মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য। তিনি বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র এখনো 'কঠোর আঘাত' শুরুই করেনি। বড় ধরনের হামলা এখনো বাকি এবং শিগগিরই 'মূল আক্রমণ' চালানো হবে। অন্যদিকে, কাতার দাবি করেছে, তারা ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। আর ব্রিটেন জানিয়েছে, তারা সরাসরি হামলায় অংশ নিচ্ছে না, তবে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। ইরানি জনগণকে দেশটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার জন্য সামরিক হামলার বাইরেও যুক্তরাষ্ট্র আরও কিছু করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প 'হ্যাঁ' সূচক জবাব দেন। তিনি বলেন, 'আমরা সত্যিই তা করছি। তবে এই মুহূর্তে আমরা চাই সবাই ভেতরে (নিরাপদ স্থানে) অবস্থান করুক। বাইরে পরিস্থিতি নিরাপদ নয়।' প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, পরিস্থিতি আরও অনিরাপদ হতে পারে।
ট্রাম্পের ভাষ্যে, 'আমরা এখনো তাদের (ইরান) ওপর কঠোর আঘাত করা শুরুই করিনি। বড় ধরনের হামলা এখনো আসেনি। মূল আক্রমণটি শিগগিরই আসছে।'
এদিকে আজ সোমবার এক বিবৃতিতে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দুটি ইরানি এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। সেইসঙ্গে ইরানের ছোড়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পাঁচটি ড্রোনও প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে কাতার।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে মার্কিন লক্ষ্য অর্জনে সময় লাগবে এবং এতে আরও মার্কিন সেনার প্রাণহানি হতে পারে। তিনি বলেন, 'আমরা আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছি। তবে বরাবরের মতোই মার্কিন ক্ষয়ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে আমরা কাজ করব।' কেইন আরও বলেন, সামরিক বাহিনীকে যেসব লক্ষ্য অর্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা শেষ করতে সময় লাগবে এবং কিছুক্ষেত্রে এই কাজটি কঠিন ও শ্রমসাধ্য হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য এই অভিযান চালানো হচ্ছে না। তবে এই অভিযানের প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। তিনি দাবি করেন, ইরান শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরি করছিল এবং পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সুরক্ষা দিতে এগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। জেনারেল কেইনের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, 'এটি তথাকথিত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের (রেজিম চেঞ্জ) যুদ্ধ নয়। তবে শাসনব্যবস্থা যে বদলে গেছে, তা নিশ্চিত।'
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলায় অংশ নিচ্ছে না যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আজ সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন তিনি।
স্টারমার জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডারগুলো বা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস করার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল। বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করতে যুক্তরাজ্য এ অনুরোধে সম্মত হয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ইরান যাতে এই অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে না পারে, সে জন্য আমি এই নতুন অনুরোধে সায় দিয়েছি।' তবে তিনি এও জানান, যুক্তরাজ্য সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না।
স্টারমার আরও উল্লেখ করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা ধ্বংস করতে ফ্রান্স ও জার্মানি তাদের সামরিক ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের অনুমতি দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
ট্রাম্পের 'মূল আক্রমণ' শিগগিরই আসছে—এই হুঁশিয়ারি, কাতারের ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি, আর ব্রিটেনের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। ইরানের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণার পর মার্কিন এই হুঁশিয়ারি অঞ্চলে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা উস্কে দিয়েছে। আমরা এই ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিয়মিত খবর রাখছি।

বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন