তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে লড়াই আরও তীব্র করতে জুনের প্রথম সপ্তাহে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক ডেকেছেন। রোববার (২৪ মে) সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন। মমতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিরোধী শক্তিগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বড়সড় আন্দোলন গড়ে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি অন্যান্য বিজেপি-বিরোধী দল ও শক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। মমতার মতে, বিজেপির আসল চেহারা জনগণের সামনে তুলে ধরতে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন খুবই জরুরি।
বাংলায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্থান-পতনের পর তৃণমূলের ভেতরে কিছুটা চাপ ও অস্বস্তি তৈরি হলেও মমতা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— এখন মূল লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে। দলের কঠিন সময়ে যারা সরে যেতে চাইছেন, তাদের নিয়ে তৃণমূল চিন্তিত নয়। বরং আদর্শে দৃঢ় ও নিবেদিত কর্মীদের নিয়েই নতুন করে লড়াই গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতিকে আবার চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন মমতা। বিজেপি-বিরোধী ভোট ভাগাভাগি রোধ করা এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করতেই ইন্ডিয়া জোটকে ফের সক্রিয় করতে চাইছেন তিনি।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিজেপি বলছে, বিরোধী জোটের ভেতরেই এখন গভীর মতভেদ রয়েছে, বিশেষ করে কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে তৃণমূলের নেতারা দাবি করছেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বার্থে বৃহত্তর ঐক্য এখন অত্যন্ত জরুরি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুনের এই বৈঠক শুধু একটা সাধারণ আলোচনা সভা নয়, আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতির দিকনির্দেশ অনেকটাই করে দিতে পারে। বিরোধী জোট কতটা সক্রিয়ভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে একসঙ্গে নামতে পারে, সেদিকেই এখন সবার নজর।
কঠিন সময়ের মধ্যেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটকে ফের সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই তীব্র করতে এবং বিরোধী ভোট ভাগাভাগি রোধ করতে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে কংগ্রেস-তৃণমূল সম্পর্কের টানাপোড়েন ও অন্যান্য জটিলতা কাটিয়ে ঐক্য কতটা বাস্তবায়ন করা যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনের রণকৌশল নির্ধারিত হবে।

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন