সেই ১৯৮২ বিশ্বকাপ থেকে শুরু। এখন পর্যন্ত ছেলেদের আটটি আর মেয়েদের একটিসহ মোট ৯টি ফিফা বিশ্বকাপের খেলা গ্যালারিতে বসে দেখেছেন তিনি। এবার দশম বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে খরুচে হতে যাচ্ছে। আর তাই টাকা জোগাড় করতে নিজের একটি বাড়ি বিক্রি করে দিচ্ছেন তিনি। ৬২ বছর বয়সী এই ফুটবলপ্রেমীর নাম অ্যান্ডি মিলনে।
থাইল্যান্ডে বসবাসরত এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইংল্যান্ড দলের ‘সুপারফ্যান’ হিসেবে পরিচিত। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় ইংল্যান্ডের জার্সি পরে উল্লসিত ভঙ্গিতে বিশ্বকাপের একটি রেপ্লিকা ট্রফি হাতে তার একটি ছবি তখন ভাইরাল হয়েছিল।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন–জুলাইয়ে উত্তর আমেরিকায় হতে যাওয়া বিশ্বকাপে যাওয়ার খরচ মেটাতে মিলনে চেশায়ারের নর্থউইচে থাকা তার দ্বিতীয় বাড়িটি বিক্রির জন্য তুলেছেন। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড।
এ বিষয়ে দ্য মিররকে তিনি বলেন, “বাড়িটি বাজারে তোলার কারণ আমি এটি বিক্রি করে বিশ্বকাপে যাচ্ছি। কাতারে গত আসরটি ছিল আমার নিজেকে দেওয়া উপহার, যার জন্য আমি বছরের পর বছর ধরে সঞ্চয় করেছিলাম। আর গত ২৭ বছর আমি এই বাড়িটির মালিক। এখনই বিক্রি করে দেওয়ার সেরা সময় মনে হয়েছে।”
১৯৮২ সালে স্পেনের বিশ্বকাপে প্রথমবার মাঠে যাওয়া মিলনে জানান, তিনি এবার সাত সপ্তাহ যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন। ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচের টিকিটও ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছেন। টিকিট, যাতায়াত ও খাবারে প্রচুর ব্যয়ের খাত থাকলেও আবাসনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে নিয়েছেন বলে জানান মিলনে, “আমি সব সময় সস্তায় কাজ সারার চেষ্টা করি। যেখানে সম্ভব আমি ‘কাউচ সার্ফ’ (বন্ধুবান্ধব বা পরিচিতদের বাসায় থাকা) করব। সৌভাগ্যবশত মেক্সিকো, ডালাস এবং ভ্যানকুভারে আমার কিছু বন্ধু আছে।”
এবারের বিশ্বকাপের টিকিটের দাম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ এ সপ্তাহে ফিফার বিরুদ্ধে টিকিটের ‘অত্যধিক দামের’ জন্য ইউরোপিয়ান কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে।
একজনের জন্য বিশ্বকাপের প্রতিটি রাউন্ডে একটি করে মোট আটটি ম্যাচ দেখার সর্বনিম্ন খরচ পড়বে প্রায় ৫ হাজার ২২৫ পাউন্ড (সাড়ে আট লাখ টাকার বেশি)। মধ্যম সারির টিকিটের জন্য খরচ হবে ৮ হাজার ৫৮০ পাউন্ড বা ১৪ লাখ টাকার বেশি। আর সবচেয়ে দামি টিকিটের ক্ষেত্রে তা দাঁড়াবে ১২ হাজার ৩৫০ পাউন্ড বা ২০ লাখ টাকার বেশি।
অ্যান্ডি মিলনের মতো একনিষ্ঠ ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বকাপের প্রতি নিজেদের ভালোবাসা প্রমাণে এমন ত্যাগ স্বীকার করতে দ্বিধা করেন না। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি ভালোবাসারই আরেক নাম।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন