লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির সবচেয়ে প্রভাবশালী পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি সশস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে তার নিজ বাসভবনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তার আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে চারজন মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তি সাইফ আল-ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো অকেজো করে দেয় এবং পরে সরাসরি তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলাম হামলাকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণে রক্ষা পাননি।
লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষায় সাইফ আল-ইসলামের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দেশটির বিচার বিভাগ। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে জরুরি ও স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৯৭২ সালে জন্ম নেওয়া সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি ছিলেন তার বাবার শাসনামলের অন্যতম মুখপাত্র ও রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত। লন্ডনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সাইফ একসময় পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে ২০১১ সালে লিবিয়ায় গণঅভ্যুত্থান শুরু হলে তিনি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন এবং প্রকাশ্যে বাবার পক্ষে দাঁড়ান।
গাদ্দাফি সরকারের পতনের পর সাইফ আল-ইসলাম জিনতানে আটক হন এবং দীর্ঘ সময় লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি আবারও রাজনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসেন, যা দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, মুয়াম্মার গাদ্দাফি ১৯৬৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ৪২ বছর লিবিয়া শাসন করেন। তার শাসনামল একদিকে উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য পরিচিত হলেও অন্যদিকে একনায়কতন্ত্র ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত। ২০১১ সালে আরব বসন্তের প্রভাবে শুরু হওয়া ন্যাটো সমর্থিত বিদ্রোহের মুখে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ওই বছরের অক্টোবরে নিজ শহর সিরতে বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন।

শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন