গণবার্তা

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকের দাবি:

‘আইএসআইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলাম’

‘আইএসআইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলাম’

অস্ট্রেলিয়ার এক নারী, যিনি দাবি করেছেন যে তিনি ভুলবশত যুদ্ধক্ষেত্রে চলে যান এবং সুরক্ষার জন্য আইএসআইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন, তার ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। নেসরিন জাহাবের বাবা জাকারিয়া জাহাব সোমবার (২৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের কাছে তার মেয়েকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন।

নেসরিন জাহাব ২০১৪ সালে সিডনি থেকে লেবানন ভ্রমণ করেন। তখন তার বয়স ছিল ২০-এর কোঠায়। তার সঙ্গে ছিলেন তার চাচাতো ভাই মুহাম্মদ জাহাব, যিনি পরবর্তীতে আইএসআইএসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হন।

সিরিয়ায় ভুলবশত প্রবেশ

লেবাননে থাকাকালে নেসরিন এবং তার এক চাচাতো বোন পরিবারকে ফাঁকি দিয়ে সিরিয়ার সীমান্তের তুর্কি পাশে উদ্বাস্তুদের সহায়তা দিতে যান। নেসরিন দাবি করেন, তিনি অজান্তেই সীমান্ত পার হয়ে যান এবং কারও কাছে পাসপোর্ট চাওয়ার সময় সেখানে আইএসআইএসের পতাকা দেখে তিনি ‘ভয় পেয়ে যান’। সেখান থেকে তাকে আর ফিরতে দেওয়া হয়নি।

আইএসআইএস যোদ্ধাকে বিয়ে

সেখান থেকে বের হওয়ার পথ না থাকায় তিনি সিডনিতে জন্ম নেওয়া আইএসআইএস জঙ্গি আহমেদ মেরহিকে বিয়ে করেন। তার দাবি, টিকে থাকার জন্য এটি ছিল তার জন্য সবচেয়ে ভালো সুযোগ। ২০১৭ সালে তিনি গর্ভাবস্থায় সেখান থেকে পালিয়ে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত উত্তর সিরিয়ায় পৌঁছান এবং আল-রোজ শরণার্থী শিবিরে তার ছেলের জন্ম হয়।

ফেরত আনার প্রচেষ্টা

জাকারিয়া জাহাব দাবি করেন, নেসরিন কোনো ভুল করেননি এবং আইএসআইএসের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, ‘সে অস্ট্রেলিয়ান। সে কিছু ভুল করেনি। সে তরুণ বয়সে ভুল করেছিল যা তার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে।’

ফেব্রুয়ারি মাসে নেসরিনসহ ২৩ জন নারী ও ১১ জন শিশু আল-রোজ শিবির থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছিল এবং দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা শিবির থেকে ৫০ কিলোমিটার যাওয়ার পর সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের ফিরিয়ে দেয়।

পিতার আকুতি

জাকারিয়া জাহাব বলেন, গত ১০ বছরে তিনি মাত্র তিন মাস অন্তর তার মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে দেখিনি, আমার নাতির সঙ্গে কখনো দেখা হয়নি। তার এখন বয়স ৮ বছর।’

তিনি অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে তার মেয়েকে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘সে একজন ভালো মেয়ে, সে ভেবেচিন্তে কাজ করেনি, সীমান্তে ধরা পড়েছিল।’

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির গণমাধ্যম সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে নেসরিনকে ফিরিয়ে আনার আরেকটি প্রচেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


‘আইএসআইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলাম’

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬

featured Image
অস্ট্রেলিয়ার এক নারী, যিনি দাবি করেছেন যে তিনি ভুলবশত যুদ্ধক্ষেত্রে চলে যান এবং সুরক্ষার জন্য আইএসআইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন, তার ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। নেসরিন জাহাবের বাবা জাকারিয়া জাহাব সোমবার (২৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের কাছে তার মেয়েকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন।নেসরিন জাহাব ২০১৪ সালে সিডনি থেকে লেবানন ভ্রমণ করেন। তখন তার বয়স ছিল ২০-এর কোঠায়। তার সঙ্গে ছিলেন তার চাচাতো ভাই মুহাম্মদ জাহাব, যিনি পরবর্তীতে আইএসআইএসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হন।সিরিয়ায় ভুলবশত প্রবেশলেবাননে থাকাকালে নেসরিন এবং তার এক চাচাতো বোন পরিবারকে ফাঁকি দিয়ে সিরিয়ার সীমান্তের তুর্কি পাশে উদ্বাস্তুদের সহায়তা দিতে যান। নেসরিন দাবি করেন, তিনি অজান্তেই সীমান্ত পার হয়ে যান এবং কারও কাছে পাসপোর্ট চাওয়ার সময় সেখানে আইএসআইএসের পতাকা দেখে তিনি ‘ভয় পেয়ে যান’। সেখান থেকে তাকে আর ফিরতে দেওয়া হয়নি।আইএসআইএস যোদ্ধাকে বিয়েসেখান থেকে বের হওয়ার পথ না থাকায় তিনি সিডনিতে জন্ম নেওয়া আইএসআইএস জঙ্গি আহমেদ মেরহিকে বিয়ে করেন। তার দাবি, টিকে থাকার জন্য এটি ছিল তার জন্য সবচেয়ে ভালো সুযোগ। ২০১৭ সালে তিনি গর্ভাবস্থায় সেখান থেকে পালিয়ে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত উত্তর সিরিয়ায় পৌঁছান এবং আল-রোজ শরণার্থী শিবিরে তার ছেলের জন্ম হয়।ফেরত আনার প্রচেষ্টাজাকারিয়া জাহাব দাবি করেন, নেসরিন কোনো ভুল করেননি এবং আইএসআইএসের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, ‘সে অস্ট্রেলিয়ান। সে কিছু ভুল করেনি। সে তরুণ বয়সে ভুল করেছিল যা তার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে।’ফেব্রুয়ারি মাসে নেসরিনসহ ২৩ জন নারী ও ১১ জন শিশু আল-রোজ শিবির থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। তাদের অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছিল এবং দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা শিবির থেকে ৫০ কিলোমিটার যাওয়ার পর সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের ফিরিয়ে দেয়।পিতার আকুতিজাকারিয়া জাহাব বলেন, গত ১০ বছরে তিনি মাত্র তিন মাস অন্তর তার মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার মেয়েকে দেখিনি, আমার নাতির সঙ্গে কখনো দেখা হয়নি। তার এখন বয়স ৮ বছর।’তিনি অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে তার মেয়েকে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘সে একজন ভালো মেয়ে, সে ভেবেচিন্তে কাজ করেনি, সীমান্তে ধরা পড়েছিল।’অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির গণমাধ্যম সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে নেসরিনকে ফিরিয়ে আনার আরেকটি প্রচেষ্টা চলছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা