ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
গণবার্তা

বিশেষ পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধি অপসারণ ও প্রশাসক নিয়োগের বিধান বহাল রেখে পাঁচ বিল পাস

বিশেষ পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধি অপসারণ ও প্রশাসক নিয়োগের বিধান বহাল রেখে পাঁচ বিল পাস

বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের বিধান বহাল রেখে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি সংশোধনী বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন সংশোধন বিল উত্থাপন, অবিলম্বে বিবেচনা এবং কণ্ঠভোটে পাস হয়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিলগুলো সংসদে তোলেন। জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ বিলের ক্ষেত্রে বিরোধী সদস্যরা আপত্তি তোলেন। ইউনিয়ন পরিষদ বিলটি তুলনামূলক কম বিতর্কে পাস হয়।

কেন এই সংশোধনী

পাঁচটি বিলেই প্রায় একই ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অনেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কর্মস্থলে অনুপস্থিত, পলাতক বা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সেই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছিল। এখন সেগুলো আইনে রূপ দেওয়া হচ্ছে।

সংসদে আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আইনগুলো পাস হওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে যাবে সরকার।’ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব আইনে ‘বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে’ জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ এবং প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখা হচ্ছে। তিনি জানান, সংশোধনীগুলো স্থায়ীভাবে প্রশাসক বসিয়ে রাখার জন্য নয়, বরং নির্বাচন পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো ধরে রাখার জন্য আনা হয়েছে।

একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বাদ দেওয়া হচ্ছে। এ অংশ নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি ছিল না।

বিরোধী দলের ওয়াকআউট

জেলা পরিষদ ও পৌরসভা বিল পাসের পর বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান সংসদ থেকে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘দুঃখ হলেও সত্য, বিরোধী দলের যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও যে কয়টি গণবিরোধী বিল আজকে পাস হয়েছে, আমরা তার দায় নিতে চাই না। এ জন্য আমরা এখন সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।’

পরে অধিবেশনে ফিরে এসে তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা যৌক্তিক মনে করব, সেটাতে আমরা একমত হব, সহযোগিতাও করব। যেটা আমাদের যুক্তিতে ধরবে না, এটার আমরা বিরোধিতা করব। এটা আমাদের দায়িত্ব এবং অধিকার।’

ডেপুটি স্পিকার জবাবে বলেন, ‘ওয়াকআউট করা ডেমোক্রেটিক রাইটস অ্যান্ড প্র্যাকটিস।’

সংশোধনী বিল পাসের ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে জরুরি প্রয়োজনে প্রশাসক নিয়োগের পথ উন্মুক্ত থাকলেও নির্বাচন কমিশন আগামী দিনে এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছে সরকার।

বিষয় : স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬


বিশেষ পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধি অপসারণ ও প্রশাসক নিয়োগের বিধান বহাল রেখে পাঁচ বিল পাস

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের বিধান বহাল রেখে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি সংশোধনী বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন সংশোধন বিল উত্থাপন, অবিলম্বে বিবেচনা এবং কণ্ঠভোটে পাস হয়।স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিলগুলো সংসদে তোলেন। জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ বিলের ক্ষেত্রে বিরোধী সদস্যরা আপত্তি তোলেন। ইউনিয়ন পরিষদ বিলটি তুলনামূলক কম বিতর্কে পাস হয়।কেন এই সংশোধনীপাঁচটি বিলেই প্রায় একই ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অনেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কর্মস্থলে অনুপস্থিত, পলাতক বা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সেই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছিল। এখন সেগুলো আইনে রূপ দেওয়া হচ্ছে।সংসদে আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আইনগুলো পাস হওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে যাবে সরকার।’ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব আইনে ‘বিশেষ পরিস্থিতি বা জনস্বার্থে’ জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ এবং প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখা হচ্ছে। তিনি জানান, সংশোধনীগুলো স্থায়ীভাবে প্রশাসক বসিয়ে রাখার জন্য নয়, বরং নির্বাচন পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী কাঠামো ধরে রাখার জন্য আনা হয়েছে।একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বাদ দেওয়া হচ্ছে। এ অংশ নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি ছিল না।বিরোধী দলের ওয়াকআউটজেলা পরিষদ ও পৌরসভা বিল পাসের পর বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান সংসদ থেকে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘দুঃখ হলেও সত্য, বিরোধী দলের যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও যে কয়টি গণবিরোধী বিল আজকে পাস হয়েছে, আমরা তার দায় নিতে চাই না। এ জন্য আমরা এখন সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।’পরে অধিবেশনে ফিরে এসে তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা যৌক্তিক মনে করব, সেটাতে আমরা একমত হব, সহযোগিতাও করব। যেটা আমাদের যুক্তিতে ধরবে না, এটার আমরা বিরোধিতা করব। এটা আমাদের দায়িত্ব এবং অধিকার।’ডেপুটি স্পিকার জবাবে বলেন, ‘ওয়াকআউট করা ডেমোক্রেটিক রাইটস অ্যান্ড প্র্যাকটিস।’সংশোধনী বিল পাসের ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে জরুরি প্রয়োজনে প্রশাসক নিয়োগের পথ উন্মুক্ত থাকলেও নির্বাচন কমিশন আগামী দিনে এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছে সরকার।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা