ঢাকা    সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
গণবার্তা

অধ্যাদেশ জারি

অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির ব্যাংক গ্যারান্টি ১ কোটি টাকা নির্ধারণ

অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির ব্যাংক গ্যারান্টি ১ কোটি টাকা নির্ধারণ

ঢাকা, ২ জানুয়ারি ২০২৬:

দেশে ট্রাভেল এজেন্সি খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, টিকিটের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং অভিবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। সংশোধিত বিধানে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ক্ষমতা প্রয়োগ করে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’-এর সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করেন। এ বিষয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। অন্যদিকে অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল এজেন্সির ক্ষেত্রে এই গ্যারান্টির অঙ্ক বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে টিকিটের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত ‘ফলস বুকিং’ বা বানোয়াট আসন সংরক্ষণকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক ট্রাভেল এজেন্সি অন্য এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে না। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রেও সরকার অনুমোদিত আর্থিক মাধ্যমের বাইরে লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় নতুন বিধানে বলা হয়েছে, কোনো ট্রাভেল এজেন্সি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন কিংবা চটকদার প্রচারণার মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ আদায় করতে পারবে না। অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে তৃতীয় দেশ থেকে টিকিট কেনাবেচা বা টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইন লঙ্ঘনের শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে সংশোধিত অধ্যাদেশে। বিধি ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, অথবা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর প্রতারণা বা দুর্নীতির ক্ষেত্রে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্টদের বিদেশ গমনেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নতুন নিয়মে ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন সনদ প্রতি তিন বছর পরপর নবায়নের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি বছর সরকারকে আর্থিক হিসাবসহ সার্বিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কোনো ঋণ খেলাপি ব্যক্তি ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধনের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬


অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির ব্যাংক গ্যারান্টি ১ কোটি টাকা নির্ধারণ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
ঢাকা, ২ জানুয়ারি ২০২৬:দেশে ট্রাভেল এজেন্সি খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, টিকিটের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং অভিবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। সংশোধিত বিধানে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ক্ষমতা প্রয়োগ করে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’-এর সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করেন। এ বিষয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। অন্যদিকে অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল এজেন্সির ক্ষেত্রে এই গ্যারান্টির অঙ্ক বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করা হয়েছে।অধ্যাদেশে টিকিটের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত ‘ফলস বুকিং’ বা বানোয়াট আসন সংরক্ষণকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক ট্রাভেল এজেন্সি অন্য এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে না। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রেও সরকার অনুমোদিত আর্থিক মাধ্যমের বাইরে লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় নতুন বিধানে বলা হয়েছে, কোনো ট্রাভেল এজেন্সি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন কিংবা চটকদার প্রচারণার মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ আদায় করতে পারবে না। অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে তৃতীয় দেশ থেকে টিকিট কেনাবেচা বা টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।আইন লঙ্ঘনের শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে সংশোধিত অধ্যাদেশে। বিধি ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, অথবা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর প্রতারণা বা দুর্নীতির ক্ষেত্রে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্টদের বিদেশ গমনেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।এছাড়া নতুন নিয়মে ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন সনদ প্রতি তিন বছর পরপর নবায়নের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি বছর সরকারকে আর্থিক হিসাবসহ সার্বিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কোনো ঋণ খেলাপি ব্যক্তি ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধনের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ 
প্রকাশকঃ ফিরোজ আল-মামুন 

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা