ঢাকা    সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
গণবার্তা

তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন

তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তিকালের পর দলটির সর্বোচ্চ পদ ‘চেয়ারম্যান’ শূন্য হয়ে পড়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই বিএনপির পরবর্তী চেয়ারম্যান হচ্ছেন। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা আসেনি।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, কবে ও কোন প্রক্রিয়ায় তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হবে—সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে দলকে। কারণ সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি জরুরি হয়ে উঠেছে।

দলীয় সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির ভেতরে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও ডিজিটাল প্রচারে কার ছবি ব্যবহার করা হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় বিএনপি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগেই অনেক বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনী ব্যানার ও প্রচারসামগ্রী প্রস্তুত করেছেন, যেখানে দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর এই বাস্তবতায় পরিবর্তন আসছে।

সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা–২০২৫ অনুযায়ী, দলীয় প্রার্থী কেবল বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবিই প্রচারে ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে বিএনপির জন্য বিষয়টি এখন তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও শোকের আবহ বিবেচনায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়নি। বাস্তবে দলীয় সিদ্ধান্ত, দিকনির্দেশনা ও নির্বাচনী কৌশল তারেক রহমানের নেতৃত্বেই নির্ধারিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনী প্রচারে দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট করতে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা প্রয়োজন। শিগগিরই কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

এদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় তিন দিনের শোক শেষে বর্তমানে বিএনপির সাত দিনের দলীয় শোক কর্মসূচি চলছে, যা আগামী ৫ জানুয়ারি শেষ হবে। দেশজুড়ে মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হচ্ছে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা এখনো গভীর শোকের মধ্যে আছি। নির্বাচনী কাজে স্বাভাবিক উৎসাহ নেই, তবু পরিস্থিতির কারণে ন্যূনতম প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’

দলীয় নেতারা জানান, শোক কর্মসূচি শেষ হলেই বিএনপি পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনী মাঠে নামবে। প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ঘিরে জনসমর্থন ও আবেগকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার কৌশল নিয়েই এগোতে চায় দল।

ইতিমধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রার্থী ব্যবস্থাপনা, সাংগঠনিক সমন্বয় ও প্রচারের দিকনির্দেশনা দেবে।

তবে নির্বাচনের পথে বিএনপির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী ইস্যু। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ইতোমধ্যে কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, প্রয়োজনে এই তালিকা আরও বাড়তে পারে।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। তাই প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। শোক, আবেগ ও রাজনীতির ভারসাম্য রেখে নির্বাচন মোকাবিলাই এখন দলের মূল লক্ষ্য।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬


তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তিকালের পর দলটির সর্বোচ্চ পদ ‘চেয়ারম্যান’ শূন্য হয়ে পড়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই বিএনপির পরবর্তী চেয়ারম্যান হচ্ছেন। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা আসেনি।বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, কবে ও কোন প্রক্রিয়ায় তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হবে—সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে দলকে। কারণ সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি জরুরি হয়ে উঠেছে।দলীয় সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির ভেতরে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও ডিজিটাল প্রচারে কার ছবি ব্যবহার করা হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় বিএনপি।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগেই অনেক বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনী ব্যানার ও প্রচারসামগ্রী প্রস্তুত করেছেন, যেখানে দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর এই বাস্তবতায় পরিবর্তন আসছে।সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা–২০২৫ অনুযায়ী, দলীয় প্রার্থী কেবল বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবিই প্রচারে ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে বিএনপির জন্য বিষয়টি এখন তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও শোকের আবহ বিবেচনায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়নি। বাস্তবে দলীয় সিদ্ধান্ত, দিকনির্দেশনা ও নির্বাচনী কৌশল তারেক রহমানের নেতৃত্বেই নির্ধারিত হচ্ছে।এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচনী প্রচারে দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট করতে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা প্রয়োজন। শিগগিরই কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।এদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় তিন দিনের শোক শেষে বর্তমানে বিএনপির সাত দিনের দলীয় শোক কর্মসূচি চলছে, যা আগামী ৫ জানুয়ারি শেষ হবে। দেশজুড়ে মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হচ্ছে।বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা এখনো গভীর শোকের মধ্যে আছি। নির্বাচনী কাজে স্বাভাবিক উৎসাহ নেই, তবু পরিস্থিতির কারণে ন্যূনতম প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’দলীয় নেতারা জানান, শোক কর্মসূচি শেষ হলেই বিএনপি পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনী মাঠে নামবে। প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ঘিরে জনসমর্থন ও আবেগকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার কৌশল নিয়েই এগোতে চায় দল।ইতিমধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রার্থী ব্যবস্থাপনা, সাংগঠনিক সমন্বয় ও প্রচারের দিকনির্দেশনা দেবে।তবে নির্বাচনের পথে বিএনপির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী ইস্যু। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ইতোমধ্যে কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, প্রয়োজনে এই তালিকা আরও বাড়তে পারে।বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। তাই প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। শোক, আবেগ ও রাজনীতির ভারসাম্য রেখে নির্বাচন মোকাবিলাই এখন দলের মূল লক্ষ্য।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ 
প্রকাশকঃ ফিরোজ আল-মামুন 

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা