ঢাকা    সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
গণবার্তা

দলিল নিবন্ধন আইন সংশোধনে অধ্যাদেশ জারি, সময়সীমা বাড়ল ও চালু হচ্ছে ই-রেজিস্ট্রেশন

দলিল নিবন্ধন আইন সংশোধনে অধ্যাদেশ জারি, সময়সীমা বাড়ল ও চালু হচ্ছে ই-রেজিস্ট্রেশন

দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও ডিজিটাল করতে নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ সংশোধন করে নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করেছে সরকার। সংসদ না থাকায় জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেন, যা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। সংশোধিত অধ্যাদেশে দলিল নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, আগে যেখানে ৩০ দিনের মধ্যে দলিল নিবন্ধন করতে হতো, সেখানে এখন ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে। একইভাবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চার মাসের পরিবর্তে ছয় মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধনের আওতাও সম্প্রসারিত হয়েছে। বিক্রয় দলিলের পাশাপাশি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী হেবা ঘোষণা এবং হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দান সংক্রান্ত ঘোষণাকেও নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতায় আনা হয়েছে। ফলে এসব ঘোষণাও এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম রোধে কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতাও বাড়ানো হয়েছে। কোনো নিবন্ধন কর্মকর্তা যদি নির্ধারিত ফি, কর বা শুল্ক আদায় না করে দলিল নিবন্ধন করেন, তাহলে সেটিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ক্ষেত্রে অনাদায়ী অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকেই আদায় করা হবে।

আপিল ও আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আপিল দাখিলের ৪৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারকে তা নিষ্পত্তি করতে হবে এবং আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে অধ্যাদেশে ই-রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালুর পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলিল উপস্থাপন ও নিবন্ধন করা যাবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধি পরে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

এছাড়া দলিল উপস্থাপনের সময়ই সব ধরনের ফি, কর, সার্ভিস চার্জ ও শুল্ক পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব অর্থ আদায় ও ব্যবহারের নিয়মাবলি সরকার প্রণীত বিধিমালার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

সরকারের মতে, এই সংশোধনের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে, যা সাধারণ জনগণের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬


দলিল নিবন্ধন আইন সংশোধনে অধ্যাদেশ জারি, সময়সীমা বাড়ল ও চালু হচ্ছে ই-রেজিস্ট্রেশন

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও ডিজিটাল করতে নিবন্ধন আইন, ১৯০৮ সংশোধন করে নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করেছে সরকার। সংসদ না থাকায় জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেন, যা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। সংশোধিত অধ্যাদেশে দলিল নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, আগে যেখানে ৩০ দিনের মধ্যে দলিল নিবন্ধন করতে হতো, সেখানে এখন ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে। একইভাবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চার মাসের পরিবর্তে ছয় মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।অধ্যাদেশের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধনের আওতাও সম্প্রসারিত হয়েছে। বিক্রয় দলিলের পাশাপাশি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী হেবা ঘোষণা এবং হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দান সংক্রান্ত ঘোষণাকেও নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতায় আনা হয়েছে। ফলে এসব ঘোষণাও এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম রোধে কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতাও বাড়ানো হয়েছে। কোনো নিবন্ধন কর্মকর্তা যদি নির্ধারিত ফি, কর বা শুল্ক আদায় না করে দলিল নিবন্ধন করেন, তাহলে সেটিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ক্ষেত্রে অনাদায়ী অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকেই আদায় করা হবে।আপিল ও আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আপিল দাখিলের ৪৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারকে তা নিষ্পত্তি করতে হবে এবং আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে অধ্যাদেশে ই-রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালুর পথ খুলে দেওয়া হয়েছে। সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলিল উপস্থাপন ও নিবন্ধন করা যাবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধি পরে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।এছাড়া দলিল উপস্থাপনের সময়ই সব ধরনের ফি, কর, সার্ভিস চার্জ ও শুল্ক পরিশোধ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব অর্থ আদায় ও ব্যবহারের নিয়মাবলি সরকার প্রণীত বিধিমালার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।সরকারের মতে, এই সংশোধনের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে, যা সাধারণ জনগণের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ 
প্রকাশকঃ ফিরোজ আল-মামুন 

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা