার একীভূতকরণের বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন।বৈঠকে বিশেষভাবে আলোচনায় আসে পাকিস্তানের তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সম্ভাব্য ক্রয়ের বিষয়টি। এ ছাড়া প্রতিনিধি দল পাকিস্তান বিমানবাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করে।আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করবে।উল্লেখ্য, জেএফ-১৭ থান্ডার একটি হালকা ও আধুনিক যুদ্ধবিমান, যা দিন-রাতে এবং সব ধরনের আবহাওয়ায় আঘাত হানতে সক্ষম। যুদ্ধবিমানটি পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স (পিএসি) ও চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি।
০৬ জানুয়ারি ২০২৬
জেএফ-১৭ কেনা নিয়ে বৈঠক, মুখোমুখি বাংলাদেশ–পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধানরা

জেএফ-১৭ কেনা নিয়ে বৈঠক, মুখোমুখি বাংলাদেশ–পাকিস্তান বিমানবাহিনী প্রধানরা

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধানদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য পাকিস্তানের তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ডন।আইএসপিআরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবার সিদ্দিকীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সফরকালে তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।বৈঠকে দুই দেশের বিমানবাহিনীর মধ্যে অপারেশনাল সহযোগিতা জোরদার, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অ্যারোস্পেস প্রযুক্তিতে যৌথ কাজের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।এ সময় পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে বুনিয়াদি থেকে শুরু করে উন্নত উড্ডয়ন ও বিশেষায়িত কোর্সসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়।সফররত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধানকে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।বৈঠকে এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা ও অপারেশনাল দক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি এসব অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী উপকৃত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পুরোনো উড়োজাহাজ বহরের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা এবং আকাশসীমা নজরদারি জোরদারে এয়ার ডিফেন্স রাডার একীভূতকরণের বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন।বৈঠকে বিশেষভাবে আলোচনায় আসে পাকিস্তানের তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সম্ভাব্য ক্রয়ের বিষয়টি। এ ছাড়া প্রতিনিধি দল পাকিস্তান বিমানবাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করে।আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করবে।উল্লেখ্য, জেএফ-১৭ থান্ডার একটি হালকা ও আধুনিক যুদ্ধবিমান, যা দিন-রাতে এবং সব ধরনের আবহাওয়ায় আঘাত হানতে সক্ষম। যুদ্ধবিমানটি পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স (পিএসি) ও চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি।
০৬ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রযুক্তিতে এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘তাইমুর’-এর সফল পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান

নিজস্ব প্রযুক্তিতে এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘তাইমুর’-এর সফল পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান

ইলামাবাদ, ৩ জানুয়ারি:নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এয়ার-লঞ্চড ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘তাইমুর’–এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছে পাকিস্তান। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।আইএসপিআর জানায়, ‘তাইমুর’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা পাকিস্তানের জাতীয় মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়নের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পাল্লায় উচ্চ নির্ভুলতার সঙ্গে শত্রুপক্ষের স্থল ও সমুদ্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রচলিত (কনভেনশনাল) ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং এতে ব্যবহৃত হয়েছে আধুনিক নেভিগেশন ও গাইডেন্স সিস্টেম। অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড্ডয়নের সক্ষমতার কারণে এটি শত্রুর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে এড়িয়ে যেতে পারে, যা একে কৌশলগতভাবে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।আইএসপিআর জানায়, এই ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রচলিত প্রতিরোধ ক্ষমতা ও অপারেশনাল নমনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি এই উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এই অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং পিএএফ দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন,“এ ধরনের সাফল্য প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা অর্জন এবং পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ শক্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে জাতির দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন।”পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও এই সফল পরীক্ষার জন্য পাকিস্তান বিমান বাহিনীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন,“স্থানীয়ভাবে উন্নত অস্ত্র প্রস্তুত করা জাতীয় সক্ষমতা, সংকল্প ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার সুস্পষ্ট প্রমাণ। এই সাফল্য জাতীয় প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করেছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তানের দায়িত্বশীল প্রতিরক্ষা নীতিকে জোরদার করেছে।”এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও ‘তাইমুর’ অস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষার জন্য পাকিস্তান বিমান বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, এর আগে পাকিস্তানের স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমোস্ফেয়ার রিসার্চ কমিশন (সুপারকো)-এর পরিচালক শাফাত আলী ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, নিজস্ব প্রযুক্তি ও চীনের সহযোগিতায় চলতি বছরেই চাঁদে অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে পাকিস্তানের।
০৫ জানুয়ারি ২০২৬
২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:২১ পিএম
আপনি কি মনে করেন, সঠিক সময়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে?

আপনি কি মনে করেন, সঠিক সময়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
শীত পড়তেই অসুস্থ হচ্ছেন বাড়ির বয়স্কেরা? দুর্বল হার্ট, শ্বাসকষ্ট থাকলে কী কী খাওয়াবেন

শীত পড়তেই অসুস্থ হচ্ছেন বাড়ির বয়স্কেরা? দুর্বল হার্ট, শ্বাসকষ্ট থাকলে কী কী খাওয়াবেন

শীত এলেই বাড়ির বয়স্ক সদস্যদের অসুস্থতা যেন বাড়তি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কমে যায়। বাংলাদেশে শীতকালে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণে প্রবীণদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস ও সর্দি-কাশির প্রকোপ বেড়ে যায়—এমন তথ্য চিকিৎসকরাও নিয়মিত উল্লেখ করে থাকেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স ৬০ পেরোলেই শরীরের ইমিউন সিস্টেম ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে। এই অবস্থায় শীতকালীন সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, হাঁপানি অ্যাটাক কিংবা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।শীতকালে বয়স্করা কেন বেশি অসুস্থ হনবাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী— ঠান্ডায় রক্তনালি সংকুচিত হয়, ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায় শীতকালে পানি কম খাওয়ার কারণে ডিহাইড্রেশন ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয় ঠান্ডা বাতাসে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় শরীর কম নড়াচড়া করায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয় বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই হার্ট দুর্বল, হাঁপানি বা ডায়াবিটিস আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি দ্বিগুণ।‘ইটিং ডিজঅর্ডার’ বেশি হয় বয়স্কদেরইচিকিৎসকদের ভাষায়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণদের মধ্যে Eating Disorder বা অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। বাংলাদেশে এটি বেশ সাধারণ একটি চিত্র— অনেক প্রবীণ নারী সংসারের কাজ সামলাতে গিয়ে নিজের খাবার বাদ দেন ওষুধ খাওয়ার সময় খাবার না খেয়ে ফেলেন আবার কেউ কেউ লুকিয়ে মিষ্টি, পিঠা, ভাজাপোড়া খেয়ে ফেলেন এর ফলেই দেখা দেয়— কোষ্ঠকাঠিন্য ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) গাঁটের ব্যথা হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়া বারবার সংক্রমণ শীতকালে বয়স্কদের জন্য উপযোগী খাবার (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)১. হার্ট দুর্বল হলে গরম দুধ (চিনি ছাড়া) ওটস বা লাল চালের ভাত (পরিমিত) সামুদ্রিক মাছ (রুই, কাতলা, ইলিশ নয়—চর্বি বেশি) বাদাম (ভেজানো চিনাবাদাম বা কাজু অল্প) ২. শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি থাকলে আদা ও তুলসী দিয়ে হালকা গরম পানি মধু (১ চা চামচ) সবজি স্যুপ (লাউ, কুমড়া, গাজর) হলুদ মেশানো গরম দুধ (রাতে) চিকিৎসকেরা বলেন, ঠান্ডা দই, সফট ড্রিংক ও বরফ দেওয়া খাবার হাঁপানির রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। ৩. ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে লাল আটা বা আটার রুটি শাকসবজি (পালং, লাল শাক, ডাটা শাক) পেঁপে, পেয়ারা, আপেল (পরিমিত) পর্যাপ্ত পানি (গরম বা কুসুম গরম) যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত অতিরিক্ত মিষ্টি ও পিঠা ভাজাপোড়া (শিঙাড়া, কচুরি) অতিরিক্ত লবণ ঠান্ডা পানীয় শীতকালে বয়স্কদের জন্য বাড়তি যত্ন নিয়মিত গরম কাপড় ব্যবহার সকালে হালকা রোদ পোহানো দিনে অন্তত ২০–৩০ মিনিট হাঁটা নির্দিষ্ট সময়ে খাবার ও ওষুধ খাওয়া উপসংহারশীতকালে বয়স্কদের সুস্থ রাখা শুধু ওষুধের বিষয় নয়—সঠিক খাবার, নিয়মিত রুটিন ও পরিবারের যত্নই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা। সময়মতো খাওয়াদাওয়া ও সচেতন জীবনযাপন করলে হার্ট, শ্বাসকষ্ট বা ডায়াবিটিস থাকলেও ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাদ্য বা ওষুধে বড় পরিবর্তন না করাই উত্তম।
১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আজ থেকে শুরু

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আজ থেকে শুরু

রাজধানীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আজ (শনিবার) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে পূর্বাচল উপশহরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আদতে ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা এ মেলা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কিছুদিন পিছিয়ে আজ থেকে শুরু হচ্ছে। এবারের মেলায় ১১টি বিদেশী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৩২৪টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন প্রদর্শনীতে থাকছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বিদেশ ও দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই মেলা এমন একটি উদ্যোগ যা বাংলাদেশী পণ্যের বৈশ্বিক প্রচার, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহ দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম শক্তিশালী করবে।” রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, মেলায় মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী এবং জুলাই আন্দোলনে আহতরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিনামূল্যে অংশগ্রহণ করতে পারবে। সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য টিকিট মূল্য প্রতিজন ৫০ টাকা, এবং ১২ বছরের নিচে শিশুদের ২৫ টাকা রাখা হয়েছে। এবারের মেলায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়া রয়েছে এবং ইলেক্ট্রনিক্স ও ফার্নিচারসহ বিভিন্ন পণ্যফেরি জোন রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মেলায় বিশেষ বাস সার্ভিস, ই-টিকিটিং ব্যবস্থা, ডাক্তারী সহায়তা, মা-শিশু কেন্দ্র ও পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। মেলার সময় প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রদর্শনী চালু থাকবে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। দর্শক-ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য সংস্থা মেলা এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে। 
২৫ নভেম্বর ২০২৫
ভারতের আকাশে নতুন প্রতিযোগিতা – আলহিন্দ এয়ার, ফ্লাইএক্সপ্রেস ও শঙ্খ এয়ার

ভারতের আকাশে নতুন প্রতিযোগিতা – আলহিন্দ এয়ার, ফ্লাইএক্সপ্রেস ও শঙ্খ এয়ার

২৫ নভেম্বর ২০২৫
বিয়ের সম্পর্ক সুন্দর রাখার ১০টি বাস্তব ও পরীক্ষিত টিপস

বিয়ের সম্পর্ক সুন্দর রাখার ১০টি বাস্তব ও পরীক্ষিত টিপস

বিয়ে শুধু এক ছাদের নিচে থাকা নয়—এটি দুটি মানুষের অনুভূতি, দায়িত্ব, সম্মান এবং একসাথে বেড়ে ওঠার যাত্রা। সম্পর্ক যত্ন করলে যেমন সুন্দর থাকে, তেমনি অবহেলা করলে তা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়। তাই বিয়ের সম্পর্ককে শক্ত, মধুর ও দীর্ঘস্থায়ী করতে কিছু ছোট–ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসই অনেক ভূমিকা রাখে।নিচে বিয়ের সম্পর্ক সুন্দর রাখার সেরা ১০টি টিপস দেওয়া হলো—১. প্রতিদিন সামান্য সময় হলেও দু’জনের কথা বলুনব্যস্ততার মাঝেও প্রতিদিন অন্তত ১০–১৫ মিনিট দু’জনের নিজের কথা, কাজ, অনুভূতি নিয়ে কথা বলুন। এতে আবেগের সংযোগ তৈরি হয়।২. ভালোবাসা প্রকাশ করুন—বলুন, দেখান, অনুভব করানমনে মনে ভালোবাসা থাকলেই হবে না। একটি “ধন্যবাদ”, “তোমাকে ভালোবাসি” বা ছোট সারপ্রাইজ সম্পর্ককে উষ্ণ রাখে।৩. সমস্যা হলে চিৎকার নয়—শান্তভাবে কথা বলুনবিতর্ক হতেই পারে, কিন্তু অপমান, রাগ, গালমন্দ সম্পর্ক নষ্ট করে। সমস্যাকে “আমরা বনাম সমস্যা” ভাবুন, “আমি বনাম তুমি” নয়।৪. একে অপরকে সম্মান দিনবিয়েতে সবচেয়ে জরুরি বিষয় সম্মান। সঙ্গীর মতামত, পছন্দ, পরিবার—সবকিছুকেই শ্রদ্ধা দিন।৫. একসাথে সময় কাটানসপ্তাহে একদিন হলেও হাঁটা, চা-কফি, সিনেমা বা ছোট কোনো ঘোরাঘুরি পরিকল্পনা করুন। একসাথে কাটানো সময় সম্পর্ককে নতুন শক্তি দেয়।৬. প্রশংসা করুন—ছোট কাজ হলেওতিনি খাবার বানালে, কোনো কাজ করলে, কিংবা শুধু হাসিখুশি থাকলে প্রশংসা করুন। প্রশংসা সম্পর্ককে সুন্দর করে, মন খুলে দেয়।৭. ব্যক্তিগত জায়গার সম্মান করুনস্বামী–স্ত্রী হলেও প্রত্যেকের নিজস্ব জায়গা ও সময় দরকার। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা সন্দেহ দূরত্ব তৈরি করে।৮. ভুল হলে ক্ষমা চাইতে শিখুন“আমি ভুল করেছি” বলতে পারা সম্পর্ককে অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচায়। ক্ষমা চাওয়া দুর্বলতার নয়, পরিপক্বতার লক্ষণ।৯. পারিবারিক দায়িত্ব ভাগ করে নিনআর্থিক, ঘরের কাজ, শিশু—যা কিছু হোক, দায়িত্ব একা একজনের নয়। দু’জন মিলে করলে সম্পর্ক শক্ত হয়।১০. দোয়া ও আধ্যাত্মিক বন্ধন রাখুন বিশ্বাস, আল্লাহর ওপর নির্ভরতা (তাওয়াক্কুল) এবং একসাথে দোয়া করাও সম্পর্ককে শান্তি দেয়। যাদের জীবনে আধ্যাত্মিকতা থাকে, তাদের সম্পর্ক বেশি স্থায়ী হয়।
২৯ নভেম্বর ২০২৫
কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় ট্রেন চলাচলে ১৪ নির্দেশনা জারি করল রেলওয়ে

কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় ট্রেন চলাচলে ১৪ নির্দেশনা জারি করল রেলওয়ে

আসন্ন শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার ফলে ট্রেন পরিচালনায় ঝুঁকি বাড়তে পারে জানিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৪টি বিশেষ সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে। ঘন কুয়াশায় সিগন্যাল, লেভেল ক্রসিং বা রেললাইনের প্রতিবন্ধকতা দৃশ্যমান না হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বিবেচনায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি রেলওয়ের ডেপুটি চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পশ্চিম) মোছা. আরফিন নাহার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে নির্দেশনাগুলো পাকশী ও লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজারদের কাছে পাঠানো হয়।চিঠিতে বলা হয়, শীতকালে বিশেষ করে রাতে কুয়াশার ঘনত্ব বৃদ্ধির কারণে স্টেশন মাস্টার থেকে শুরু করে ট্রেন পরিচালনা–সংশ্লিষ্ট কর্মীরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবেন। জিআর-৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ এবং এসআর-২৯, ৩১, ৩২, ৩৫–এর বিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।কুয়াশায় ট্রেন চলাচলে রেলের ১৪ নির্দেশনা১. সেকশনভিত্তিক কুয়াশার পরিস্থিতি জেনে টিএনএলের ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রয়োজনে লোকোমাস্টারকে কশন অর্ডার (ওপিটি-৮০) পাঠানো। ২. স্টেশন মাস্টাররা লেভেল ক্রসিং চিহ্নিত করে কুয়াশাচ্ছন্ন এলাকায় কশন অর্ডার ইস্যু করবেন। ৩. নিজ স্টেশনে কুয়াশা থাকলে পাশের স্টেশন ও কন্ট্রোল অফিসকে তাৎক্ষণিক জানাতে হবে। ৪. ঘন কুয়াশায় বিধি অনুযায়ী ফগ সিগন্যাল ব্যবহার এবং লেভেল ক্রসিং বন্ধ আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে ট্রেন পার করানো। ৫. লোকোমাস্টার ও গার্ডরা কুয়াশাচ্ছন্ন এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় ট্রেন চালাবেন। ৬. রাতে ট্রেন ছাড়ার আগে এলএম ও গার্ডের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে চার্টে লিপিবদ্ধ করতে হবে। ৭. স্টেশন মাস্টার ব্যতীত অন্য কেউ যেন লাইন ক্লিয়ার না দেন—টিএনএলদের এ বিষয়টি যাচাইয়ের নির্দেশ। ৮. পার্শ্ববর্তী স্টেশন মাস্টার ছাড়া কারও সাথে লাইন ক্লিয়ার আদান–প্রদান করা যাবে না। ৯. টেইল ল্যাম্প/বোর্ড ঠিকমতো যুক্ত না থাকলে বা গার্ডের প্রত্যয়ন ছাড়া ট্রেন ইনরিপোর্ট দেওয়া যাবে না। ১০. নন-ইন্টারলকড স্টেশনে দুটি ট্রেনের ক্রসিংয়ে সঠিক পয়েন্ট সেটিং নিশ্চিত করতে হবে। ১১. বিরতিহীন স্টেশনে ক্রসিংয়ের সময় উভয় ট্রেনকে আউটার সিগন্যালে থামিয়ে গুরুত্ব অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া। ১২. শীত মৌসুমে রাতের নৈশ সংকেত পরিদর্শন ঘন ঘন করতে হবে। ১৩. দীর্ঘমেয়াদি কুয়াশার সময়ে জরুরি সেল খোলা ও ঢাকা কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ বাধ্যতামূলক। ১৪. স্টেশনে পর্যাপ্ত ফগ সিগন্যালের মজুত রাখতে হবে এবং ব্যবহারের নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হবে।দুর্ঘটনা প্রতিরোধই মূল লক্ষ্য রেলওয়ে বলছে, কুয়াশায় সিগন্যালের আলো ঝাপসা হয়ে যাওয়া বা লেভেল ক্রসিং দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই সুষ্ঠু ও নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে সমস্ত কর্মকর্তা–কর্মচারীকে নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
২৫ নভেম্বর ২০২৫
অ্যামাজন–আলিবাবায় সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা

অ্যামাজন–আলিবাবায় সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা

বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য বৈশ্বিক ই–কমার্স বাজারে বড় সুযোগ উন্মুক্ত হলো। অনলাইনভিত্তিক রপ্তানি বাড়াতে বিজনেস-টু-বিজনেস-টু-কনজিউমার (বি২বি২সি) মডেলের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে উদ্যোক্তারা এখন অ্যামাজন, আলিবাবা, ফ্লিপকার্টসহ আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত ই–কমার্স প্ল্যাটফর্মে সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।কী বলা হয়েছে নতুন প্রজ্ঞাপনে?নতুন নিয়ম অনুযায়ী— দেশের যেকোনো রপ্তানিকারক এখন সুপরিচিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস, সাবসিডিয়ারি বা তৃতীয় পক্ষের ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে পণ্য পাঠাতে পারবেন। বিদেশি কনসাইনি চূড়ান্ত ক্রেতা না হয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করতে পারবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা আন্তর্জাতিক ওয়্যারহাউসে রেজিস্ট্রেশনের প্রমাণপত্র এডি ব্যাংকে জমা দিতে হবে। বি২বি২সি মডেলে স্বাভাবিক বিক্রয়চুক্তি না থাকায় প্রফর্মা ইনভয়েসের ভিত্তিতে ন্যায্যমূল্য ঘোষণা করা যাবে। ওয়্যারহাউজিং বা অন্যান্য সেবা প্রদানকারী কনসাইনির নামে শিপিং ডকুমেন্ট গ্রহণ করতে পারবে এডি ব্যাংক। রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে নতুন সুবিধাবাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে— রপ্তানি আয় স্বাভাবিক ব্যাংকিং চ্যানেলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর (যেমন PayPal, Payoneer ইত্যাদি) মাধ্যমে পাওয়া যাবে। অনলাইনভিত্তিক রপ্তানিতে একাধিক চালানের অর্থ একত্রে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে এডি ব্যাংক ফার্স্ট-ইন, ফার্স্ট-আউট (FIFO) নীতিতে রপ্তানি আয় সমন্বয় করবে। কীভাবে উপকৃত হবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা?নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে— আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি বিক্রির সুযোগ তৈরি হলো। ব্র্যান্ডিং, মূল্য নির্ধারণ, প্রোডাক্ট ক্যাটালগ—এসব উদ্যোক্তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে রপ্তানির প্রয়োজন কমবে, লাভ বাড়বে। অ্যামাজন–আলিবাবা–ফ্লিপকার্টে নিজস্ব স্টোর খুলে রপ্তানির পথ সহজ হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামতখাত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে— আন্তসীমান্ত ই–কমার্স আরও সহজ হবে, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়বে, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে বড় ভূমিকা রাখবে, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল খুচরা বিক্রিতে বাংলাদেশি পণ্যের অংশগ্রহণ বাড়বে। তাদের মতে, সঠিক প্রস্তুতি, মানসম্মত পণ্য, আধুনিক লজিস্টিকস এবং সময়মতো ডেলিভারি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ দ্রুতই অনলাইন রপ্তানির বড় খেলোয়াড় হতে পারে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নীতিগত সমর্থন বাংলাদেশের উদ্যোক্তা, বিশেষ করে এসএমই খাতের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। সরাসরি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল রপ্তানি খাতে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।
অর্থনীতি প্রতিবেদক