গণবার্তা

অতিরিক্ত পেটের গ্যাস: স্বাভাবিক নাকি রোগের সতর্ক সংকেত?

অতিরিক্ত পেটের গ্যাস: স্বাভাবিক নাকি রোগের সতর্ক সংকেত?

পেটের গ্যাস বা বায়ুত্যাগ একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন—বারবার গ্যাস হওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, নাকি এটি একেবারেই স্বাভাবিক

চিকিৎসকদের মতে, গ্যাস হওয়া সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অগাস্টা ইউনিভার্সিটির মেডিকেল কলেজ অব জর্জিয়ার মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. সতীশ রাও জানান, একজন সুস্থ মানুষ দিনে গড়ে ৭ থেকে ২৪ বার গ্যাস ত্যাগ করতে পারেন। এটি হজম প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ।

ডা. রাও বলেন, অন্ত্রে খাবার হজমের সময় ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে যে ফারমেন্টেশন হয়, সেখান থেকেই গ্যাস তৈরি হয়। এই গ্যাসের প্রধান উপাদান নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও হাইড্রোজেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো—গ্যাসের ৯৯ শতাংশই গন্ধহীন; সামান্য সালফারযুক্ত উপাদান থেকেই দুর্গন্ধ তৈরি হয়, যা মানুষের নাক খুব সহজে শনাক্ত করতে পারে।

চিকিৎসকদের ব্যাখ্যায়, তৈরি হওয়া গ্যাস শরীর থেকে বের হওয়ার দুটি পথ আছে। একাংশ রক্তে শোষিত হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে বের হয়, আর বাকি অংশ পায়ুপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে। বিশেষ করে ঘুমের সময় পেশি শিথিল থাকায় গ্যাস সহজে বেরিয়ে যেতে পারে।

কারা বেশি গ্যাসে ভোগেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার ওপর গ্যাসের মাত্রা অনেকটাই নির্ভর করে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফোলাসাদে পি. মে জানান, যারা দ্রুত খাবার খান, বেশি চুইংগাম চিবান বা কার্বোনেটেড পানীয় পান করেন, তারা বেশি বাতাস গিলে ফেলেন—ফলে গ্যাসের পরিমাণ বাড়তে পারে।

এ ছাড়া অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ধরন, হজমের গতি এবং কিছু ওষুধও গ্যাস বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। মানসিক চাপ ও উদ্বেগও গ্যাসের সমস্যা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যাদের ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম’ বা অন্যান্য কার্যকরী অন্ত্রজনিত সমস্যা রয়েছে।

কোন খাবারে গ্যাস বেশি হয়

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কিছু খাবার স্বাভাবিকভাবেই বেশি গ্যাস তৈরি করে। এগুলোকে বলা হয় ফডম্যাপ (FODMAP) খাবার—যার মধ্যে রয়েছে শিম, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, বাঁধাকপি, ব্রকলি, কিছু ফল ও পূর্ণশস্য। ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারও গ্যাস বাড়াতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন

চিকিৎসকদের মতে, গ্যাস তখনই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, যখন তা ব্যথা, অস্বস্তি বা দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করে। যদি নিয়মিতভাবে দিনে ২৪ বারের বেশি গ্যাস হয় এবং এর সঙ্গে ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা মলে রক্ত দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডা. মে জানান, এসব ক্ষেত্রে সিলিয়াক রোগ, প্রদাহজনিত অন্ত্ররোগ, ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা, অগ্ন্যাশয়ের এনজাইম ঘাটতি বা অন্ত্রে অতিরিক্ত ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির মতো সমস্যাগুলো পরীক্ষা করে দেখা হয়।

চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন, প্রয়োজনে খাদ্যতালিকা লিখে রাখা এবং কোন খাবারে গ্যাস বাড়ছে তা শনাক্ত করা যেতে পারে। বর্তমানে কিছু মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করাও সম্ভব, যদিও এগুলো চিকিৎসার বিকল্প নয়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, গ্যাস হওয়া নিয়ে অযথা লজ্জা বা দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ব্যথা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ না থাকলে এটি শরীরের স্বাভাবিক কাজেরই অংশ।

দ্য হাফিংটন পোস্ট অবলম্বনে 

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


অতিরিক্ত পেটের গ্যাস: স্বাভাবিক নাকি রোগের সতর্ক সংকেত?

প্রকাশের তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
পেটের গ্যাস বা বায়ুত্যাগ একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন—বারবার গ্যাস হওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, নাকি এটি একেবারেই স্বাভাবিকচিকিৎসকদের মতে, গ্যাস হওয়া সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অগাস্টা ইউনিভার্সিটির মেডিকেল কলেজ অব জর্জিয়ার মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. সতীশ রাও জানান, একজন সুস্থ মানুষ দিনে গড়ে ৭ থেকে ২৪ বার গ্যাস ত্যাগ করতে পারেন। এটি হজম প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ।ডা. রাও বলেন, অন্ত্রে খাবার হজমের সময় ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে যে ফারমেন্টেশন হয়, সেখান থেকেই গ্যাস তৈরি হয়। এই গ্যাসের প্রধান উপাদান নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও হাইড্রোজেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো—গ্যাসের ৯৯ শতাংশই গন্ধহীন; সামান্য সালফারযুক্ত উপাদান থেকেই দুর্গন্ধ তৈরি হয়, যা মানুষের নাক খুব সহজে শনাক্ত করতে পারে।চিকিৎসকদের ব্যাখ্যায়, তৈরি হওয়া গ্যাস শরীর থেকে বের হওয়ার দুটি পথ আছে। একাংশ রক্তে শোষিত হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে বের হয়, আর বাকি অংশ পায়ুপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে। বিশেষ করে ঘুমের সময় পেশি শিথিল থাকায় গ্যাস সহজে বেরিয়ে যেতে পারে।কারা বেশি গ্যাসে ভোগেনবিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার ওপর গ্যাসের মাত্রা অনেকটাই নির্ভর করে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফোলাসাদে পি. মে জানান, যারা দ্রুত খাবার খান, বেশি চুইংগাম চিবান বা কার্বোনেটেড পানীয় পান করেন, তারা বেশি বাতাস গিলে ফেলেন—ফলে গ্যাসের পরিমাণ বাড়তে পারে।এ ছাড়া অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ধরন, হজমের গতি এবং কিছু ওষুধও গ্যাস বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। মানসিক চাপ ও উদ্বেগও গ্যাসের সমস্যা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যাদের ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম’ বা অন্যান্য কার্যকরী অন্ত্রজনিত সমস্যা রয়েছে।কোন খাবারে গ্যাস বেশি হয়চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কিছু খাবার স্বাভাবিকভাবেই বেশি গ্যাস তৈরি করে। এগুলোকে বলা হয় ফডম্যাপ (FODMAP) খাবার—যার মধ্যে রয়েছে শিম, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, বাঁধাকপি, ব্রকলি, কিছু ফল ও পূর্ণশস্য। ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারও গ্যাস বাড়াতে পারে।কখন সতর্ক হবেনচিকিৎসকদের মতে, গ্যাস তখনই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, যখন তা ব্যথা, অস্বস্তি বা দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করে। যদি নিয়মিতভাবে দিনে ২৪ বারের বেশি গ্যাস হয় এবং এর সঙ্গে ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা মলে রক্ত দেখা যায়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।ডা. মে জানান, এসব ক্ষেত্রে সিলিয়াক রোগ, প্রদাহজনিত অন্ত্ররোগ, ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা, অগ্ন্যাশয়ের এনজাইম ঘাটতি বা অন্ত্রে অতিরিক্ত ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির মতো সমস্যাগুলো পরীক্ষা করে দেখা হয়।চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন, প্রয়োজনে খাদ্যতালিকা লিখে রাখা এবং কোন খাবারে গ্যাস বাড়ছে তা শনাক্ত করা যেতে পারে। বর্তমানে কিছু মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করাও সম্ভব, যদিও এগুলো চিকিৎসার বিকল্প নয়।চিকিৎসকদের ভাষ্য, গ্যাস হওয়া নিয়ে অযথা লজ্জা বা দুশ্চিন্তার কিছু নেই। ব্যথা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ না থাকলে এটি শরীরের স্বাভাবিক কাজেরই অংশ।- দ্য হাফিংটন পোস্ট অবলম্বনে 

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা