ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে চাপ সৌদি যুবরাজের: নিউইয়র্ক টাইমস

ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে চাপ সৌদি যুবরাজের: নিউইয়র্ক টাইমস

ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, ইরানের বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা উচিত।

খার্গ দ্বীপ দখলের পরামর্শ

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সৌদি যুবরাজ মনে করেন ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী হুমকি, যা কেবল তাদের সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমেই দূর করা সম্ভব। তিনি ট্রাম্পকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের জন্য স্থল অভিযানের পরামর্শও দিয়েছেন।

ইসরাইল ও সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য

ইসরাইল এবং সৌদি আরব উভয়েই ইরানকে হুমকি মনে করলেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল হয়তো একটি অকার্যকর ইরানকে নিজেদের জয় হিসেবে দেখবে, কারণ তখন তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ব্যস্ত থাকবে। কিন্তু সৌদি আরবের আশঙ্কা, একটি অকার্যকর ইরান থেকে বিভিন্ন মিলিশিয়া বা সশস্ত্র গোষ্ঠী তৈরি হতে পারে, যারা সরাসরি সৌদির তেল অবকাঠামোতে হামলা চালাবে।

ট্রাম্পের দোদুল্যমান অবস্থান

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করা এবং এটি বাড়ানোর মধ্যে দোদুল্যমান অবস্থায় আছেন। তিনি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে, যদিও ইরান এমন আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।

সৌদি সরকারের অস্বীকৃতি

প্রকাশ্যে সৌদি সরকার যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে যুবরাজের চাপ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে সৌদি সরকার জানিয়েছে, ‘সৌদি আরব সবসময়ই এই সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো আমাদের জনগণ এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর প্রতিদিনের হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করা।’

অর্থনৈতিক প্রভাব

যুদ্ধের কারণে ইরানের পাল্টা হামলায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওই অঞ্চলের তেল রফতানি হুমকির মুখে পড়েছে। এমবিএস ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তেলের দামের এই অস্থিরতা সাময়িক। তবে মার্কিন ও আঞ্চলিক কর্মকর্তারা এ বিষয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মত

বিশ্লেষকদের মতে, যুবরাজ সালমান হয়তো যুদ্ধ এড়াতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি আশঙ্কা করছেন যে, ট্রাম্প যদি এখন যুদ্ধ থামিয়ে দেন, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ইরানের রোষানলে পড়তে হবে। আবার যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও তা এমবিএসের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং মেগাপ্রজেক্টগুলোর জন্য বিশাল অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করবে। কারণ, এসব প্রকল্পের সাফল্যের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন টানতে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে চাপ সৌদি যুবরাজের: নিউইয়র্ক টাইমস

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৬

featured Image
ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক ফোনালাপে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, ইরানের বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা উচিত।খার্গ দ্বীপ দখলের পরামর্শমার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সৌদি যুবরাজ মনে করেন ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী হুমকি, যা কেবল তাদের সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমেই দূর করা সম্ভব। তিনি ট্রাম্পকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের জন্য স্থল অভিযানের পরামর্শও দিয়েছেন।ইসরাইল ও সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যইসরাইল এবং সৌদি আরব উভয়েই ইরানকে হুমকি মনে করলেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল হয়তো একটি অকার্যকর ইরানকে নিজেদের জয় হিসেবে দেখবে, কারণ তখন তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ব্যস্ত থাকবে। কিন্তু সৌদি আরবের আশঙ্কা, একটি অকার্যকর ইরান থেকে বিভিন্ন মিলিশিয়া বা সশস্ত্র গোষ্ঠী তৈরি হতে পারে, যারা সরাসরি সৌদির তেল অবকাঠামোতে হামলা চালাবে।ট্রাম্পের দোদুল্যমান অবস্থানএদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করা এবং এটি বাড়ানোর মধ্যে দোদুল্যমান অবস্থায় আছেন। তিনি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে, যদিও ইরান এমন আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।সৌদি সরকারের অস্বীকৃতিপ্রকাশ্যে সৌদি সরকার যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার বিষয়ে যুবরাজের চাপ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে সৌদি সরকার জানিয়েছে, ‘সৌদি আরব সবসময়ই এই সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো আমাদের জনগণ এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর প্রতিদিনের হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করা।’অর্থনৈতিক প্রভাবযুদ্ধের কারণে ইরানের পাল্টা হামলায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওই অঞ্চলের তেল রফতানি হুমকির মুখে পড়েছে। এমবিএস ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তেলের দামের এই অস্থিরতা সাময়িক। তবে মার্কিন ও আঞ্চলিক কর্মকর্তারা এ বিষয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।বিশ্লেষকদের মতবিশ্লেষকদের মতে, যুবরাজ সালমান হয়তো যুদ্ধ এড়াতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি আশঙ্কা করছেন যে, ট্রাম্প যদি এখন যুদ্ধ থামিয়ে দেন, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ইরানের রোষানলে পড়তে হবে। আবার যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও তা এমবিএসের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং মেগাপ্রজেক্টগুলোর জন্য বিশাল অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করবে। কারণ, এসব প্রকল্পের সাফল্যের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন টানতে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা