পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে। দিনটির অন্যতম প্রধান আমল হলো ঈদের নামাজ। জামাতের সঙ্গে দুই রাকাত এই ওয়াজিব নামাজে অতিরিক্ত ৬টি তাকবির দেওয়া হয়। আসুন জেনে নিই সঠিক নিয়মটি।
অন্যান্য নামাজের মতো এ নামাজের জন্যও নিয়ত করা ফরজ। “আমি ইমামের পেছনে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করছি”— মনে মনে এই সংকল্প থাকাই যথেষ্ট। আরবি বা বাংলায় নির্দিষ্ট শব্দে মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত পড়া জরুরি নয়।
ইমাম সাহেব তাকবিরে তাহরিমা “আল্লাহু আকবার” বলে নামাজ শুরু করবেন। উপস্থিত সকল মুক্তাদি তার সঙ্গে তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু করবেন। এরপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় ইমাম সাহেবসহ সকলেই মনে মনে “সানা” পড়বেন।
প্রথম রাকাত: অতিরিক্ত ৩ তাকবির
“সানা” পড়া শেষ হলে ইমাম সাহেব ৩ বার “আল্লাহু আকবার” বলে তাকবির দেবেন। মুক্তাদিরাও সকলে তার সঙ্গে তাকবির বলবেন। ইমাম জোরে, মুক্তাদিরা আস্তে তাকবির বলবেন।
তাকবির দেওয়ার নিয়ম:
প্রথম তাকবিরে: কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দিতে হবে
দ্বিতীয় তাকবিরে: কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দিতে হবে
তৃতীয় তাকবিরে: কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে হাত নাভির নিচে বেঁধে নিতে হবে (প্রথম দুই তাকবিরের মতো হাত ছেড়ে দিলে চলবে না)
এরপর ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহা ও অন্য কোনো সূরা মিলিয়ে পড়বেন। এরপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় রুকু-সিজদা আদায় করে ১ম রাকাত শেষ করবেন।
২য় রাকাতের শুরুতে ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহা ও অন্য কোনো সূরা তিলাওয়াত করবেন। রুকুতে যাওয়ার আগে ইমাম সাহেব ৩টি অতিরিক্ত তাকবির দেবেন।
তাকবির দেওয়ার নিয়ম:
প্রথম তাকবিরে: কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দেবেন
দ্বিতীয় তাকবিরে: কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দেবেন
তৃতীয় তাকবিরে: কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে হাত ছেড়ে দেবেন
এরপর ইমাম সাহেব চতুর্থ তাকবির বলবেন। এটি রুকুতে যাওয়ার তাকবির। এই তাকবির শুনে সবাই রুকুতে চলে যাবেন। এরপর বাকি সব নিয়ম অন্যান্য নামাজের মতোই।
নামাজ শেষে ইমাম সাহেব দুইটি খুতবা দেবেন। খুতবা শোনা ওয়াজিব। অনেককে দেখা যায় নামাজ শেষে উঠে চলে যান, যা গর্হিত কাজ।
প্রথম রাকাতে: সানার পর ২ বার হাত তুলে ছেড়ে দেবেন, ৩য় তাকবিরে হাত বেঁধে ফেলবেন
দ্বিতীয় রাকাতে: রুকুর আগে ৩ বার হাত তুলে হাত ছেড়ে দেবেন, চতুর্থ তাকবিরে রুকুতে যাবেন
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ‘দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম’ (পৃষ্ঠা: ২৫৮)
বিঃদ্রঃ ঈদের সালাতে অতিরিক্ত তাকবির কয়টি হবে বা এর নিয়ম কী হবে—এ বিষয়ে হাদিসের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। সুন্নাহর আলোকে হানাফি মাযহাবের মত অনুসারে উপরের পদ্ধতিটি লেখা হয়েছে। ভিন্ন মাযহাবের অনুসারী হলে নিজ মাযহাবের আলেমদের থেকে জেনে নেওয়ার অনুরোধ করা হলো।

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন