যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাঈনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। পবিত্র রমজান মাসের শেষ দিনে ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘পবিত্র রমজান মাসের শেষ দিনে ভোরে আমেরিকান-জায়নবাদী শত্রুদের অপরাধমূলক সন্ত্রাসী হামলায় ইসলামী বিপ্লব রক্ষীবাহিনীর জনসংযোগ উপমন্ত্রী ও মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাঈনি সম্মানজনক শাহাদাতবরণ করেছেন।’
তবে তিনি ঠিক কখন নিহত হয়েছেন বা কোথায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
বিবৃতিতে এই হামলাকে রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতার একটি কাপুরুষোচিত সন্ত্রাস হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে এবং নাঈনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছে আইআরজিসি।
২০২৪ সাল থেকে আইআরজিসির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা ৬৮ বছর বয়সী নাঈনি আইআরজিসির সেকেন্ড ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন। বিগত দুই বছর ধরে এবং অপারেশন ট্রু প্রমিজ ২, ৩ ও ৪ চলাকালীন আইআরজিসির মুখপাত্র হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এদিকে নাঈনির মৃত্যুর খবর আসার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জাতীয় টেলিভিশনে এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ সত্ত্বেও তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প তার ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। যুদ্ধকালীন সময়েও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে এবং কোনো উদ্বেগ ছাড়াই এর পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
‘ইরান আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে না’— ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এমন দাবিকে উপহাস করে আইআরজিসি মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প শতভাগ নম্বর পাওয়ার যোগ্য... এবং এ নিয়ে কোনো উদ্বেগের কারণ নেই, শত্রুপক্ষের জন্য চমক আসছে এবং যুদ্ধ যত এগোবে, সেগুলো আরও জটিল ও তীব্র হয়ে উঠবে।’
তবে আইআরজিসির মুখপাত্র এই বিবৃতির দেওয়ার পরে নাকি তার আগে নিহত হয়েছেন সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করে। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মার্কিন সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান’ জানিয়েছে, হামলায় এখন পর্যন্ত তিন হাজার ১১৪ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে এক হাজার ৩৫৪ জন সাধারণ মানুষ আর অন্তত ২০৭ জন শিশু।

বুধবার, ২০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন