ভেনেজুয়েলায় বড় পরিসরের সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার ভোরে এই অভিযানের কথা জানালেও মাদুরোকে কীভাবে আটক করা হয়েছে বা বর্তমানে তিনি কোথায় আছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি ট্রাম্প।
বিবিসি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লা কারলোটা সামরিক বিমানঘাঁটি ও ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি এলাকায় ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, প্রেসিডেন্ট মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে ফুয়ের্তে তিউনা ঘাঁটিতেই অবস্থান করছিলেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ডেল্টা ফোর্স এই অভিযানে অংশ নেয় এবং তারাই মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে। তবে ভেনেজুয়েলা সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেনি।
এদিকে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর বর্তমান অবস্থান অজানা। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তাঁদের জীবিত থাকার প্রমাণ দাবি করেছেন।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ এই হামলাকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ‘অপমানজনক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ছোড়া হয়েছে এবং এতে বিভিন্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকা আক্রান্ত হয়েছে। তিনি বিদেশি সেনা উপস্থিতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ঘোষণাও দেন।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযানের সাফল্য নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এটি ছিল একটি ‘চমৎকার ও সফল অভিযান’। তবে এ অভিযানের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না বা ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী হবে—সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের দাবি সত্য হলে ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের হাতে যাওয়ার কথা। তবে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং বিরোধী দল নির্বাসিত নেতা এডমুন্ডো গঞ্জালেসকে প্রকৃত প্রেসিডেন্ট দাবি করায় দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের পর লাতিন আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন