লন্ডনে আইন পড়ছিলেন। কিন্তু মন টেকেনি সেই পথে। বরং অচেনা এক পথে পা বাড়ালেন মো. মঈনুল ইসলাম। স্বপ্ন দেখলেন বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার। আর সেই স্বপ্ন থেকেই জন্ম নেয় ‘ইসেভিওর লিমিটেড’—একটি আমাজন ক্রিয়েটিভ এজেন্সি, যা আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করছে।২০১৪ সালের কথা। তখন বাংলাদেশে বসে বিশ্বের বৃহত্তম ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম আমাজনের জন্য কাজ করার ধারণাটি ছিল প্রায় অকল্পনীয়। ইউটিউবে টিউটোরিয়াল ছিল না, গোছানো গাইডলাইন ছিল না। মঈনুল নিজেও আইনের ছাত্র। কিন্তু তার আগ্রহ ছিল ডিজিটাল বিপণনে। তাই শুরু করলেন একেবারে গোড়া থেকে। হাতে কোনো পুঁজি ছিল না, ছিল না বড় ক্লায়েন্ট। ছিল কেবল অদম্য জেদ।মঈনুল বলছেন, ‘আমি কোনো কোর্স করি নি। আমার ক্লায়েন্টরাই ছিল আমার শিক্ষক। তারা ছোট ছোট কাজ দিতেন, আর সেগুলো করতে গিয়েই আমাজন এফবিএর কৌশল শিখেছি। সেই হাতে-কলমে শেখাটাই আজ আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।’তিনি দ্রুত বুঝতে পারেন, আমাজনে শুধু ভালো পণ্য হলেই হয় না। সেটির উপস্থাপনাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অনেক ভালো পণ্য খারাপ ছবির কারণে বিক্রি হচ্ছে না। আবার সাধারণ পণ্যও চমৎকার উপস্থাপনায় সেরা বিক্রেতার তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে। এই শূন্যতা পূরণ করতেই তিনি গড়ে তোলেন ‘ইসেভিওর লিমিটেড’।প্রতিষ্ঠানটির মূল কাজ হলো বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে আমাজনের জন্য প্রোডাক্টের লিস্টিং ইমেজ, প্যাকেজিং ডিজাইন ও স্টোরফ্রন্ট তৈরি করা। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিক্রির হার বা কনভার্সন রেটে। মঈনুলের প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০টির বেশি প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।একসময় যে প্রতিষ্ঠানটি হাতেগোনা কয়েকটি ছোট কাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, আজ তা অ্যাঙ্কর ও অ্যামক্রেস্টের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের বিশ্বস্ত সহযোগী। মঈনুলের নেতৃত্বে ইসেভিওর লিমিটেড বর্তমানে ১৭০টির বেশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করছে। ইউকে ও বাংলাদেশের দুটি দেশে তাদের কার্যালয় রয়েছে।মঈনুল বলেন, ‘আমি প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম, বাংলাদেশি প্রতিভা বিশ্বমানের কাজ উপহার দিতে সক্ষম।’ সেই প্রমাণ আজ ইসেভিওর সফলতা।ভবিষ্যতে তিনি আরও দুটি বড় উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন। একটি হলো ‘গ্লোবাল আমাজন ভিজুয়াল বেঞ্চমার্ক রিপোর্ট ২০২৬’, যেখানে আমাজনের ভিজুয়াল স্ট্র্যাটেজির সর্বশেষ প্রবণতা নিয়ে গবেষণা তুলে ধরা হবে। অন্যটি ‘ইসেভিওর ক্রিয়েটিভ একাডেমি’, যা নতুন প্রজন্মের ক্রিয়েটিভদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য কাজ করবে।মঈনুলের গল্পটি শুধু একজন উদ্যোক্তার নয়; এটি একটি স্বপ্নের বাস্তব রূপ। আইনের ছাত্র যে কীভাবে নিজের ভিন্ন পথ বেছে নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন বিশ্বমঞ্চে, তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইসেভিওর লিমিটেড।