ঢাকা    মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
গণবার্তা

শরিফ ওসমান হাদির পাশাপাশি কাফিকেও হত্যার নির্দেশ ছিলো

শরিফ ওসমান হাদির পাশাপাশি কাফিকেও হত্যার নির্দেশ ছিলো

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফিকেও হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি উঠেছে। এ নির্দেশ দিয়েছেন ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী মাসুদুর রহমান বিপ্লব। এমন তথ্য উঠে এসেছে এক আসামির জবানবন্দিতে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি তার ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান। তিনি দাবি করেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িচালক রাজ্জাক মাতব্বরের ছেলে মো. রুবেল আহমেদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, বহুল আলোচিত কলকাতার পার্ক হোটেলে গত বছরের ১৫ জানুয়ারির একটি বৈঠকে রুবেল আহমেদ ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির তৎপরতার অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে মোহাম্মদপুরের বছিলা মেট্রো হাউজিং এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জবানবন্দিতে রুবেল দাবি করেন, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর তার উপস্থিতিতে হত্যাকাণ্ডের আরেক আসামি কামরুজ্জামান রুবেলকে ফোন করে মাসুদুর রহমান বিপ্লব। ওই সময় শরিফ ওসমান হাদি ও ইউটিউবার নুরুজ্জামান কাফিকে হত্যার পরিকল্পনার কথা বলা হয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য’ করার অভিযোগ তুলে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। বিপ্লব এ কাজের দায়িত্ব দেন কামরুজ্জামান রুবেলকে, আর তিনি তা দেন শুটার ফয়সালকে।

জুলকারনাইন সায়ের খান তার পোস্টে বলেন, রুবেলের জবানবন্দি অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের সহকারী বিপ্লবের নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। একইসঙ্গে বিপ্লব কার নির্দেশে এ পরিকল্পনা করেন এবং কারা অর্থ জুগিয়েছেন—সেটিও তদন্তে বের করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, রুবেল যদি তার জবানবন্দিতে সত্য তথ্য দিয়ে থাকেন, তাহলে ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর থেকেই তিনি হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে জানতেন। কিন্তু সে সময় তিনি কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানাননি, যদিও তখন তিনি জামিনে মুক্ত ছিলেন।

পোস্টের সঙ্গে রুবেলের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিসহ বিভিন্ন নথি ও সংশ্লিষ্ট লিংকও যুক্ত করা হয়েছে।

২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। তখন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান রাহুল ওরফে শুটার ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তাকে চিহ্নিত করা হয়।

পরদিন ২২ জানুয়ারি আদালতে হাজির করে তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৩১ জানুয়ারি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে রুবেল আহমেদ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এখন তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


শরিফ ওসমান হাদির পাশাপাশি কাফিকেও হত্যার নির্দেশ ছিলো

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬

featured Image
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফিকেও হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি উঠেছে। এ নির্দেশ দিয়েছেন ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী মাসুদুর রহমান বিপ্লব। এমন তথ্য উঠে এসেছে এক আসামির জবানবন্দিতে।মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি তার ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান। তিনি দাবি করেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িচালক রাজ্জাক মাতব্বরের ছেলে মো. রুবেল আহমেদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।পোস্টে বলা হয়, বহুল আলোচিত কলকাতার পার্ক হোটেলে গত বছরের ১৫ জানুয়ারির একটি বৈঠকে রুবেল আহমেদ ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির তৎপরতার অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে মোহাম্মদপুরের বছিলা মেট্রো হাউজিং এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।জবানবন্দিতে রুবেল দাবি করেন, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর তার উপস্থিতিতে হত্যাকাণ্ডের আরেক আসামি কামরুজ্জামান রুবেলকে ফোন করে মাসুদুর রহমান বিপ্লব। ওই সময় শরিফ ওসমান হাদি ও ইউটিউবার নুরুজ্জামান কাফিকে হত্যার পরিকল্পনার কথা বলা হয়।তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য’ করার অভিযোগ তুলে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। বিপ্লব এ কাজের দায়িত্ব দেন কামরুজ্জামান রুবেলকে, আর তিনি তা দেন শুটার ফয়সালকে।জুলকারনাইন সায়ের খান তার পোস্টে বলেন, রুবেলের জবানবন্দি অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের সহকারী বিপ্লবের নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। একইসঙ্গে বিপ্লব কার নির্দেশে এ পরিকল্পনা করেন এবং কারা অর্থ জুগিয়েছেন—সেটিও তদন্তে বের করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, রুবেল যদি তার জবানবন্দিতে সত্য তথ্য দিয়ে থাকেন, তাহলে ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর থেকেই তিনি হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে জানতেন। কিন্তু সে সময় তিনি কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানাননি, যদিও তখন তিনি জামিনে মুক্ত ছিলেন।পোস্টের সঙ্গে রুবেলের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিসহ বিভিন্ন নথি ও সংশ্লিষ্ট লিংকও যুক্ত করা হয়েছে।২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি মধ্যরাতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। তখন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান রাহুল ওরফে শুটার ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তাকে চিহ্নিত করা হয়।পরদিন ২২ জানুয়ারি আদালতে হাজির করে তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৩১ জানুয়ারি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে রুবেল আহমেদ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।এখন তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা