ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে দুটি নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি, অকেজো ডেমু ট্রেনকে স্বল্প দূরত্বের কমিউটার ট্রেনে রূপান্তর এবং জনপ্রিয় রুটে বেসরকারি ট্রেন চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রেলপথ মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়নযোগ্য অংশগুলোর কার্যক্রম দৃশ্যমান করতে চায়।
প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় ঢাকা-পাবনা-ঢাকা ও ঢাকা-খুলনা-ঢাকা রুটে দুটি নতুন আন্তনগর ট্রেন সার্ভিস চালুর কথা বলা হয়েছে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত থেকে আনা ২০০টি কোচের প্রথম চালান আগামী মে-জুন মাসে এসে পৌঁছাবে। নতুন এই কোচগুলো আসার পরই সম্ভবত নতুন ট্রেন সার্ভিস দুটি চালু করা হবে।
পরিকল্পনায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো রেলওয়ের অকেজো ও অব্যবহৃত ডেমু ট্রেনগুলোর পুনর্ব্যবহার। সেগুলোকে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেনে রূপান্তর করতে আগ্রহী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিটি আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে একটি করে ডেমু ট্রেন সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এর মধ্যে সেরা কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি বাকি ডেমু ট্রেনগুলো সংস্কারের কাজ পাবে।
এছাড়া, জনপ্রিয় রুটে বেসরকারি অংশীদারদের সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে বলা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বেসরকারি ট্রেন চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভার আলোচ্য সূচিতে আরও রয়েছে:
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, _‘রেলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় এসব দিকনির্দেশনার বাইরেও আরও কিছু যুক্ত হতে পারে।’
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, _‘রেল উন্নয়নের উদ্যোগগুলো প্রয়োজনীয়। তবে বাস্তবায়নের আগে রেলের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষ জনবলের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। ইঞ্জিন-কোচের সংকটের পাশাপাশি প্রযুক্তি বোঝার মতো মানবসম্পদও দরকার। ডেমু ট্রেন পুনরায় চালুর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেটি টেকসই ও ব্যয়সাশ্রয়ী হবে কি না তা যাচাই করা জরুরি।’_ তিনি রেল পরিচালনায় অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে উদ্যোগগুলো পর্যালোচনার পরামর্শ দেন।

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন