সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পেরেন্টস ফোরাম। সংগঠনটির সভাপতি একেএম আশরাফুল হক এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নামে শিক্ষার ক্ষতি না করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান অভিভাবকরা।
সংগঠনটির অভিযোগ, অনলাইন ক্লাস চালু হলে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও ডিভাইসের খরচ অভিভাবকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ ফেলবে। এ ছাড়া কর্মজীবী অভিভাবকদের জন্য সন্তানদের অনলাইন ক্লাস তদারকি করা প্রায় অসম্ভব। অভিভাবকদের দাবি, সামনেই ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা এবং মে মাসে সাধারণ স্কুলগুলোর সেশন ফাইনাল। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সশরীরে ক্লাস বন্ধ করলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ধস নামবে।
সরকারি উদ্যোগে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে অভিভাবক সংগঠনটি ৪টি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের মতে, সপ্তাহে ৪ দিন সশরীরে ক্লাস চালু রেখে বাকি ৩ দিন স্কুল সম্পূর্ণ ছুটি রাখা যেতে পারে। এতে যাতায়াত ও প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ—উভয়ই সাশ্রয় হবে। প্রয়োজনে স্কুলের প্রতিদিনের কার্যঘণ্টা বা ক্লাসের সময় কিছুটা কমানোর পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
শ্রেণিকক্ষে এসির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের ব্যবহার নিশ্চিত করার মতো অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ নিয়েও বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। তাদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে গিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যেন খাদের কিনারে ঠেলে দেওয়া না হয়।
সংগঠনের সভাপতি আশরাফুল হক বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে অনলাইন ক্লাসের জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট ও ডিভাইসের খরচ অভিভাবকদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করবে। যাতায়াত ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নামে শিক্ষার মান নিয়ে কোনো আপস করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন