গণবার্তা

ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় জামায়াতের তিন নেতা, সরকারের প্রস্তাবে সাড়া দেবে কি দলটি?

ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় জামায়াতের তিন নেতা, সরকারের প্রস্তাবে সাড়া দেবে কি দলটি?

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের পদটি এবার পেতে যাচ্ছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ডেপুটি স্পিকার পদে সম্ভাব্য তিনজন জামায়াত নেতার নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। যদিও দলীয়ভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি জামায়াত।

জানা গেছে, জামায়াতের একজন নায়েবে আমির এবং দুজন আইনজীবী সংসদ-সদস্যের নাম এখন আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ও পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি একজন মেধাবী আইনজীবী হিসাবেও পরিচিত। বাবা নিজামীর যুদ্ধাপরাধের মামলার পাশাপাশি মাওলানা আব্দুস সুবহানের মামলায়ও ডিফেন্স আইনজীবী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ভিআইপি আসন হিসাবে পরিচিত পাবনা-১ থেকে নির্বাচিত হয়ে সর্বশেষ ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছিলেন শামসুল হক টুকু। একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে এর আগে মন্ত্রী হয়েছিলেন মতিউর রহমান নিজামী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের। সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই আসন থেকে নির্বাচিত হিসাবে মোমেনকেই জামায়াতের পছন্দের তালিকায় প্রথম সারিতে রাখা হয়েছে।

এছাড়া জামায়াতের নায়েবে আমির রাজশাহী-১ আসন থেকে নির্বাচিত অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের নামও সম্ভাব্য ডেপুটি স্পিকার হিসাবে আলোচনায় আছে। তিনি দলের সিনিয়র নেতা এবং ১৯৮৬ সালের সংসদে জামায়াত সংসদীয় দলের নেতা হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তৃতীয় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাসেম আরমানের নাম বলছেন অনেকে। সুপ্রিমকোর্টের মেধাবী আইনজীবী আরমান নিজের পিতা মীর কাসেম আলীর মামলাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ডিফেন্স আইনজীবী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে প্রায় ৯ বছর গুম হয়ে আয়না ঘরে থাকায় তার প্রতি দলের অনেকের সহানুভূতি রয়েছে।

বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের বিষয়টি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরপরই আলোচনায় আসে। কারণ জুলাই সনদের অঙ্গীকারের মধ্যে বিষয়টি উল্লেখ ছিল। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ঠিক করার জন্য প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসাবে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা এখন থেকে তা বাস্তবায়ন শুরু করতে চাই। সেজন্য আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রধান বিরোধী দলকে মৌখিক ও সাক্ষাতে অফার করেছি যে, তারা যেন ডেপুটি স্পিকার ঠিক করেন এবং স্পিকার নির্বাচনের দিনই যেন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হতে পারে।'

উচ্চকক্ষ গঠনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এটা আলাপ-আলোচনার বিষয়। তবে আমরা ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার বিষয়টি এখন অফার করতেই পারি। যদিও চাইলে সরকারি দল স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দুটোই নিতে পারে। তবে জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার একজন বিরোধী দল থেকে হবেন। সেটা আমরা এখনই "গুড উইল" হিসাবে অফার করেছি।'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হালিম যুগান্তরকে বলেন, ডেপুটি স্পিকারের পদের বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, 'মোবাইল সাংবাদিকরা কারও কারও নাম উল্লেখ করে নিউজ করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা পোস্ট দিচ্ছে। এর কোনোটাই সঠিক নয়। আমরা শিগগিরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাব।'

সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার এই প্রস্তাব রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করল। জামায়াতের ভেতরে এখন চলছে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনের চিন্তাভাবনা। ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাসেম আরমান—এই তিনজনের মধ্যে কে হচ্ছেন জামায়াতের পছন্দ, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সবই জল্পনা।

বিষয় : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬


ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় জামায়াতের তিন নেতা, সরকারের প্রস্তাবে সাড়া দেবে কি দলটি?

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

featured Image
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের পদটি এবার পেতে যাচ্ছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ডেপুটি স্পিকার পদে সম্ভাব্য তিনজন জামায়াত নেতার নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। যদিও দলীয়ভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি জামায়াত।জানা গেছে, জামায়াতের একজন নায়েবে আমির এবং দুজন আইনজীবী সংসদ-সদস্যের নাম এখন আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ও পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি একজন মেধাবী আইনজীবী হিসাবেও পরিচিত। বাবা নিজামীর যুদ্ধাপরাধের মামলার পাশাপাশি মাওলানা আব্দুস সুবহানের মামলায়ও ডিফেন্স আইনজীবী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।উল্লেখ্য, ভিআইপি আসন হিসাবে পরিচিত পাবনা-১ থেকে নির্বাচিত হয়ে সর্বশেষ ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছিলেন শামসুল হক টুকু। একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে এর আগে মন্ত্রী হয়েছিলেন মতিউর রহমান নিজামী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের। সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই আসন থেকে নির্বাচিত হিসাবে মোমেনকেই জামায়াতের পছন্দের তালিকায় প্রথম সারিতে রাখা হয়েছে।এছাড়া জামায়াতের নায়েবে আমির রাজশাহী-১ আসন থেকে নির্বাচিত অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের নামও সম্ভাব্য ডেপুটি স্পিকার হিসাবে আলোচনায় আছে। তিনি দলের সিনিয়র নেতা এবং ১৯৮৬ সালের সংসদে জামায়াত সংসদীয় দলের নেতা হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।তৃতীয় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাসেম আরমানের নাম বলছেন অনেকে। সুপ্রিমকোর্টের মেধাবী আইনজীবী আরমান নিজের পিতা মীর কাসেম আলীর মামলাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ডিফেন্স আইনজীবী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে প্রায় ৯ বছর গুম হয়ে আয়না ঘরে থাকায় তার প্রতি দলের অনেকের সহানুভূতি রয়েছে।বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের বিষয়টি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরপরই আলোচনায় আসে। কারণ জুলাই সনদের অঙ্গীকারের মধ্যে বিষয়টি উল্লেখ ছিল। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ঠিক করার জন্য প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসাবে জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা এখন থেকে তা বাস্তবায়ন শুরু করতে চাই। সেজন্য আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রধান বিরোধী দলকে মৌখিক ও সাক্ষাতে অফার করেছি যে, তারা যেন ডেপুটি স্পিকার ঠিক করেন এবং স্পিকার নির্বাচনের দিনই যেন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হতে পারে।'উচ্চকক্ষ গঠনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এটা আলাপ-আলোচনার বিষয়। তবে আমরা ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার বিষয়টি এখন অফার করতেই পারি। যদিও চাইলে সরকারি দল স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দুটোই নিতে পারে। তবে জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার একজন বিরোধী দল থেকে হবেন। সেটা আমরা এখনই "গুড উইল" হিসাবে অফার করেছি।'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হালিম যুগান্তরকে বলেন, ডেপুটি স্পিকারের পদের বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, 'মোবাইল সাংবাদিকরা কারও কারও নাম উল্লেখ করে নিউজ করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা পোস্ট দিচ্ছে। এর কোনোটাই সঠিক নয়। আমরা শিগগিরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাব।'সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার এই প্রস্তাব রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করল। জামায়াতের ভেতরে এখন চলছে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনের চিন্তাভাবনা। ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও ব্যারিস্টার আহমাদ বিন কাসেম আরমান—এই তিনজনের মধ্যে কে হচ্ছেন জামায়াতের পছন্দ, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সবই জল্পনা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ 
প্রকাশকঃ ফিরোজ আল-মামুন 

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা