গণবার্তা

ফাঁসির দণ্ড থেকে সংসদে: বাবর–পিন্টু–আজহার

ফাঁসির দণ্ড থেকে সংসদে: বাবর–পিন্টু–আজহার

ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদের পথে বাবর–পিন্টু–আজহার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন তিনজন আলোচিত নেতা—বিএনপির মো: লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াতের এ টি এম আজহারুল ইসলাম। একসময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই তিনজন এবার বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনী ফলাফল

  • নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরি)
    বিএনপির প্রার্থী মো: লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১,৬০,৮০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো: আল হেলাল পেয়েছেন ৩৯,৮৪০ ভোট। ব্যবধান এক লাখ ২০ হাজার ৯৬১।

  • টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর)
    বিএনপির আবদুস সালাম পিন্টু পেয়েছেন ১,৯৮,২১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের হুমায়ুন কবির পেয়েছেন ৬০,৮৭১ ভোট।

  • রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) 
    জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১,৩৯,৬৮০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৭৯,৯১০ ভোট।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট গ্রেফতার করা হয়। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আপিল বিভাগে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২৭ মে তাকে অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়।

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এর পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট শক্ত অবস্থানে উঠে আসে। সেই প্রেক্ষাপটে বাবর, পিন্টু ও আজহারুল ইসলাম সংসদে প্রবেশের সুযোগ পান।

এই তিনজনের বিজয় শুধু নির্বাচনী ফল নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নাটকীয় মোড়। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তির পর আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পেয়ে সংসদে প্রবেশ তাদের রাজনৈতিক জীবনের এক অভাবনীয় অধ্যায়।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬


ফাঁসির দণ্ড থেকে সংসদে: বাবর–পিন্টু–আজহার

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদের পথে বাবর–পিন্টু–আজহারত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন তিনজন আলোচিত নেতা—বিএনপির মো: লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াতের এ টি এম আজহারুল ইসলাম। একসময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই তিনজন এবার বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।নির্বাচনী ফলাফল নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুরি) বিএনপির প্রার্থী মো: লুৎফুজ্জামান বাবর ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১,৬০,৮০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো: আল হেলাল পেয়েছেন ৩৯,৮৪০ ভোট। ব্যবধান এক লাখ ২০ হাজার ৯৬১। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) বিএনপির আবদুস সালাম পিন্টু পেয়েছেন ১,৯৮,২১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের হুমায়ুন কবির পেয়েছেন ৬০,৮৭১ ভোট।রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১,৩৯,৬৮০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার পেয়েছেন ৭৯,৯১০ ভোট।২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।অন্যদিকে এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট গ্রেফতার করা হয়। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আপিল বিভাগে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২৭ মে তাকে অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়।ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এর পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট শক্ত অবস্থানে উঠে আসে। সেই প্রেক্ষাপটে বাবর, পিন্টু ও আজহারুল ইসলাম সংসদে প্রবেশের সুযোগ পান।এই তিনজনের বিজয় শুধু নির্বাচনী ফল নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নাটকীয় মোড়। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তির পর আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পেয়ে সংসদে প্রবেশ তাদের রাজনৈতিক জীবনের এক অভাবনীয় অধ্যায়।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ 
প্রকাশকঃ ফিরোজ আল-মামুন 

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা