ঢাকা: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত শুরু পেয়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ইব্রাহীম।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। ষষ্ঠ মিনিটে ডান দিক থেকে রাকিব ক্রস বাড়ান বক্সে থাকা বিশ্বনাথের দিকে। তবে বিশ্বনাথের কাছে যাওয়ার আগেই বল ক্লিয়ার করেন ভুটানের ডিফেন্ডার। যদিও বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শট নেন জামাল ভূঁইয়া। তবে সেই চেষ্টাও রুখে যায় ভুটান রক্ষণে।
এরপর ম্যাচের ১৮ মিনিটে আবারও ভালো সুযোগ পায় বাংলাদেশ। রাকিবের ক্রস বিশ্বনাথের নেওয়া হেড পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ২৫ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন বিশ্বনাথ। ফাঁকায় থাকা জটলার ভেতর বল পেয়ে তা পোস্টের বাইরে মারেন।
ম্যাচের ৩৯ মিনিটে আরও একবার বাংলাদেশকে হতাশ করেন বিশ্বনাথ। সামনে ছিলেন শুধু ভুটান গোলকিপার। একটু কোনাকুনি শট, সেটিই লক্ষ্য রাখতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য থেকেই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশ।
বিরতি থেকে ফিরেও আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে বাংলাদেশ। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। ডি বক্সের ভেতর থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান ইব্রাহীম। এতেই লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
এরপর ম্যাচে সমতা আনার চেষ্টা করে ভুটান। তবে গোলের দেখা পায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল।
উল্লেখ্য, শুরুর একাদশে ছিলেন না ইব্রাহীম। ডিফেন্ডার থেকে স্ট্রাইকার বনে যাওয়া বিশ্বনাথের বদলি হিসেবে ম্যাচের ৬৫ মিনিটে ফর্টিস এফসির এই ফুটবলারকে মাঠে নামান কোচ থমাস ডুলি। এর তিন মিনিট পরই বাংলাদেশকে লিড এনে দেন ইব্রাহীম।
ম্যাচ শেষে ডুলি বলেন, “ম্যাচের এক পর্যায়ে দৌড়াতে দৌড়াতে বিশ্বনাথ হাপিয়ে উঠেছিল। বক্সের ওখানে বল ধরে রাখতে পারে এ রকম একজন দরকার ছিল। তাই আমি বিশ্বনাথকে তুলে ইব্রাহিমকে দশ নম্বর পজিশনে এবং সামিতকে একদম ওপরে খেলানোর পরিকল্পনা করি। এতে সামিত গোলের সামনে কিছুটা শক্তি বাঁচিয়ে হেড দিয়ে গোল করার চেষ্টা করবে। আমি ভাবিনি যে ইব্রাহিম নিজেই গোল করে বসবে, ভেবেছিলাম সে হয়তো কাউকে দিয়ে গোল করাবে। তবে ভালো ফুটবলাররা এমন মুহূর্ত তৈরি করতে পারে।”
অন্যদিকে, দিক পরীক্ষিত ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ। তবুও তাকে খেলতে হচ্ছে স্ট্রাইকার পজিশনে। বিশ্বনাথকে এমন পজিশনে খেলানো প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কোচ বলেন, “বিশ্বনাথ খেলার ক্ষেত্রে খুবই তীব্র। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে তাকে খেলালে পেনাল্টি কিংবা কার্ডের ঝুঁকি থেকে যায়। আমি ভেবেছিলাম তার বিকল্প হতে পারে রাইট ব্যাক। সেখানেও তাকে মাঝে মধ্যে বক্সে আসতে হয়। ফরোয়ার্ড নম্বর নাইন পজিশনে আঘাত পাওয়ার ভয় থাকে কিন্তু বিশ্বনাথ ভয় পায় না। আশা করছিলাম সে গোল পায় যেন, দুর্ভাগ্যবশত পায়নি। তবে তার খেলায় আমি সন্তুষ্ট।”
অধিনায়ক তপু বর্মণের শেষ মুহূর্তে ছিটকে যাওয়া নিয়ে ডুলি বলেন, “ওয়ার্ম আপে নামার পর সে অস্বস্তি বোধ করে। তার ফিটনেস ফিফটি ফিফটি ছিল। খেলতে হলে শতভাগ ফিট কিংবা অন্তত ৮০ ভাগ হতে হবে।”
বিষয় : বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন