বইমেলায় নতুন বই প্রকাশ অর্ধেকে নেমেছে, বিক্রিও কমেছে ৮০ শতাংশ: প্রকাশক ঐক্য
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ এ নতুন বই প্রকাশের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মেলা শেষ হওয়ার এক দিন আগে শনিবার পর্যন্ত নতুন বই এসেছে ১ হাজার ৭৭১টি, যেখানে গত বছর বই এসেছিল ৩ হাজার ২৯৩টি। বিক্রিও আশানুরূপ হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা।রোববার (১৫ মার্চ) শেষ হচ্ছে ১৮ দিনের এই বইমেলা। রোজা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবারের মেলা শুরু হয় ২৬ ফেব্রুয়ারি এবং চলছে মাত্র ১৮ দিন।প্রকাশকদের হতাশাঅন্তত ১০টি প্রকাশনা সংস্থার স্টলের বিক্রয়কর্মীরা জানিয়েছেন, মেলায় তাদের কোনো নতুন বই নেই। বাতিঘরের সহকারী ম্যানেজার সঞ্জয় সূত্রধর বলেন, "গত বছরে পুরো মাসব্যাপী বইমেলা ছিল। কিন্তু এবারে ১৮ দিনের বইমেলা। এবার মেলায় জনসমাগম কম। তবে যারা এসেছেন, তাদের অনেকে বই কিনেছেন। এটা একটা ভালো দিক। তুলনামূলকভাবে যদি বলা হয়, এবারে বিক্রিটা কম হয়েছে।"অন্যপ্রকাশের স্টলের বিক্রয়কর্মী সাফায়েত হোসেন জানান, "গত বছরের তুলনায় বেচাকেনা স্বাভাবিকভাবেই কম। কেননা এবার মেলা সংক্ষিপ্ত পরিসরে হচ্ছে। তার ওপর রোজার মধ্যে অনেকে রোজা রেখে আসতে পারেন না। ঈদেরও খুব বেশি বাকি নেই। অনেকে বাড়িতে চলে যাচ্ছেন।"তিনি আরও জানান, সাত বছর ধরে মেলায় স্টলের দায়িত্বে থাকার কথা জানিয়ে সাফায়েত বলেন, "শুক্রবার বা ছুটির দিনে আমাদের স্টলে কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকার বই বিক্রি হত। এবার সেটা এক লাখও হয়নি।"বই বিক্রি কমেছে ৮০ ভাগ: প্রকাশক ঐক্য‘প্রায় পাঠকশূন্য’ এবারের একুশে বইমেলায় অংশ নিয়ে প্রকাশকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে দাবি করেছে ‘প্রকাশক ঐক্য’। শনিবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি বলেছে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০২৫ সালের বইমেলায় বিক্রি কমেছিল ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ। কিন্তু এবারের বইমেলার পরিস্থিতি ২০২১ সালের কোভিডকালীন মেলার চেয়েও ‘শোচনীয়’।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অংশগ্রহণকারী ‘প্রায় ৯০ শতাংশ’ প্রকাশকের স্টল নির্মাণের ‘প্রাথমিক খরচটুকুও ওঠেনি’, যার মধ্যে ‘প্রায় ৩০ শতাংশ’ প্রকাশকের ‘৫ হাজার টাকার বইও বিক্রি হয়নি’।নতুন বইয়ের সংখ্যাএবারের মেলা শেষ হওয়ার এক দিন আগে, অর্থাৎ শনিবার পর্যন্ত নতুন বই এসেছে ১ হাজার ৭৭১টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বই এসেছে কবিতার ৬৫৬টি। এ ছাড়া উপন্যাস এসেছে ২৫৯টি, গল্পগ্রন্থ এসেছে ২৪৬টি। প্রবন্ধ ৭৬টি, গবেষনা ৪২টি, ছড়া ৩১টি, শিশুতোষ ৭৮টি, জীবনীগ্রন্থ ৪৮টি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ৬টি, নাটক বিষয়ক ৭টি, বিজ্ঞান ২৩টি, ভ্রমণ ৩৭টি, ইতিহাস ২৪টি, রাজনীতি ২১টি, চিকিৎসা/স্বাস্থ্য ১৪টি, ভাষা বিষয়ক ২টি, ধর্মীয় ২৭টি, অনুবাদ ১৬টি, অভিধান ১টি, সায়েন্স ফিকশন/গোয়েন্দা ১টি এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে নতুন বই এসেছে ১৫৬টি।গত বছর মেলায় নতুন বই এসেছিল ৩ হাজার ২৯৩টি। এর আগের বছর ২০২৪ সালে মেলায় নতুন বই এসেছিল ৩ হাজার ৭৫১টি। ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৭৩০টি নতুন বই এসেছিল।গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক বইএবার ১৮ দিনের মেলায় ১৭তম দিন শনিবার পর্যন্ত রচনাবলি ও গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক কোনো নতুন বই প্রকাশের তথ্য মেলার জনসংযোগ বিভাগে নেই। তবে মেলার মাঠে ঘুরে গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক ছয়টি নতুন বইয়ের খোঁজ পেয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো। এই বইগুলোর তথ্য জমা পড়েনি মেলার জনসংযোগ বিভাগে।পাঠকদের অভিমতশনিবার মেলায় আসা ধানমণ্ডির বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক ফেরদৌস আমিন বলেন, "এবার মেলায় বই কম এসেছে। আমাদের দেশে পেশাদার প্রকাশনা সংস্থা কয়টা আছে? তবে মেলায় এত প্রতিষ্ঠান কোথা থেকে আসে? যারা সারা বছর বই প্রকাশ করে, মেলা শুধু তাদের নিয়েই হওয়া উচিত।"শেষ দিনের আয়োজনরোববার অমর একুশে বইমেলার সমাপনী দিন। মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকাল ৩টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। মেলার প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন 'অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ র সদস্য সচিব মো. সেলিম রেজা।প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। অনুষ্ঠানে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার, সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।