বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে নিহত আবদুর রাজ্জাক সরদারের পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। বেলা আড়াইটায় অনুষ্ঠিত এ জানাজায় রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্বজনসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
মোংলা কবরস্থানের খাদেম মো. মুজিবুর ফকির বলেন, “পরিবারের সম্মতিতে আমরা একই স্থানে পাশাপাশি ৯টি কবর প্রস্তুত করেছি। ১৭ বছর ধরে কবরস্থানের দায়িত্ব পালন করছি। কখনো একসাথে একই পরিবারের এত সদস্যের কবর খুঁড়ি নাই। ঘটনাটা খুবই হৃদয়বিদারক।”
জানাজার নামাজ শুরুর আগে একে একে নিহত ৯ জনের খাটিয়া পাশাপাশি রাখা হয়। জানাজা শেষে মানবদেহগুলো মোংলা সরকারি কবরস্থানে নেওয়া হয়। আগে থেকে সেখানে সমাহিত করা হয় তাঁদের।
জানাজার নামাজ শুরুর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে নিহত আবদুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল আলম (জনি) উপস্থিত সবার উদ্দেশে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, “আমার আর কিছুই থাকল না। বাবা, ভাই, বোন, স্ত্রী-সন্তান—সবাই চলে গেল। এটিই হয়তো ছিল আল্লাহর ফয়সালা। আপনারা সবাই দোয়া করবেন, তাঁদের ক্ষমা করে দেবেন।” আশরাফুল আলমের আকুতি আর উপস্থিত মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে আকাশ–বাতাস।
মোংলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন জানাজায় ইমামতি করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন—
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক (রাহাদ)
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী প্রমুখ
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, “যে বাড়িতে আজ আনন্দের ফল্গুধারা থাকার কথা, সেখানে আজ বিষাদের কালো ছায়া। আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।”
বক্তব্যে পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র জুলফিকার আলী খুলনা-মোংলা মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের প্রতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিশেষভাবে নৌবাহিনীর গাড়িগুলোর গতিসীমা বেঁধে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
একই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কনে, তাঁর বোন ও দাদির জানাজা খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে আজ সকালে এবং জুমার নামাজের পর কনের নানির জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বেলা ১১টায় বাগেরহাট রামপালে মাইক্রোবাসচালকের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের (ছাব্বির)। কনের বাড়িতে বিয়ের পর বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নববধূসহ কয়রা থেকে বাগেরহাটের মোংলার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বরযাত্রীরা। বর-কনেসহ দুই পরিবারের ১৪ জন ওঠেন একটি মাইক্রোবাসে। তাঁদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি মোংলার কাছাকাছি রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় বিপরীত দিক দিয়ে আসা নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ৪টিই শিশু। তাদের মধ্যে দুই শিশুর বয়স দুই বছরের কম। নিহত হয়েছেন তাদের মায়েরাও। আহত একজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন