ঢাকা    শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
ঢাকা    শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
গণবার্তা

সংসদে পার্থের বক্তব্য ঘিরে সমালোচনা-প্রশংসা, আজাদ মজুমদারের স্ট্যাটাসে উঠে এল পুরনো এক বৈঠকের গল্প

সংসদে পার্থের বক্তব্য ঘিরে সমালোচনা-প্রশংসা, আজাদ মজুমদারের স্ট্যাটাসে উঠে এল পুরনো এক বৈঠকের গল্প

গণভোট ও জুলাই সনদ ইস্যুতে সংসদে এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্যের জের ধরে আলোচনার কেন্দ্রে আছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। গত ৩১ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন তোলেন, ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবর্তে কেন বিপ্লবী সরকার গঠন করা হয়নি। পুরোনো সংবিধান বাতিলের চেষ্টারও সমালোচনা করেন তিনি।

তার সেই বক্তব্য ঘিরে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ কড়া জবাব দেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও মন্তব্য করেন, পার্থ বেশ কিছু ফায়ার করলেও তার কথার ব্যাক ফায়ার হয়ে গেছে। অন্যদিকে গণমাধ্যমে তার বাগ্মিতা ও স্পষ্টভাষিতার প্রশংসাও করা হয়।

এখন অবশ্য এসবের মাঝে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসে তিনি পার্থের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে আফসোস প্রকাশ করে বলেছেন, তার দলকে পরবর্তীতে জাতীয় ঐকমত্য প্রক্রিয়ায় দেখা যায়নি।

‘আমাদের জন্য ওসি কুদ্দুসও ফোন করবে না’

আজাদ মজুমদার তার পোস্টে একটি পুরনো ঘটনার কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস যখন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছিলেন, তখন একবার পার্থকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই বৈঠকে পার্থ প্রফেসর ইউনূসকে অনুরোধ করেছিলেন, যেন এমনভাবে কাজ করেন যাতে দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদী শক্তি ফিরে আসতে না পারে। সেই প্রসঙ্গে পার্থ মজা করে বলেছিলেন, ‘তারা যদি ফিরে আসে, আপনার জন্য তো স্যার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ফোন করবে। কিন্তু আমাদের জন্য ওসি কুদ্দুসও ফোন করবে না।’

আজাদ মজুমদার জানান, পার্থের কৌতুকপূর্ণ বক্তব্যে প্রফেসর ইউনূসসহ উপস্থিত সবাই হো হো করে হেসে উঠেছিলেন। দেশের সঙ্কটময় সময়েও নিজের স্বাভাবিক বাগ্মিতা ধরে রাখাকে তিনি প্রশংসনীয় বলেছেন। তবে আফসোস করে লিখেছেন, ‘পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে তার দলকে দেখিনি। এমনকি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনাগুলোতেও তিনি ছিলেন অনুপস্থিত।’

‘জুলাই সনদ ও সংবিধান—দুটোকেই সম্মান করা উচিত’

আন্দালিব রহমান পার্থ সংসদের ওই বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, জুলাই সনদের প্রতি তাদের দলের আপত্তি নেই। আপত্তি রয়েছে প্রক্রিয়া নিয়ে। তিনি বলেছিলেন, ‘সংবিধান এবং জুলাই সনদ—দুটোকেই সমানভাবে সম্মান করা উচিত। কেউ যদি জুলাই সনদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, আমি তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলব।’ তিনি একাধারে সংবিধান পরিবর্তনের পক্ষে ও পুরো সংবিধান বাতিলের বিপক্ষে অবস্থান নেন। এমনকি তিনি প্রশ্ন তোলেন, সত্যিই যদি বিপ্লবী পরিবর্তনের প্রয়োজন হতো, তাহলে একটি ট্রানজিশনাল রেভলুশনারি সরকার গঠন করে নতুন সংবিধান রচনা করাই বাস্তবসম্মত হতো।

গণভোটের কাঠামো নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, একাধিক বিষয় একসঙ্গে ভোটে দেওয়ায় ভোটারদের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত হয়েছে।

পার্থের এসব মন্তব্য একদিকে যেমন সমালোচিত হয়েছে, তেমনি তার বাগ্মিতা ও কৌতুকবোধের প্রশংসাও হয়েছে। তবে আজাদ মজুমদারের স্ট্যাটাস পরবর্তী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেখার বিষয়, এই বিষয়ে পার্থ বা তার দল কী প্রতিক্রিয়া জানায়।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬


সংসদে পার্থের বক্তব্য ঘিরে সমালোচনা-প্রশংসা, আজাদ মজুমদারের স্ট্যাটাসে উঠে এল পুরনো এক বৈঠকের গল্প

প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
গণভোট ও জুলাই সনদ ইস্যুতে সংসদে এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্যের জের ধরে আলোচনার কেন্দ্রে আছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। গত ৩১ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন তোলেন, ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবর্তে কেন বিপ্লবী সরকার গঠন করা হয়নি। পুরোনো সংবিধান বাতিলের চেষ্টারও সমালোচনা করেন তিনি।তার সেই বক্তব্য ঘিরে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ কড়া জবাব দেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও মন্তব্য করেন, পার্থ বেশ কিছু ফায়ার করলেও তার কথার ব্যাক ফায়ার হয়ে গেছে। অন্যদিকে গণমাধ্যমে তার বাগ্মিতা ও স্পষ্টভাষিতার প্রশংসাও করা হয়।এখন অবশ্য এসবের মাঝে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসে তিনি পার্থের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে আফসোস প্রকাশ করে বলেছেন, তার দলকে পরবর্তীতে জাতীয় ঐকমত্য প্রক্রিয়ায় দেখা যায়নি।‘আমাদের জন্য ওসি কুদ্দুসও ফোন করবে না’আজাদ মজুমদার তার পোস্টে একটি পুরনো ঘটনার কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস যখন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছিলেন, তখন একবার পার্থকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই বৈঠকে পার্থ প্রফেসর ইউনূসকে অনুরোধ করেছিলেন, যেন এমনভাবে কাজ করেন যাতে দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদী শক্তি ফিরে আসতে না পারে। সেই প্রসঙ্গে পার্থ মজা করে বলেছিলেন, ‘তারা যদি ফিরে আসে, আপনার জন্য তো স্যার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ফোন করবে। কিন্তু আমাদের জন্য ওসি কুদ্দুসও ফোন করবে না।’আজাদ মজুমদার জানান, পার্থের কৌতুকপূর্ণ বক্তব্যে প্রফেসর ইউনূসসহ উপস্থিত সবাই হো হো করে হেসে উঠেছিলেন। দেশের সঙ্কটময় সময়েও নিজের স্বাভাবিক বাগ্মিতা ধরে রাখাকে তিনি প্রশংসনীয় বলেছেন। তবে আফসোস করে লিখেছেন, ‘পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে তার দলকে দেখিনি। এমনকি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনাগুলোতেও তিনি ছিলেন অনুপস্থিত।’‘জুলাই সনদ ও সংবিধান—দুটোকেই সম্মান করা উচিত’আন্দালিব রহমান পার্থ সংসদের ওই বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, জুলাই সনদের প্রতি তাদের দলের আপত্তি নেই। আপত্তি রয়েছে প্রক্রিয়া নিয়ে। তিনি বলেছিলেন, ‘সংবিধান এবং জুলাই সনদ—দুটোকেই সমানভাবে সম্মান করা উচিত। কেউ যদি জুলাই সনদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, আমি তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলব।’ তিনি একাধারে সংবিধান পরিবর্তনের পক্ষে ও পুরো সংবিধান বাতিলের বিপক্ষে অবস্থান নেন। এমনকি তিনি প্রশ্ন তোলেন, সত্যিই যদি বিপ্লবী পরিবর্তনের প্রয়োজন হতো, তাহলে একটি ট্রানজিশনাল রেভলুশনারি সরকার গঠন করে নতুন সংবিধান রচনা করাই বাস্তবসম্মত হতো।গণভোটের কাঠামো নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, একাধিক বিষয় একসঙ্গে ভোটে দেওয়ায় ভোটারদের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত হয়েছে।পার্থের এসব মন্তব্য একদিকে যেমন সমালোচিত হয়েছে, তেমনি তার বাগ্মিতা ও কৌতুকবোধের প্রশংসাও হয়েছে। তবে আজাদ মজুমদারের স্ট্যাটাস পরবর্তী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেখার বিষয়, এই বিষয়ে পার্থ বা তার দল কী প্রতিক্রিয়া জানায়।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা