গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে প্রক্রিয়া স্বচ্ছ না থাকার অভিযোগে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। তিন মাসের জন্য গঠন করা হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হলেও এর গঠন নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা।
নতুন এই কমিটিতে তিনজন ক্রিকেটারের পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন তিন মন্ত্রীর ছেলে ও এক প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী। এছাড়া পাঁচ সদস্যের বাড়ি চট্টগ্রামে।
তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—রাশনা ইমাম, আতহার আলী খান, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, রফিকুল ইসলাম বাবু, সালমান ইস্পাহানি, তানজিল চৌধুরী, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমদ ও ফাহিম সিনহা।
তামিমসহ সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও সালমান ইস্পাহানি—এই পাঁচজনের বাড়ি চট্টগ্রামে।
তামিম ইকবাল ছাড়া কমিটিতে আরও দুই সাবেক ক্রিকেটার রয়েছেন। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক। অন্যদিকে সাবেক ক্রিকেটার আতহার আলী খান বর্তমানে ধারাভাষ্যকার হিসেবে পরিচিত।
মির্জা ইয়াসির আব্বাস প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসের ছেলে। সৈয়দ ইব্রাহিম আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে। ইসরাফিল খসরু অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরুর ছেলে।
এছাড়া রাশনা ইমাম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী।
তানজিল চৌধুরী বিসিবির সাবেক পরিচালক ও বর্তমানে প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান। সালমান ইস্পাহানি ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান। রফিকুল ইসলাম বাবু ও ফাহিম সিনহা—এঁরা দুজনই বিসিবির সাবেক পরিচালক।
অ্যাডহক কমিটি গঠনের পদ্ধতি ও সদস্য নির্বাচন নিয়ে ক্রীড়া মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে এভাবে আধা সরকারি ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা ক্রিকেটের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ কিনা। বিশেষ করে মন্ত্রীদের ছেলে ও প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীকে কমিটিতে আনার বিষয়টি তীব্র সমালোচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে ক্রীড়া পরিষদ বলছে, বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম ছিল বলেই এই সিদ্ধান্ত। আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন করে নির্বাচনের আয়োজন করবে অ্যাডহক কমিটি। কিন্তু এই কমিটিই আবার নিজেদের নির্বাচন প্রক্রিয়া তদারকি করবে—যেটি আরেকটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিসিবির সাবেক কয়েকজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘ক্রিকেটার ও ক্রিকেট প্রশাসক মিলে একটি কমিটি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এখানে মন্ত্রীদের পরিবারের সদস্য ও ব্যবসায়ীদের আধিক্য ক্রিকেটের জন্য ভালো নয়।’
এখন দেখার বিষয়, নতুন এই কমিটি আগামী তিন মাসে বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে পারে।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন