গণবার্তা

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাইব্রিড ক্লাস চালুর পরিকল্পনা সরকারের

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাইব্রিড ক্লাস চালুর পরিকল্পনা সরকারের
ছবিঃ সংগৃহীত

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, যানজট নিরসন এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। ইতিমধ্যে অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার কারণে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্লাসে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। যাতায়াতে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ ব্যক্তিগত ও জাতীয় পর্যায়ে চাপ তৈরি করছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়’ বিষয়ক সেমিনারে এসব কথা বলেন শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানান, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস চালু হলে যানবাহনের চাপ কমবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং শিক্ষার্থীদের সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। তবে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন ও সব শিক্ষার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করেন তারা।

অভিভাবকরা বলছেন, পুরোপুরি অনলাইন না হলেও হাইব্রিড পদ্ধতি—অর্থাৎ কিছু ক্লাস অনলাইনে ও কিছু সরাসরি—চালু করা গেলে তা কার্যকর সমাধান হতে পারে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, জ্বালানি সংকট, যানজট ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বাস্তবতা বিবেচনায় হাইব্রিড পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব স্কুলে একযোগে নয়, যেসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা রয়েছে সেখানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব ইতিহাসে নানা সংকট নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও শিক্ষা ব্যবস্থাকে থামিয়ে না রেখে নতুন পদ্ধতিতে এগিয়ে নিতে হবে। ভবিষ্যতের শিক্ষা হবে প্রযুক্তিনির্ভর ও অনেকাংশে পেপারলেস।’

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে অনলাইনে মনোযোগী থাকে, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের কল্যাণে কাজ করছি।’

সরকার ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা নির্ধারণ, অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক পরিবহনের ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাইব্রিড ক্লাস চালুর পরিকল্পনা সরকারের

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, যানজট নিরসন এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। ইতিমধ্যে অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে।শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার কারণে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্লাসে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। যাতায়াতে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ ব্যক্তিগত ও জাতীয় পর্যায়ে চাপ তৈরি করছে।বুধবার (৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়’ বিষয়ক সেমিনারে এসব কথা বলেন শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানান, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস চালু হলে যানবাহনের চাপ কমবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং শিক্ষার্থীদের সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। তবে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন ও সব শিক্ষার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করেন তারা।অভিভাবকরা বলছেন, পুরোপুরি অনলাইন না হলেও হাইব্রিড পদ্ধতি—অর্থাৎ কিছু ক্লাস অনলাইনে ও কিছু সরাসরি—চালু করা গেলে তা কার্যকর সমাধান হতে পারে।অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, জ্বালানি সংকট, যানজট ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বাস্তবতা বিবেচনায় হাইব্রিড পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব স্কুলে একযোগে নয়, যেসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা রয়েছে সেখানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে উদ্যোগ নেওয়া হবে।মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব ইতিহাসে নানা সংকট নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও শিক্ষা ব্যবস্থাকে থামিয়ে না রেখে নতুন পদ্ধতিতে এগিয়ে নিতে হবে। ভবিষ্যতের শিক্ষা হবে প্রযুক্তিনির্ভর ও অনেকাংশে পেপারলেস।’তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে অনলাইনে মনোযোগী থাকে, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন।প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের কল্যাণে কাজ করছি।’সরকার ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা নির্ধারণ, অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক পরিবহনের ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা