ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

সাত দশকের সঙ্গীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মাহাথির, হুইলচেয়ারে বসে ছিলেন শেষযাত্রায়

সাত দশকের সঙ্গীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মাহাথির, হুইলচেয়ারে বসে ছিলেন শেষযাত্রায়

কুয়ালালামপুর: সাত দশকের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ। স্ত্রী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর শেষযাত্রায় হুইলচেয়ারে বসে উপস্থিত ছিলেন ১০০ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক।

মালয় মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরচালিত হুইলচেয়ারে বসা মাহাথিরের নাকে ছিল অক্সিজেনের নল। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও স্ত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে পুরো সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন তিনি।

সিতি হাসমাহর শেষকৃত্য ঘিরে মালয়েশিয়াজুড়ে নেমে আসে শোকের আবহ। পারিবারিক বাসভবন থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো এবং নামাজে জানাজার জন্য তামান সুংগাই বেসি ইন্দাহর মসজিদ আস-শরিফে নেয়া হয় তার মরদেহ। সেখানে হাজারো মানুষ জড়ো হন। মসজিদের ভেতরের পাশাপাশি আশপাশের এলাকাও কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সময় মাহাথিরকে বিষণ্ন দেখাচ্ছিল। স্ত্রীর মরদেহের দিকে কিছুক্ষণ নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। এরপর তিনি জানাজার নামাজে অংশ নেন।

পরে সিতি হাসমাহর মরদেহ নেয়া হয় পুত্রজায়ার ২০ নম্বর প্রিসিঙ্কটের ন্যাশনাল সিমেট্রিতে। মোটরচালিত হুইলচেয়ারে বসেই স্ত্রীর দাফনের পুরো প্রক্রিয়া দেখেন মাহাথির। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন।

দীর্ঘ সাত দশকের দাম্পত্য জীবনের পর সঙ্গীকে হারিয়ে অনেকটা ভেঙে পড়েছেন তিনি। গভীর শোক আর চোখের জলে প্রিয়জনকে বিদায় দিয়েছেন এই প্রবীণ রাজনীতিক।

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী আর নেই। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০০ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ছেলে তান শ্রী মোখজানি মাহাথির। বারনামাকে তিনি মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি জানান।

এই শোকের খবরে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ড. সিতি হাসমাহর প্রয়াণ সমাজ ও দেশের জন্য বড় ক্ষতি। কুয়ালালামপুরের আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ার (আইআইইউএম) আইএসটিএসি ক্যাম্পাসে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিউচার কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার আগে তিনি এ কথা বলেন।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিদের ড. সিতি হাসমাহর আত্মার মাগফিরাত কামনায় সুরা ফাতিহা পাঠের আহ্বান জানান।

দীর্ঘ জীবনে চিকিৎসা, জনসেবা ও সামাজিক কাজকর্মে সক্রিয় ছিলেন ড. সিতি হাসমাহ। মাহাথির মোহাম্মদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি মালয়েশিয়ার জনপরিসরে পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মালয়েশিয়ার চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন ড. সিতি হাসমাহ। তিনি দেশটির ইতিহাসের একেবারে শুরুর দিকের মালয় নারী চিকিৎসকদের একজন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশোনা সম্পন্ন করার পর তিনি চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ কর্মজীবন অতিবাহিত করেন। বিশেষ করে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ও মা-শিশু সুরক্ষায় তার ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত।

১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মাহাথির মোহাম্মদের দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্বকালে তিনি দেশটির ফার্স্ট লেডি হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

তার প্রয়াণে মালয়েশিয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিষয় : মালয়েশিয়া

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


সাত দশকের সঙ্গীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মাহাথির, হুইলচেয়ারে বসে ছিলেন শেষযাত্রায়

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কুয়ালালামপুর: সাত দশকের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ। স্ত্রী তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীর শেষযাত্রায় হুইলচেয়ারে বসে উপস্থিত ছিলেন ১০০ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক।মালয় মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরচালিত হুইলচেয়ারে বসা মাহাথিরের নাকে ছিল অক্সিজেনের নল। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও স্ত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে পুরো সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন তিনি।সিতি হাসমাহর শেষকৃত্য ঘিরে মালয়েশিয়াজুড়ে নেমে আসে শোকের আবহ। পারিবারিক বাসভবন থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো এবং নামাজে জানাজার জন্য তামান সুংগাই বেসি ইন্দাহর মসজিদ আস-শরিফে নেয়া হয় তার মরদেহ। সেখানে হাজারো মানুষ জড়ো হন। মসজিদের ভেতরের পাশাপাশি আশপাশের এলাকাও কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সময় মাহাথিরকে বিষণ্ন দেখাচ্ছিল। স্ত্রীর মরদেহের দিকে কিছুক্ষণ নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। এরপর তিনি জানাজার নামাজে অংশ নেন।পরে সিতি হাসমাহর মরদেহ নেয়া হয় পুত্রজায়ার ২০ নম্বর প্রিসিঙ্কটের ন্যাশনাল সিমেট্রিতে। মোটরচালিত হুইলচেয়ারে বসেই স্ত্রীর দাফনের পুরো প্রক্রিয়া দেখেন মাহাথির। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন।দীর্ঘ সাত দশকের দাম্পত্য জীবনের পর সঙ্গীকে হারিয়ে অনেকটা ভেঙে পড়েছেন তিনি। গভীর শোক আর চোখের জলে প্রিয়জনকে বিদায় দিয়েছেন এই প্রবীণ রাজনীতিক।মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী আর নেই। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০০ বছর বয়সে তিনি মারা যান।তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ছেলে তান শ্রী মোখজানি মাহাথির। বারনামাকে তিনি মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি জানান।এই শোকের খবরে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ড. সিতি হাসমাহর প্রয়াণ সমাজ ও দেশের জন্য বড় ক্ষতি। কুয়ালালামপুরের আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ার (আইআইইউএম) আইএসটিএসি ক্যাম্পাসে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিউচার কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার আগে তিনি এ কথা বলেন।একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিদের ড. সিতি হাসমাহর আত্মার মাগফিরাত কামনায় সুরা ফাতিহা পাঠের আহ্বান জানান।দীর্ঘ জীবনে চিকিৎসা, জনসেবা ও সামাজিক কাজকর্মে সক্রিয় ছিলেন ড. সিতি হাসমাহ। মাহাথির মোহাম্মদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি মালয়েশিয়ার জনপরিসরে পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।মালয়েশিয়ার চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন ড. সিতি হাসমাহ। তিনি দেশটির ইতিহাসের একেবারে শুরুর দিকের মালয় নারী চিকিৎসকদের একজন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়াশোনা সম্পন্ন করার পর তিনি চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ কর্মজীবন অতিবাহিত করেন। বিশেষ করে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ও মা-শিশু সুরক্ষায় তার ভূমিকা সর্বজনস্বীকৃত।১৯৫৬ সালে মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মাহাথির মোহাম্মদের দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্বকালে তিনি দেশটির ফার্স্ট লেডি হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।তার প্রয়াণে মালয়েশিয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা