পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার বিশ্বজুড়ে পালিত হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক কুদস দিবস’। ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং জেরুজালেম (আল-কুদস)-এর পবিত্রতা রক্ষার দাবিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় বড় সমাবেশ, বিক্ষোভ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইরানের রাজধানী তেহরানে এ উপলক্ষে লাখো মানুষের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা ফিলিস্তিনি পতাকা ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন। অনেকের হাতে ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতির বিরোধিতা করে লেখা স্লোগানসংবলিত ব্যানার।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমাবেশ চলাকালে তেহরানের আকাশে একটি বিমান হামলার ঘটনা ঘটে এবং এতে অন্তত একজন নারী নিহত হন। হামলার পর কিছু এলাকায় ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। ঘটনাটি ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও সমাবেশ অব্যাহত থাকে।
ইরানের বিভিন্ন শীর্ষ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারাও সমাবেশে অংশ নেন। তারা ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন এবং জেরুজালেমকে মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ পবিত্র স্থান হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার ছবি ও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের নানা দেশে কুদস দিবস উপলক্ষে বড় বড় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে—
মালয়েশিয়া: রাজধানী কুয়ালালামপুরে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়
ইন্দোনেশিয়া: জাকার্তায় ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে বিক্ষোভ মিছিল করেন হাজার হাজার মানুষ
ভারতশাসিত কাশ্মীর: শ্রীনগরসহ বিভিন্ন শহরে কুদস দিবস উপলক্ষে সমাবেশ ও বিক্ষোভ হয়
তুরস্ক: ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারাসহ কয়েকটি শহরে সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়
ইয়েমেন: রাজধানী সানায় লাখো মানুষের বিশাল মিছিল বের হয়
লেবানন: বৈরুত ও বিভিন্ন ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে বিশেষ সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়
১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনী রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে ‘আন্তর্জাতিক কুদস দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। জেরুজালেম (আল-কুদস)-এর ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এই দিবস পালনের আহ্বান জানানো হয়।
এর পর থেকে প্রতি বছর রমজানের শেষ শুক্রবার মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশসহ ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন শহরে কুদস দিবস পালিত হয়ে আসছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও জেরুজালেমের মর্যাদা রক্ষার দাবিতে সমাবেশ, বিক্ষোভ ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।
এ বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কুদস দিবস পালিত হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি আলোচনায় এসেছে। তেহরানের সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইরানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, বিক্ষোভে হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষ তাদের দুর্বলতাই প্রকাশ করেছে এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন