রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পড়ে যাওয়া বাস টেনে তোলা হয়েছে। বাস থেকে সর্বশেষ চার নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) রাত পৌনে বারটার দিকে নদীর পানির নিচে থাকা বাসটির সামনের অংশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করে।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে বাসটির সামনের অংশ টেনে তোলা হয়েছে। এ সময় আরও দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট চার জনের মরদেহ ও এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।
পদ্মার পাড়ে ছোট বোন ফাতেমা তুজ জোহরা ও জামাই কাজী সাইফ আহমেদের খোঁজে এসেছেন রোকন। তিনি বলেন, “আমার বন্ধুর ছোট বোন ও তার জামাই আজকে সাড়ে ৩টার বাসে রাজবাড়ী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনে ঢাকায় যাচ্ছিল। পরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দৌলতদিয়ার পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। আমরা সাড়ে পাঁচটার দিকে সংবাদ পাওয়ার পর দৌলতদিয়া ঘাটে এসেছি। কিন্তু আমার ছোট বোন ও তার জামাইয়ের এখনও সন্ধান পাইনি। তাদের অপেক্ষায় আমরা রয়েছি।”
শরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, “রাজবাড়ী থেকে আমার স্ত্রী, ছেলে সন্তান, মেয়ে সন্তান, ভাগনি ও ভাগনির ছেলে সৌহার্দ্য পরিবহন বাসে ওঠে। ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার পর আমার স্ত্রী, মেয়ে ও ভাগনি স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও আমার সাত বছরের ছেলে সন্তান ও এগারো বছর বয়সের ভাগনে এখনও নিখোঁজ রয়েছে। আমার ছেলে ও ভাগনে তো আর নেই, এখন তাদের মরদেহ আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হোক।”
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। মুহূর্তে বাসটি পানিতে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ অভিযান শুরু করে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয় ডুবুরিরা রাতভর উদ্ধার তৎপরতা চালান।
রাত পৌনে বারটার দিকে বাসটির সামনের অংশ উদ্ধার করা হলে ভেতর থেকে আরও দুই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। এ নিয়ে মোট চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একজন নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৌলতদিয়া নৌ-দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সেরে ওঠার কামনা করেছেন। তিনি দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
উদ্ধারকাজ এখনও চলমান। নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা সতর্কতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন