চাঞ্চল্যকর তথ্য: প্রেসিডেন্টকে অপসারণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার গল্প
প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন সম্প্রতি এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তাঁর বঙ্গভবনে কাটানো ১৮ মাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেড় বছর কোনো আলোচনায় না থেকেও তাঁকে ঘিরে নানা চক্রান্ত চলেছে। সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করে তাঁকে অপসারণের একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে সবই ব্যর্থ হয়।
প্রেসিডেন্টের বর্ণনায়, গণঅভ্যুত্থানের কিছু নেতার চাপ এবং কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তে তাঁকে অপসারণের চেষ্টা হয়। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারও এ বিষয়ে সুর মিলিয়েছিল। বিভিন্ন গ্রুপে বৈঠক হয়, আলোচনা চলে, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে—এমন পরিকল্পনা ছিল।
তিনি বলেন, কঠিন সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর পাশে ছিল। তাঁরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ব্যাপারে স্পষ্ট অবস্থান নেন এবং প্রেসিডেন্টকে আশ্বস্ত করেন যে তাঁকে অপসারণের পক্ষে তারা নয়। এ কারণে অপসারণের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।
প্রেসিডেন্ট জানান, সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ সমর্থন পাওয়া যায়। ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকরাও তাঁর পাশে ছিলেন এবং চাননি তিনি অসাংবিধানিকভাবে অপসারিত হোন।
প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সংবিধানের বিধান মানেননি। বিদেশ সফর শেষে প্রেসিডেন্টকে জানানো উচিত হলেও তিনি কখনো তা করেননি। তাঁর আমলে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হয়, কিন্তু প্রেসিডেন্টকে জানানো হয়নি। এছাড়া ড. ইউনূস বঙ্গভবনে যাননি, প্রেস উইং বন্ধ করে দেন এবং প্রেসিডেন্টকে আড়ালে রাখার চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, দুইবার তাঁর বিদেশ সফর আটকে দেওয়া হয়। কেবিনেট সেক্রেটারি, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ও জনপ্রশাসন সচিবকে বারবার ফোন করলেও তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
সারসংক্ষেপ: প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে রাজনৈতিক চক্রান্ত, সাংবিধানিক সংকট এবং তাঁর দৃঢ় অবস্থানের গল্প। বিএনপি, সশস্ত্র বাহিনী ও বিদেশি কূটনীতিকদের সমর্থনেই অপসারণের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।

বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন