ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

রাতে চুলকানি বাড়লে ও আঙুলের ফাঁকে র্যাশ থাকলে সতর্ক হোন

চুলকানি মানেই অ্যালার্জি নয়, স্ক্যাবিস হতে পারে সাবধান

চুলকানি মানেই অ্যালার্জি নয়, স্ক্যাবিস হতে পারে সাবধান

ত্বকে চুলকানি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। আশপাশে অনেকেই এ সমস্যায় ভুগছেন। কারও কারও চুলকানি এতটাই মারাত্মক হয়ে যায় যে জীবনযাত্রাই ব্যাহত হয়। বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন শরীর চুলকানো মানেই অ্যালার্জি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুলকানি মানেই যে অ্যালার্জি, তা ঠিক নয়।

সম্প্রতি দেশে স্ক্যাবিসের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে অতিমাত্রায়। অ্যালার্জি ছাড়াও এই স্ক্যাবিসই এখন চুলকানির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসুন জেনে নিই এই রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত।

স্ক্যাবিস কী

স্ক্যাবিস একটি সাধারণ চর্মরোগ, যার অন্যতম লক্ষণ সারা শরীর চুলকানো। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে বা তাঁর ব্যবহার্য জিনিসপত্র ব্যবহার করলে (পোশাক, বিছানা, তোয়ালে ইত্যাদি) দ্রুত অন্যজনে সংক্রমিত হতে পারে।

এই রোগ হয় ক্ষুদ্র পরজীবী সারকোপটিস স্ক্যাবির মাধ্যমে। এই পরজীবীকে খালি চোখে দেখা যায় না। এটি ত্বকের ওপরের স্তরে সুড়ঙ্গ তৈরি করে বসবাস করে এবং চুলকানির সৃষ্টি করে।

যেভাবে স্ক্যাবিস বুঝবেন

স্ক্যাবিসের রোগীদের তীব্র চুলকানি হয়, বিশেষ করে রাতে এই উপসর্গ বেড়ে যায়। চুলকানির কারণে অনেকে ঘুমাতেও পারেন না। ত্বকে ছোট ছোট লাল দানা বা ফুসকুড়ির মতো হতে পারে।

চুলকানি ও দানাগুলো শরীরের কিছু বিশেষ অংশে বেশি হয়। যেমন—

  • আঙুলের ফাঁকা জায়গা

  • কনুইয়ের ভাঁজ

  • কোমর ও নাভির পাশে

  • কুঁচকি ও যৌনাঙ্গে

  • নারীদের স্তনের নিচে

শিশুদের ক্ষেত্রে মাথা ও মুখেও হতে পারে। শিশু ও যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাঁরা স্ক্যাবিসে বেশি আক্রান্ত হন।

চিকিৎসা কী

স্ক্যাবিসের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ আছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহারের পরামর্শ দেন চিকিৎসক। এসব ওষুধ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে সেরে ওঠা সম্ভব।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে—

  • পরিবারের অন্য কেউ যদি স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হন, তাঁকেও চিকিৎসা দিতে হবে।

  • শরীর যাতে কম চুলকায়, তার জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

  • স্ক্যাবিসের কিছু ধরন বেশ প্রতিরোধী হয়, সেক্ষেত্রে আলাদা কিছু ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়

স্ক্যাবিস চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা জরুরি। যে পরজীবীর মাধ্যমে এটি ছড়ায়, সেটি কাপড়চোপড়, বিছানার চাদর, বালিশ ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রে থেকে যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে সেটি আবার সংক্রমিত করতে পারে।

এ কারণে কিছু সতর্কতা নিন—

  • আক্রান্ত ব্যক্তির কাপড়, চাদর, তোয়ালে গরম পানি ও জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে নিন

  • কাপড় কড়া রোদে শুকাতে হবে অথবা ইস্ত্রি করে নিতে হবে

  • আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন

  • রোগ পুরোপুরি সেরে না যাওয়া পর্যন্ত একই বিছানা, তোয়ালে ব্যবহার করবেন না

চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

স্ক্যাবিস অবহেলা করার মতো রোগ নয়। অনেকেই রোগটি সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে বা চিকিৎসককে না দেখিয়ে নিজে নিজে কিছু ক্রিম ব্যবহার করে এ রোগকে আরও জটিল করে ফেলেন।

ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চুলকানি থাকলে, বিশেষ করে রাতে চুলকানি বেড়ে গেলে এবং আঙুলের ফাঁকে র্যাশ দেখা দিলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসায় স্ক্যাবিস সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


চুলকানি মানেই অ্যালার্জি নয়, স্ক্যাবিস হতে পারে সাবধান

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬

featured Image
ত্বকে চুলকানি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। আশপাশে অনেকেই এ সমস্যায় ভুগছেন। কারও কারও চুলকানি এতটাই মারাত্মক হয়ে যায় যে জীবনযাত্রাই ব্যাহত হয়। বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন শরীর চুলকানো মানেই অ্যালার্জি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুলকানি মানেই যে অ্যালার্জি, তা ঠিক নয়।সম্প্রতি দেশে স্ক্যাবিসের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে অতিমাত্রায়। অ্যালার্জি ছাড়াও এই স্ক্যাবিসই এখন চুলকানির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসুন জেনে নিই এই রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত।স্ক্যাবিস কীস্ক্যাবিস একটি সাধারণ চর্মরোগ, যার অন্যতম লক্ষণ সারা শরীর চুলকানো। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে বা তাঁর ব্যবহার্য জিনিসপত্র ব্যবহার করলে (পোশাক, বিছানা, তোয়ালে ইত্যাদি) দ্রুত অন্যজনে সংক্রমিত হতে পারে।এই রোগ হয় ক্ষুদ্র পরজীবী সারকোপটিস স্ক্যাবির মাধ্যমে। এই পরজীবীকে খালি চোখে দেখা যায় না। এটি ত্বকের ওপরের স্তরে সুড়ঙ্গ তৈরি করে বসবাস করে এবং চুলকানির সৃষ্টি করে।যেভাবে স্ক্যাবিস বুঝবেনস্ক্যাবিসের রোগীদের তীব্র চুলকানি হয়, বিশেষ করে রাতে এই উপসর্গ বেড়ে যায়। চুলকানির কারণে অনেকে ঘুমাতেও পারেন না। ত্বকে ছোট ছোট লাল দানা বা ফুসকুড়ির মতো হতে পারে।চুলকানি ও দানাগুলো শরীরের কিছু বিশেষ অংশে বেশি হয়। যেমন—আঙুলের ফাঁকা জায়গাকনুইয়ের ভাঁজকোমর ও নাভির পাশেকুঁচকি ও যৌনাঙ্গেনারীদের স্তনের নিচেশিশুদের ক্ষেত্রে মাথা ও মুখেও হতে পারে। শিশু ও যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাঁরা স্ক্যাবিসে বেশি আক্রান্ত হন।চিকিৎসা কীস্ক্যাবিসের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ আছে, যা প্রয়োজনে ব্যবহারের পরামর্শ দেন চিকিৎসক। এসব ওষুধ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে সেরে ওঠা সম্ভব।চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে—পরিবারের অন্য কেউ যদি স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হন, তাঁকেও চিকিৎসা দিতে হবে।শরীর যাতে কম চুলকায়, তার জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।স্ক্যাবিসের কিছু ধরন বেশ প্রতিরোধী হয়, সেক্ষেত্রে আলাদা কিছু ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।প্রতিরোধের উপায়স্ক্যাবিস চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা জরুরি। যে পরজীবীর মাধ্যমে এটি ছড়ায়, সেটি কাপড়চোপড়, বিছানার চাদর, বালিশ ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রে থেকে যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে সেটি আবার সংক্রমিত করতে পারে।এ কারণে কিছু সতর্কতা নিন—আক্রান্ত ব্যক্তির কাপড়, চাদর, তোয়ালে গরম পানি ও জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে নিনকাপড় কড়া রোদে শুকাতে হবে অথবা ইস্ত্রি করে নিতে হবেআক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুনরোগ পুরোপুরি সেরে না যাওয়া পর্যন্ত একই বিছানা, তোয়ালে ব্যবহার করবেন নাচিকিৎসকের পরামর্শ নিনস্ক্যাবিস অবহেলা করার মতো রোগ নয়। অনেকেই রোগটি সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে বা চিকিৎসককে না দেখিয়ে নিজে নিজে কিছু ক্রিম ব্যবহার করে এ রোগকে আরও জটিল করে ফেলেন।ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চুলকানি থাকলে, বিশেষ করে রাতে চুলকানি বেড়ে গেলে এবং আঙুলের ফাঁকে র্যাশ দেখা দিলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসায় স্ক্যাবিস সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা