ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
গণবার্তা

ইরানে পারমাণবিক হামলার শঙ্কায় জাতিসংঘের প্রস্তুতি, পদত্যাগ করলেন শীর্ষ কূটনীতিক

ইরানে পারমাণবিক হামলার শঙ্কায় জাতিসংঘের প্রস্তুতি, পদত্যাগ করলেন শীর্ষ কূটনীতিক

ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতিসংঘ বলে অভিযোগ করেছেন সংস্থাটির এক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক। এই ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ সাক্ষী হয়ে থাকতে চান না জানিয়ে তিনি তার দীর্ঘ ১২ বছরের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইসিওএসওসি) বিশেষ পরামর্শদায়ক মর্যাদাপ্রাপ্ত সংস্থা প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশন (পিভিএ)-এর স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাফা গতকাল রোববার (২৯ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে এই বিস্ফোরক দাবি করেন।

সাফা তাঁর পদত্যাগপত্রে বলেন, “জাতিসংঘ যখন ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আমি এই তথ্যের সত্যতা ফাঁস করার জন্য আমার কূটনৈতিক জীবন বিসর্জন দিচ্ছি। আমি চাই না এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশীদার বা সাক্ষী হতে। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ বা পারমাণবিক শীতকাল প্রতিরোধ করার এটিই আমার শেষ চেষ্টা।”

তিনি তেহরানের মতো প্রায় এক কোটি মানুষের শহরে পারমাণবিক হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এখনো অন্ধকারে আছে বলেও উল্লেখ করেন।

সাফা তাঁর পদত্যাগপত্রে গত তিন বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব একটি ‘শক্তিশালী লবি’র স্বার্থ হাসিল করতে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। তাঁর দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে একটি পরিকল্পিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালিয়ে যুদ্ধংদেহী মনোভাব তৈরি করা হচ্ছে।

সাফার মতে, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা গাজায় যা ঘটছে তাকে ‘গণহত্যা’ বলতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন এবং লেবাননের যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত নিধনকেও আড়াল করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে তিনি যখনই ভিন্নমত পোষণ করার চেষ্টা করেছেন, তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ সাফা ২০১৩ সাল থেকে পিভিএ’র নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৬ সালে তিনি জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হন এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন মহাসচিব ও মানবাধিকার পরিষদের প্রেসিডেন্টদের অধীনে কাজ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, জাতিসংঘে অর্থবহ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর দায়িত্বে ফিরবেন না।

সাফা দাবি করেছেন, বিশ্বশান্তির জন্য ইরান একটি আসন্ন হুমকি,এমন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিশ্ব গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম ব্যবহার করে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কেবল সাধারণ মানুষই এই ধ্বংসলীলা থামাতে পারে।’

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সাফার এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে ঘি ঢেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ইরানে পারমাণবিক হামলার শঙ্কায় জাতিসংঘের প্রস্তুতি, পদত্যাগ করলেন শীর্ষ কূটনীতিক

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬

featured Image
ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতিসংঘ বলে অভিযোগ করেছেন সংস্থাটির এক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক। এই ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ সাক্ষী হয়ে থাকতে চান না জানিয়ে তিনি তার দীর্ঘ ১২ বছরের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইসিওএসওসি) বিশেষ পরামর্শদায়ক মর্যাদাপ্রাপ্ত সংস্থা প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশন (পিভিএ)-এর স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাফা গতকাল রোববার (২৯ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে এই বিস্ফোরক দাবি করেন।সাফা তাঁর পদত্যাগপত্রে বলেন, “জাতিসংঘ যখন ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আমি এই তথ্যের সত্যতা ফাঁস করার জন্য আমার কূটনৈতিক জীবন বিসর্জন দিচ্ছি। আমি চাই না এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশীদার বা সাক্ষী হতে। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ বা পারমাণবিক শীতকাল প্রতিরোধ করার এটিই আমার শেষ চেষ্টা।”তিনি তেহরানের মতো প্রায় এক কোটি মানুষের শহরে পারমাণবিক হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এখনো অন্ধকারে আছে বলেও উল্লেখ করেন।সাফা তাঁর পদত্যাগপত্রে গত তিন বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব একটি ‘শক্তিশালী লবি’র স্বার্থ হাসিল করতে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। তাঁর দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে একটি পরিকল্পিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালিয়ে যুদ্ধংদেহী মনোভাব তৈরি করা হচ্ছে।সাফার মতে, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা গাজায় যা ঘটছে তাকে ‘গণহত্যা’ বলতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন এবং লেবাননের যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত নিধনকেও আড়াল করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে তিনি যখনই ভিন্নমত পোষণ করার চেষ্টা করেছেন, তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।মোহাম্মদ সাফা ২০১৩ সাল থেকে পিভিএ’র নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৬ সালে তিনি জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হন এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন মহাসচিব ও মানবাধিকার পরিষদের প্রেসিডেন্টদের অধীনে কাজ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, জাতিসংঘে অর্থবহ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর দায়িত্বে ফিরবেন না।সাফা দাবি করেছেন, বিশ্বশান্তির জন্য ইরান একটি আসন্ন হুমকি,এমন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিশ্ব গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম ব্যবহার করে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কেবল সাধারণ মানুষই এই ধ্বংসলীলা থামাতে পারে।’জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সাফার এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে ঘি ঢেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা